
বিবিসি বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এখন দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক ঘিরে এখন পর্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহ বজায় রয়েছে। দুপক্ষ থেকেই এসেছে ইতিবাচক বার্তা। তবে দুজনের প্রথম দিনের দীর্ঘ বৈঠকের পরও অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় কিছু সামনে আসেনি।
জিনপিং-ট্রাম্প বৈঠকের প্রথম দিনে শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতাদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ভাষণসহ ছিল জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা। তারপরও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাপক বাণিজ্যিক অগ্রগতি বা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক চুক্তির ঘোষণা আসেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। হোয়াইট হাউজও বৈঠকটিকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছে। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি সম্ভবত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শীর্ষ বৈঠক।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় ‘অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শি জিনপিং। তবে একই সঙ্গে তিনি তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘এটি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি সরাসরি দ্বন্দ্বেও যেতে পারে।’
এ সফরে বাস্তব ফলাফলের মতোই প্রতীকী বার্তাও গুরুত্ব পেয়েছে। যেমন, সবচেয়ে বেশি আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি ছিল বেইজিংয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানের অবতরণ।
প্রেসিডেন্টের বিমান থেকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য পিট হেগসেথ, মার্কো রুবিও ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির আগে ইলন মাস্কের নেমে আসায় সফরটি শুরু থেকেই বাণিজ্যকেন্দ্রিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
স্বাগত অনুষ্ঠানের সময়ও ট্রাম্পের কাছাকাছি ছিলেন মাস্ক এবং এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং। এ প্রতীকী বার্তা এড়িয়ে যাওয়া কঠিন ছিল। কারণ মাস্ক ও হুয়াং যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ, যেমন— বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর মাইক্রোচিপের মতো ক্ষেত্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেন।
দুজনেরই চীনের সঙ্গে গভীর ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে। টেসলা সাংহাই গিগাফ্যাক্টরি ও চীনা ভোক্তাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, অন্যদিকে এনভিডিয়ার চিপ বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিরও মূল লক্ষ্যও উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করা।

বিশেষ করে হুয়াংয়ের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ছিল, কারণ মূল প্রতিনিধিদলের তালিকায় তিনি ছিলেন না। এতে করে ধারণা করা হচ্ছিল, এআই ও চি0পে প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। পরে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘চীন ওইসব মানুষের সঙ্গে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি অর্টবার্গও ছিলেন। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীন ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের প্রথম চীনা ক্রয়।
তবে অনেক বিশ্লেষকের প্রত্যাশার তুলনায় এ সংখ্যা কম। মন্তব্যটি প্রচারের পর বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম চার শতাংশেরও বেশি পড়ে যায়।
সব আয়োজন ও কূটনৈতিক প্রদর্শনের পরও বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা কাঠামোগত সমঝোতা হয়নি। এর পরিবর্তে উভয় পক্ষ অক্টোবরের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতার কথাই তুলে ধরেছে। ওই সমঝোতার আওতায় ওয়াশিংটন চীনা পণ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্ক বৃদ্ধি স্থগিত করে, আর বেইজিং বিরল খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ থেকে সরে আসে।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, দুই নেতা একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনে সম্মত হয়েছেন, যার মাধ্যমে নতুন করে শুল্ক আলোচনা শুরু না করেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক পরিচালনা করা হবে।
ওয়াশিংটনের পক্ষে বাণিজ্য আলোচনা নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ব্যবসায়িক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া পূর্বধারণকৃত এক সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সহায়তার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো গঠনে অগ্রগতির বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
হোয়াইট হাউজের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য চীনা বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পখাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বেইজিং ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ও জ্বালানি পণ্যের আমদানি বাড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সয়াবিন, গরুর মাংস ও পোলট্রি পণ্যের জন্য চীনা বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
কৃষিপণ্য নিয়ে বড় ধরনের নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনাকে কিছুটা কম দেখছেন বেসেন্ট। সয়াবিন সংক্রান্ত কিছু প্রতিশ্রুতি আগের চুক্তিগুলোর আওতায় এরই মধ্যে সমাধান করার ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে এ-ও বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ (এলএনজি) যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য কেনার পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে চীনের।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির বলেছেন, চলতি বছরের মধ্যেই একটি কৃষি চুক্তি হওয়ার আশা করছেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক নেতাদের বলেছেন, চীনের ‘দরজা আরও উন্মুক্ত হবে’ এবং চীনা বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ‘আরও বিস্তৃত সম্ভাবনা’ তৈরি হবে। তিনি বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও আইন প্রয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘পারস্পরিকভাবে লাভজনক’ এবং ‘উভয় পক্ষের জন্যই সুফল বয়ে আনে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য চীন এখনো একদিকে যেমন একটি বড় বাজার, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণনীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এটি একটি কঠিন ব্যবসায়িক পরিবেশ হিসেবেও রয়ে গেছে।

এই শীর্ষ বৈঠক থেকে উঠে আসা সবচেয়ে স্পষ্ট পরিবর্তনগুলোর একটি হলো— বেইজিং এখন তাইওয়ান ইস্যুকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করছে।
গত এক বছরের বাণিজ্য আলোচনায় তাইওয়ানকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ বিষয়ের একটি হিসেবে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র-তাইওয়ান বাণিজ্য সম্পর্ক এবং তাইপের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়গুলো নিয়ে উত্তেজনা ছিল। তবে বৈঠক ঘিরে চীনের বার্তায় ইঙ্গিত মিলেছে, তাইওয়ানকে এখন ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের একটি শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বেইজিংয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, শি জিনপিং বলেছেন, উভয় পক্ষ ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’র ভিত্তিতে সম্পর্কের জন্য একটি ‘নতুন অবস্থানে’ সম্মত হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান এখনো সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে জিনপিং বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি সরাসরি দ্বন্দ্বেও পৌঁছাতে পারে।
প্রযুক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভাজনের ক্ষেত্র। উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ তৈরির সরঞ্জাম রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণনীতি এখনো বহাল রয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সক্ষমতায় চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করা।
অন্যদিকে বেইজিং উন্নত প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চেয়ে যাচ্ছে এবং তাদের শিল্পোন্নয়ন সীমিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে এসব মার্কিন নীতির সমালোচনা করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এই বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে শীর্ষ বৈঠকের প্রথম দিনের প্রকাশিত বিবরণে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, শীর্ষ বৈঠকে প্রতিনিধি দলগুলো এআই নিরাপত্তা কাঠামো বা ‘গার্ডরেইল’ নিয়ে আলোচনা করছে। তিনি আরও বলেন, এআই খাতে চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেসেন্ট বলেন, আমরা উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাই না। তাই আমাদের দায়িত্ব এমন সর্বোচ্চ কার্যকর নীতি নির্ধারণ করা, যেন সর্বাধিক উদ্ভাবন এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

এদিকে আলোচনায় অংশ নেয়ার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশা ছিল ইরান সংঘাত ও তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চীনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে। তেলের দামের অস্থিরতা ও সরবরাহপথে বারবার বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় চীনের আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরানকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে চীন তার প্রভাব ব্যবহার করতে পারে।
চীনের প্রকাশিত বিবরণে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এ নিয়েও বিস্তারিত তথ্য ছিল না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শি জিনপিংকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানান। ওই বৈঠকের আগে দুপক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি এমন একটি বড় বাণিজ্যিক অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে যা এবার অধরাই থেকে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এখন দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক ঘিরে এখন পর্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহ বজায় রয়েছে। দুপক্ষ থেকেই এসেছে ইতিবাচক বার্তা। তবে দুজনের প্রথম দিনের দীর্ঘ বৈঠকের পরও অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় কিছু সামনে আসেনি।
