
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরান যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো স্পষ্ট বিজয়ী নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ব্যাপকভাবে। আবার তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক কূটনীতিকে নড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের শেষে প্রশ্ন উঠছে— কে লাভবান হলো, আর কে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিল?
বিশ্লেষকদের মতে, এ যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে ইরানের শাসকগোষ্ঠী, চীন ও ইউক্রেন। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে জ্বালানি বাজার এবং লেবানন। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।
যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অনেকের ধারণা ছিল, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেহরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় দেশটির সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি খাত ও অর্থনীতি বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে।
তবে ১০০ দিন পরও ইরানের সরকার বহাল তবিয়তে ক্ষমতায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তেহরান বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি দেশটি।
যুদ্ধের আরেকটি পরোক্ষ সুবিধাভোগী চীন। ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে বেইজিংয়ের প্রভাব আরও বেড়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কিছুটা দুর্বল দেখানোয় চীন নিজেকে বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈশ্বিক মঞ্চে ‘কিংমেকার’ হিসেবে নিজের অবস্থান জোরালো করতে পেরেছেন।
প্রথম নজরে সম্পর্কহীন মনে হলেও যুদ্ধটি ইউক্রেনের জন্যও কিছু সুযোগ তৈরি করেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানি প্রযুক্তির ড্রোন মোকাবিলার যে অভিজ্ঞতা কিয়েভ অর্জন করেছে, তা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
এর ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলেও নতুন অংশীদার খুঁজে পেয়েছে দেশটি।
যুদ্ধের সবচেয়ে দৃশ্যমান ক্ষতিগ্রস্তদের একটি হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা তেলের দামকে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক ওপরে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে না পড়লেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকির আশঙ্কা বেড়েছে। এমনকি যুদ্ধ শেষ হলেও এই অনিশ্চয়তা দ্রুত দূর হবে না।
এই যুদ্ধের মানবিক মূল্য সবচেয়ে বেশি দিতে হয়েছে লেবাননকে। মার্চে সংঘাত দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ার পর হাজারও মানুষ নিহত হয়েছেন, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের সরকার কার্যত সংঘাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও নতুন সংকটের মুখে পড়েছে।
যুদ্ধের ১০০ দিনে এসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত এটিই। ইসরাইল হিজবুল্লাহসহ ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পেরেছে। তবে ইরানের সরকার এখনো টিকে আছে এবং কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমাধানও আসেনি।
ফলে যুদ্ধের এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে স্পষ্ট বিজয়ী বা পরাজিত— কোনোটিই বলা যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত শান্তি আলোচনা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল।
নিউজউইক অবলম্বনে

ইরান যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো স্পষ্ট বিজয়ী নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ব্যাপকভাবে। আবার তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক কূটনীতিকে নড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের শেষে প্রশ্ন উঠছে— কে লাভবান হলো, আর কে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিল?
বিশ্লেষকদের মতে, এ যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছে ইরানের শাসকগোষ্ঠী, চীন ও ইউক্রেন। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে জ্বালানি বাজার এবং লেবানন। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।
যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অনেকের ধারণা ছিল, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেহরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় দেশটির সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি খাত ও অর্থনীতি বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে।
তবে ১০০ দিন পরও ইরানের সরকার বহাল তবিয়তে ক্ষমতায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তেহরান বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি দেশটি।
যুদ্ধের আরেকটি পরোক্ষ সুবিধাভোগী চীন। ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে বেইজিংয়ের প্রভাব আরও বেড়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কিছুটা দুর্বল দেখানোয় চীন নিজেকে বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈশ্বিক মঞ্চে ‘কিংমেকার’ হিসেবে নিজের অবস্থান জোরালো করতে পেরেছেন।
প্রথম নজরে সম্পর্কহীন মনে হলেও যুদ্ধটি ইউক্রেনের জন্যও কিছু সুযোগ তৈরি করেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানি প্রযুক্তির ড্রোন মোকাবিলার যে অভিজ্ঞতা কিয়েভ অর্জন করেছে, তা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
এর ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলেও নতুন অংশীদার খুঁজে পেয়েছে দেশটি।
যুদ্ধের সবচেয়ে দৃশ্যমান ক্ষতিগ্রস্তদের একটি হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা তেলের দামকে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক ওপরে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে না পড়লেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকির আশঙ্কা বেড়েছে। এমনকি যুদ্ধ শেষ হলেও এই অনিশ্চয়তা দ্রুত দূর হবে না।
এই যুদ্ধের মানবিক মূল্য সবচেয়ে বেশি দিতে হয়েছে লেবাননকে। মার্চে সংঘাত দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ার পর হাজারও মানুষ নিহত হয়েছেন, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের সরকার কার্যত সংঘাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও নতুন সংকটের মুখে পড়েছে।
যুদ্ধের ১০০ দিনে এসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত এটিই। ইসরাইল হিজবুল্লাহসহ ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পেরেছে। তবে ইরানের সরকার এখনো টিকে আছে এবং কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমাধানও আসেনি।
ফলে যুদ্ধের এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে স্পষ্ট বিজয়ী বা পরাজিত— কোনোটিই বলা যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত শান্তি আলোচনা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল।
নিউজউইক অবলম্বনে

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের পর এই পদত্যাগ ঘটলেও সংগঠনটি বলেছে, আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি।
১২ ঘণ্টা আগে
শনিবার (২৫ জুলাই) ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর পৌঁছাতেই দিল্লির যন্তর মন্তরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা।
১৩ ঘণ্টা আগে
বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দেশ জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
মোদি সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হলেও তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন। অবশেষে শনিবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে চলমান আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন।
১৪ ঘণ্টা আগে