
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও নতুন করে হামলা চালায়, তবে এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা আঞ্চলিক সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর আদেশ দেওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে জানানোর পর বুধবার তেহরানের পক্ষ থেকে এমন হুমকি দেওয়া হলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প কর্তৃক ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর ছয় সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতি চললেও, যুদ্ধ অবসানের আলোচনা বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
চলতি সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে তেহরানের প্রকাশ করা তথ্যানুযায়ী, এই প্রস্তাবে আগের সেই শর্তগুলোরই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে যা ট্রাম্প ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছেড়ে দেওয়া, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবরুদ্ধ করে রাখা সম্পদ মুক্তি এবং আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা।
গত সোম ও মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের ওপর নতুন করে বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু কূটনীতির স্বার্থে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'আজকে ওই সিদ্ধান্ত (হামলার) নেওয়ার থেকে আমি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলাম।'
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যেকোনো হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পালটা আঘাত হানার হুমকি ইরান আগেই দিয়ে আসছিল। তবে বুধবার দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এবার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও হামলা চালানো হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, 'ইরানের বিরুদ্ধে যদি আবারও আগ্রাসন চালানো হয়, তবে এবার প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ এই অঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে আরও দূরে বিস্তৃত হবে।'
হরমুজ প্রণালি পার হলো চীনা ট্যাঙ্কার
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান নিজের জাহাজ ছাড়া বাকি সব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে। এর জবাবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে পালটা অবরোধ আরোপ করা হয়।
তবে বুধবার প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে চীনের দুটি বিশাল ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এটিকে একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, ইরান তাদের বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর জন্য এই নৌ অবরোধ শিথিল করতে প্রস্তুত। গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের সময়ই ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে, চীনা জাহাজের যাতায়াতের নিয়ম শিথিল করতে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বুধবার জানিয়েছেন, ইরানের সহযোগিতায় তাদের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও প্রণালিটি পার হয়েছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'লয়েডস লিস্ট' জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অন্তত ৫৪টি জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে, যা তার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই রুট দিয়ে যাতায়াত করত, সেই তুলনায় এই সংখ্যাটি এখনো খুবই সামান্য।
ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ থামানোর চাপ
জালানি তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বেশ চাপে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। এপ্রিলের শেষভাগে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যগুলোতে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা গেছে; তিনি একই সাথে কখনো নতুন করে বোমা হামলার হুমকি দিচ্ছেন, আবার পরক্ষণেই শান্তি চুক্তি খুব সন্নিকটে বলে দাবি করছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধ 'খুব দ্রুত' শেষ হয়ে যাবে। গত মাসে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে হোয়াইট হাউজের এক ব্রিফিংয়ে বলেন, 'আমরা বেশ ভালো অবস্থানে আছি।'
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতিদিন ওঠানামা করছে, তবে মে মাসের শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহেই দাম কিছুটা করে বাড়ছে। বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারের নিচে নামলেও তা গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ উঁচুতে রয়েছে।
আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী জাপানি প্রতিষ্ঠান 'ফুজিটোমি সিকিউরিটিজে'র বিশ্লেষক তোশিতাকা তাজাওয়া বলেন, 'ওয়াশিংটনের অবস্থান প্রতিদিন বদলানোর কারণে বিনিয়োগকারীরা গভীর মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরান আসলেই কোনো সাধারণ সমঝোতা বা শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কি না।'
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ইরানে হাজারও মানুষের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ মিলিশিয়াদের দমনের নামে ইসরায়েলি আগ্রাসনেও হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাশাপাশি, ইসরায়েল ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পালটা হামলায় বেশ কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
বর্তমানে ইরান সীমান্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একটি নৌ মিশন (প্রজেক্ট ফ্রিডম) ঘোষণা করেন, তখন জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার ঘটনা হঠাৎ বেড়ে যায়। অবশ্য মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরই ট্রাম্প সেই মিশন বাতিল করতে বাধ্য হন। চলতি সপ্তাহেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই হামলা ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠী চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছিলেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং ইরানি জনগণের জন্য তাদের শাসকদের উৎখাত করার পথ সহজ করা।
তবে এই যুদ্ধ এখনও ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত কিংবা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করতে পারেনি। এমনকি বছরের শুরুতে অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভের মুখে পড়েও ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব দুই পরাশক্তির যৌথ আক্রমণ শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছে এবং দেশটিতে এখনও পর্যন্ত কোনো সংগঠিত বিরোধী দলের অস্তিত্বও দেখা যায়নি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও নতুন করে হামলা চালায়, তবে এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা আঞ্চলিক সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর আদেশ দেওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে জানানোর পর বুধবার তেহরানের পক্ষ থেকে এমন হুমকি দেওয়া হলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প কর্তৃক ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর ছয় সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতি চললেও, যুদ্ধ অবসানের আলোচনা বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