জিনপিং-ট্রাম্প বৈঠকের প্রথম দিনে শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতাদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ভাষণসহ ছিল জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা। তারপরও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাপক বাণিজ্যিক অগ্রগতি বা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক চুক্তির ঘোষণা আসেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। হোয়াইট হাউজও বৈঠকটিকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছে। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি সম্ভবত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শীর্ষ বৈঠক।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় ‘অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শি জিনপিং। তবে একই সঙ্গে তিনি তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘এটি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি সরাসরি দ্বন্দ্বেও যেতে পারে।’
এ সফরে বাস্তব ফলাফলের মতোই প্রতীকী বার্তাও গুরুত্ব পেয়েছে। যেমন, সবচেয়ে বেশি আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি ছিল বেইজিংয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানের অবতরণ।
প্রেসিডেন্টের বিমান থেকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য পিট হেগসেথ, মার্কো রুবিও ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির আগে ইলন মাস্কের নেমে আসায় সফরটি শুরু থেকেই বাণিজ্যকেন্দ্রিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
স্বাগত অনুষ্ঠানের সময়ও ট্রাম্পের কাছাকাছি ছিলেন মাস্ক এবং এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং। এ প্রতীকী বার্তা এড়িয়ে যাওয়া কঠিন ছিল। কারণ মাস্ক ও হুয়াং যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ, যেমন— বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর মাইক্রোচিপের মতো ক্ষেত্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেন।
দুজনেরই চীনের সঙ্গে গভীর ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে। টেসলা সাংহাই গিগাফ্যাক্টরি ও চীনা ভোক্তাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, অন্যদিকে এনভিডিয়ার চিপ বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিরও মূল লক্ষ্যও উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করা।

বিশেষ করে হুয়াংয়ের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ছিল, কারণ মূল প্রতিনিধিদলের তালিকায় তিনি ছিলেন না। এতে করে ধারণা করা হচ্ছিল, এআই ও চি0পে প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। পরে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘চীন ওইসব মানুষের সঙ্গে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি অর্টবার্গও ছিলেন। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীন ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের প্রথম চীনা ক্রয়।
তবে অনেক বিশ্লেষকের প্রত্যাশার তুলনায় এ সংখ্যা কম। মন্তব্যটি প্রচারের পর বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম চার শতাংশেরও বেশি পড়ে যায়।
সব আয়োজন ও কূটনৈতিক প্রদর্শনের পরও বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা কাঠামোগত সমঝোতা হয়নি। এর পরিবর্তে উভয় পক্ষ অক্টোবরের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতার কথাই তুলে ধরেছে। ওই সমঝোতার আওতায় ওয়াশিংটন চীনা পণ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্ক বৃদ্ধি স্থগিত করে, আর বেইজিং বিরল খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ থেকে সরে আসে।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, দুই নেতা একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনে সম্মত হয়েছেন, যার মাধ্যমে নতুন করে শুল্ক আলোচনা শুরু না করেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক পরিচালনা করা হবে।
ওয়াশিংটনের পক্ষে বাণিজ্য আলোচনা নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ব্যবসায়িক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া পূর্বধারণকৃত এক সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সহায়তার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো গঠনে অগ্রগতির বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
হোয়াইট হাউজের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য চীনা বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পখাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বেইজিং ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ও জ্বালানি পণ্যের আমদানি বাড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সয়াবিন, গরুর মাংস ও পোলট্রি পণ্যের জন্য চীনা বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
কৃষিপণ্য নিয়ে বড় ধরনের নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনাকে কিছুটা কম দেখছেন বেসেন্ট। সয়াবিন সংক্রান্ত কিছু প্রতিশ্রুতি আগের চুক্তিগুলোর আওতায় এরই মধ্যে সমাধান করার ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে এ-ও বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ (এলএনজি) যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য কেনার পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে চীনের।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির বলেছেন, চলতি বছরের মধ্যেই একটি কৃষি চুক্তি হওয়ার আশা করছেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক নেতাদের বলেছেন, চীনের ‘দরজা আরও উন্মুক্ত হবে’ এবং চীনা বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ‘আরও বিস্তৃত সম্ভাবনা’ তৈরি হবে। তিনি বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও আইন প্রয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘পারস্পরিকভাবে লাভজনক’ এবং ‘উভয় পক্ষের জন্যই সুফল বয়ে আনে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য চীন এখনো একদিকে যেমন একটি বড় বাজার, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণনীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এটি একটি কঠিন ব্যবসায়িক পরিবেশ হিসেবেও রয়ে গেছে।

