আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ভারতের, আকাশে আলোকরশ্মিতে কৌতূহল বাংলাদেশে

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। ফাইল ছবি
আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। ফাইল ছবি

প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। দেশটি প্রথমবারের মতো পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল মহড়া চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওডিশা উপকূল থেকে এ পরীক্ষা চালানো হয়।

যদিও ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পরীক্ষাটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আইসিবিএম শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্রের ছিল।

এদিকে একই সন্ধ্যায় বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আকাশে রহস্যময় আলোকরশ্মি দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে আকাশে উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়। অনেকেই ধারণা করছেন, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রভাবেই এ দৃশ্য দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

বিশ্বে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার হাতে পূর্ণাঙ্গ আইসিবিএম প্রযুক্তি রয়েছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের কাছে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) থাকলেও দীর্ঘপাল্লার আইসিবিএম সক্ষমতায় তারা ভারতের নতুন লক্ষ্যমাত্রার সমতুল্য নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত যদি এ প্রযুক্তিতে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলে আঘাত হানার সামরিক সক্ষমতা অর্জন করবে দেশটি। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত রকেট প্রপালশন, গাইডেন্স সিস্টেম এবং রি-এন্ট্রি প্রযুক্তিতে নিজেদের অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে।

এর আগে গত বুধবার ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ‘অগ্নি-৬’ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে দাবি করা হয়, ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার এবং এমআইআরভি প্রযুক্তিসম্পন্ন অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে তৈরি। এমআইআরভি প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক পরমাণু ওয়ারহেড পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা সম্ভব।

ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাতও সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং সরকারের অনুমোদন পেলেই বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত তারা। তবে শুক্রবারের পরীক্ষাটি অগ্নি-৬ ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে আইসিবিএম পরীক্ষার পাশাপাশি ভারত আরও একটি প্রতিরক্ষা সাফল্যের দাবি করেছে। ডিআরডিও এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী যৌথভাবে একটি গ্লাইড উইপন সিস্টেমের পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ ও অনিয়ন্ত্রিত বোমাকে অত্যন্ত নিখুঁত স্মার্ট অস্ত্রে রূপান্তর করা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু সক্ষম আইসিবিএম শুধু আক্রমণাত্মক অস্ত্র নয়, বরং এটি কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন সক্ষমতা থাকলে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র হামলার আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হয়।

বর্তমানে রাশিয়ার আরএস-২৮ সারমাত এবং চীনের ডিএফ-৪১ বিশ্বের দীর্ঘতম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। উত্তর কোরিয়ার কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লাও প্রায় একই পর্যায়ের।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement