বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০০: ২৭
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।

দীর্ঘ এক বছরের প্রক্রিয়া শেষে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং পররাষ্ট্র দপ্তর এই চূড়ান্ত প্রস্থানের ঘোষণা দেয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে অভিযোগ করা হয়েছে, ডব্লিউএইচও তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। এখন থেকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কোনো একক সংস্থার ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এইচএইচএসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মতে ডব্লিউএইচও তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছে। সংস্থাটি সংস্কার ও জবাবদিহিতার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে তারা।

কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচওর ভূমিকা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা রয়েছে। ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কোভিড-১৯-কে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা দিতে দেরি করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে ডব্লিউএইচও।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, চীনসহ অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওতে বেশি অনুদান দিয়ে আসছে। অথচ সংস্থাটির ইতিহাসে কখনো কোনো মার্কিন নাগরিক মহাপরিচালক হননি বলেও উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।

নিয়ম অনুযায়ী, ডব্লিউএইচও ছাড়তে হলে এক বছর আগে সংস্থাকে জানাতে হয়। সেই অনুযায়ী গত বছর নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউএইচওকে বিষয়টি জানায়।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত ১৩৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান এখনো বকেয়া রয়েছে। তবে এইচএইচএসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ডব্লিউএইচওর সংবিধান অনুযায়ী এই অর্থ পরিশোধে যুক্তরাষ্ট্র আইনগতভাবে বাধ্য নয় বলে মনে করে ট্রাম্প প্রশাসন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওর বাইরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে ভূমিকা রাখবে।

এইচএইচএসের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের ৬৩টি দেশে তাদের দুই হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন। শতাধিক দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। রোগ পর্যবেক্ষণ, রোগনির্ণয় এবং প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ডব্লিউএইচওর এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতে সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে আলোচনা হবে। পরিচালনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

নেতানিয়াহু চুক্তিটিকে প্রায় ভেস্তে দিয়েছিলেন: ট্রাম্প

নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) একজন জটিল মানুষ। সত্যি বলতে, এর (চুক্তি) জন্য আমাদের কাছে তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ, ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকত না।’

৪ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে স্বাগত বিশ্বনেতাদের, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা ৪ দেশের

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ নেতারা। তারা এই সমঝোতাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৪ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি চুক্তি, ট্রাম্প বললেন ‘এবার তেল সচল হোক!’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এতদ্বারা হরমুজ প্রণালি কোনো টোল বা শুল্ক ছাড়াই উন্মুক্ত করার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি।’ বিশ্ববাসীর উদ্দেশে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। এবার তেল স

৮ ঘণ্টা আগে

ইউরেনিয়াম মজুত পাতলা করতে সম্মত হয়েছে ইরান: রয়টার্স

ইরানি এক কর্মকর্তার বরাতে রোববার (১৪ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ফের চালু, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১ দিন আগে