এই শীর্ষ বৈঠক থেকে উঠে আসা সবচেয়ে স্পষ্ট পরিবর্তনগুলোর একটি হলো— বেইজিং এখন তাইওয়ান ইস্যুকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করছে।
গত এক বছরের বাণিজ্য আলোচনায় তাইওয়ানকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ বিষয়ের একটি হিসেবে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র-তাইওয়ান বাণিজ্য সম্পর্ক এবং তাইপের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়গুলো নিয়ে উত্তেজনা ছিল। তবে বৈঠক ঘিরে চীনের বার্তায় ইঙ্গিত মিলেছে, তাইওয়ানকে এখন ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের একটি শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বেইজিংয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, শি জিনপিং বলেছেন, উভয় পক্ষ ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’র ভিত্তিতে সম্পর্কের জন্য একটি ‘নতুন অবস্থানে’ সম্মত হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান এখনো সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে জিনপিং বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি সরাসরি দ্বন্দ্বেও পৌঁছাতে পারে।
প্রযুক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভাজনের ক্ষেত্র। উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ তৈরির সরঞ্জাম রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণনীতি এখনো বহাল রয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সক্ষমতায় চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করা।
অন্যদিকে বেইজিং উন্নত প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চেয়ে যাচ্ছে এবং তাদের শিল্পোন্নয়ন সীমিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে এসব মার্কিন নীতির সমালোচনা করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এই বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে শীর্ষ বৈঠকের প্রথম দিনের প্রকাশিত বিবরণে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, শীর্ষ বৈঠকে প্রতিনিধি দলগুলো এআই নিরাপত্তা কাঠামো বা ‘গার্ডরেইল’ নিয়ে আলোচনা করছে। তিনি আরও বলেন, এআই খাতে চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেসেন্ট বলেন, আমরা উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাই না। তাই আমাদের দায়িত্ব এমন সর্বোচ্চ কার্যকর নীতি নির্ধারণ করা, যেন সর্বাধিক উদ্ভাবন এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

এদিকে আলোচনায় অংশ নেয়ার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশা ছিল ইরান সংঘাত ও তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চীনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে। তেলের দামের অস্থিরতা ও সরবরাহপথে বারবার বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় চীনের আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরানকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে চীন তার প্রভাব ব্যবহার করতে পারে।
চীনের প্রকাশিত বিবরণে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এ নিয়েও বিস্তারিত তথ্য ছিল না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শি জিনপিংকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানান। ওই বৈঠকের আগে দুপক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি এমন একটি বড় বাণিজ্যিক অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে যা এবার অধরাই থেকে গেছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান কীভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে সাজ্জাদ হায়দার বলেন, ‘এ মুহূর্তে এমন কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। সময় এলে আমরা চুক্তির আওতায় পদক্ষেপ নেব।’
১৬ ঘণ্টা আগে
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইয়েমেন সরকারের চারটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, মোখা দখলের মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর হুতিদের প্রভাব আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালির কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হুতিরা হামলা চালাচ্ছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে যখন পণ্যের দাম বাড়ছে, যার পেছনে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে শুরু করা যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। ইরান এর পালটা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা
১৮ ঘণ্টা আগে
ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নৌযানকে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনায় আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
১ দিন আগে