চলতি সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে তেহরানের প্রকাশ করা তথ্যানুযায়ী, এই প্রস্তাবে আগের সেই শর্তগুলোরই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে যা ট্রাম্প ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছেড়ে দেওয়া, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবরুদ্ধ করে রাখা সম্পদ মুক্তি এবং আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা।
গত সোম ও মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের ওপর নতুন করে বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু কূটনীতির স্বার্থে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'আজকে ওই সিদ্ধান্ত (হামলার) নেওয়ার থেকে আমি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলাম।'
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যেকোনো হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পালটা আঘাত হানার হুমকি ইরান আগেই দিয়ে আসছিল। তবে বুধবার দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এবার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও হামলা চালানো হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, 'ইরানের বিরুদ্ধে যদি আবারও আগ্রাসন চালানো হয়, তবে এবার প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ এই অঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে আরও দূরে বিস্তৃত হবে।'
হরমুজ প্রণালি পার হলো চীনা ট্যাঙ্কার
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান নিজের জাহাজ ছাড়া বাকি সব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে। এর জবাবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে পালটা অবরোধ আরোপ করা হয়।
তবে বুধবার প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে চীনের দুটি বিশাল ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এটিকে একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, ইরান তাদের বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর জন্য এই নৌ অবরোধ শিথিল করতে প্রস্তুত। গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের সময়ই ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে, চীনা জাহাজের যাতায়াতের নিয়ম শিথিল করতে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বুধবার জানিয়েছেন, ইরানের সহযোগিতায় তাদের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও প্রণালিটি পার হয়েছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'লয়েডস লিস্ট' জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অন্তত ৫৪টি জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে, যা তার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই রুট দিয়ে যাতায়াত করত, সেই তুলনায় এই সংখ্যাটি এখনো খুবই সামান্য।
ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ থামানোর চাপ
জালানি তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বেশ চাপে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। এপ্রিলের শেষভাগে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যগুলোতে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা গেছে; তিনি একই সাথে কখনো নতুন করে বোমা হামলার হুমকি দিচ্ছেন, আবার পরক্ষণেই শান্তি চুক্তি খুব সন্নিকটে বলে দাবি করছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধ 'খুব দ্রুত' শেষ হয়ে যাবে। গত মাসে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে হোয়াইট হাউজের এক ব্রিফিংয়ে বলেন, 'আমরা বেশ ভালো অবস্থানে আছি।'
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতিদিন ওঠানামা করছে, তবে মে মাসের শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহেই দাম কিছুটা করে বাড়ছে। বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারের নিচে নামলেও তা গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ উঁচুতে রয়েছে।
আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী জাপানি প্রতিষ্ঠান 'ফুজিটোমি সিকিউরিটিজে'র বিশ্লেষক তোশিতাকা তাজাওয়া বলেন, 'ওয়াশিংটনের অবস্থান প্রতিদিন বদলানোর কারণে বিনিয়োগকারীরা গভীর মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরান আসলেই কোনো সাধারণ সমঝোতা বা শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কি না।'
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ইরানে হাজারও মানুষের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ মিলিশিয়াদের দমনের নামে ইসরায়েলি আগ্রাসনেও হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাশাপাশি, ইসরায়েল ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পালটা হামলায় বেশ কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
বর্তমানে ইরান সীমান্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একটি নৌ মিশন (প্রজেক্ট ফ্রিডম) ঘোষণা করেন, তখন জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার ঘটনা হঠাৎ বেড়ে যায়। অবশ্য মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরই ট্রাম্প সেই মিশন বাতিল করতে বাধ্য হন। চলতি সপ্তাহেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই হামলা ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠী চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছিলেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং ইরানি জনগণের জন্য তাদের শাসকদের উৎখাত করার পথ সহজ করা।
তবে এই যুদ্ধ এখনও ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত কিংবা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করতে পারেনি। এমনকি বছরের শুরুতে অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভের মুখে পড়েও ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব দুই পরাশক্তির যৌথ আক্রমণ শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছে এবং দেশটিতে এখনও পর্যন্ত কোনো সংগঠিত বিরোধী দলের অস্তিত্বও দেখা যায়নি।

মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চে ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস এবং আরমান্দো আলেহান্দ্রে জুনিয়র, কার্লোস আলবার্তো কস্তা, মারিও মানুয়েল দে লা পেনিয়া ও পাবলো মোরালেসের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক চারটি হত্যার অভিযোগও আ
৮ ঘণ্টা আগে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত একটি বাস্তবসম্মত সমঝোতায় আসতে রাজি হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ সময়, শক্তি এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে। এই চুক্তিটি অত্যন্ত দ্রুত, এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেও সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
১০ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে নৌ রুটে পরিবাহিত হতো, সেই হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় সংকটে ফেলেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান কীভাবে এই কৌশলগত চোকপয়েন্টের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে, তা উন্মোচন করতে রয়টার্স ২০ জন সংশ্
১১ ঘণ্টা আগে
এরপরই অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ খোলেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, বিএসএফের সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে আমরা রাজ্য ও দেশকে সুরক্ষিত করব। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৪ মে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। আমাদের আগের সরকার একদিকে শরণার্থীদের সি
২১ ঘণ্টা আগে