
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

উপসাগরীয় জলসীমার নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে টানাপড়েনের মধ্যে গতকাল সোমবার নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পালটাপালটি সামুদ্রিক অবরোধের কারণে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও নড়বড়ে হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটকে পড়া তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য জাহাজকে প্রণালি পারাপারের নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্য পথ প্রায় অচল হয়ে আছে। এ যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সোমবার (৪ মে) দিন শেষে উপসাগরে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট সামরিক নৌকা ধ্বংস করেছে। অপরদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেলবন্দরে— যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে— ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিলেও বিস্তারিত জানাননি। মার্কিন আইনে যুদ্ধ চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদনের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর এই ঘোষণা আসে। ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ ‘সমাপ্ত’ হওয়ায় ওই সময়সীমা আর প্রযোজ্য নয়— যা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের চেষ্টা দেখা গেল। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া এই পথ চালু করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের বিমা খরচও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য অবরোধ করে রেখেছে, যা ইরান যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য বলে দাবি করছে।
তবে ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ উলটো ফলাফল দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়েনি, বরং ইরান আরও শক্ত প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার সতর্কবার্তাও দিয়েছে তেহরান। বড় শিপিং কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা ঝুঁকি নেবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সোমবারের ঘটনা প্রমাণ করে এই সংকটের সামরিক সমাধান নেই। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘অপশক্তির ফাঁদে পা না দেওয়ার’ সতর্কবার্তা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।’
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের সহায়তায় দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে। শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, ‘অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স’ নামের একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় প্রণালি অতিক্রম করেছে।
মার্কিন বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, তাদের নৌবহর ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে— যদিও ইরান তা অস্বীকার করেছে। তিনি ইরানি বাহিনীকে মার্কিন অভিযানের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইরান কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সমুদ্রসীমা সম্প্রসারণের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের বড় অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে দাবি করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের ‘এইচএমএম নামু’ নামের একটি জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগে, যদিও কেউ হতাহত হয়নি। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, আমিরাত উপকূলে দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। আমিরাতের তেল কোম্পানি অ্যাডনক জানিয়েছে, তাদের একটি খালি তেল ট্যাংকার ইরানি ড্রোনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
আমিরাতের তেলবন্দরে আগুন
দিনভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর ফুজাইরাহতে পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় আগুন লাগে। ফুজাইরাহ হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় এটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির বিকল্প পথগুলোর একটি।

এ অবস্থায় নিরাপত্তার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস চালুর ঘোষণা দিয়েছে আমিরাত সরকার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ‘মার্কিন সামরিক অভিযানের জবাবে’ তারা আমিরাতে হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইরান দাবি করেছিল, হরমুজের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে, যা জাহাজটিকে ফিরে যেতে বাধ্য করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি অস্বীকার করেছে।
রয়টার্স বলছে, সোমবারের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, কারণ উভয় পক্ষই পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছে।
এদিকে পালটাপালটি হামলা এবং ইরানি হামলা জোরদারের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ইরান তাদের সমন্বিত সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারগুলোকে জানিয়েছে, চলাচলের আগে তাদের বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী— বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী হরমুজে প্রবেশের চেষ্টা করলে হামলার মুখে পড়বে।’
চার সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা স্থগিত করে এবং উভয় পক্ষ পাকিস্তান এক দফা সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসে। তবে ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে সেই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে কোনো সমাধান আসেনি। পরে দ্বিতীয় দফার আলোচনাও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠিয়েছে, যা এখন পর্যালোচনা করছে তেহরান। এই প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ ও নৌপথ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি প্রস্তাবটি বিবেচনা করছেন, তবে সম্ভবত তা প্রত্যাখ্যান করবেন।
সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ‘সীমিত ক্ষতি’ হয়েছে। যদিও ইরান দাবি করে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। ট্রাম্প চান, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নিতে, যাতে তা অস্ত্র তৈরির পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারে।
রাজনীতি/আইআর

উপসাগরীয় জলসীমার নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে টানাপড়েনের মধ্যে গতকাল সোমবার নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পালটাপালটি সামুদ্রিক অবরোধের কারণে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও নড়বড়ে হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটকে পড়া তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য জাহাজকে প্রণালি পারাপারের নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্য পথ প্রায় অচল হয়ে আছে। এ যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সোমবার (৪ মে) দিন শেষে উপসাগরে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট সামরিক নৌকা ধ্বংস করেছে। অপরদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেলবন্দরে— যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে— ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিলেও বিস্তারিত জানাননি। মার্কিন আইনে যুদ্ধ চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদনের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর এই ঘোষণা আসে। ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ ‘সমাপ্ত’ হওয়ায় ওই সময়সীমা আর প্রযোজ্য নয়— যা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের চেষ্টা দেখা গেল। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া এই পথ চালু করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের বিমা খরচও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য অবরোধ করে রেখেছে, যা ইরান যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য বলে দাবি করছে।
তবে ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ উলটো ফলাফল দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়েনি, বরং ইরান আরও শক্ত প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার সতর্কবার্তাও দিয়েছে তেহরান। বড় শিপিং কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা ঝুঁকি নেবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সোমবারের ঘটনা প্রমাণ করে এই সংকটের সামরিক সমাধান নেই। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘অপশক্তির ফাঁদে পা না দেওয়ার’ সতর্কবার্তা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।’
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের সহায়তায় দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে। শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, ‘অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স’ নামের একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় প্রণালি অতিক্রম করেছে।
মার্কিন বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, তাদের নৌবহর ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে— যদিও ইরান তা অস্বীকার করেছে। তিনি ইরানি বাহিনীকে মার্কিন অভিযানের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইরান কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সমুদ্রসীমা সম্প্রসারণের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের বড় অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে দাবি করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের ‘এইচএমএম নামু’ নামের একটি জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগে, যদিও কেউ হতাহত হয়নি। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, আমিরাত উপকূলে দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। আমিরাতের তেল কোম্পানি অ্যাডনক জানিয়েছে, তাদের একটি খালি তেল ট্যাংকার ইরানি ড্রোনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
আমিরাতের তেলবন্দরে আগুন
দিনভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর ফুজাইরাহতে পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় আগুন লাগে। ফুজাইরাহ হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় এটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির বিকল্প পথগুলোর একটি।

এ অবস্থায় নিরাপত্তার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস চালুর ঘোষণা দিয়েছে আমিরাত সরকার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ‘মার্কিন সামরিক অভিযানের জবাবে’ তারা আমিরাতে হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইরান দাবি করেছিল, হরমুজের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে, যা জাহাজটিকে ফিরে যেতে বাধ্য করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি অস্বীকার করেছে।
রয়টার্স বলছে, সোমবারের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, কারণ উভয় পক্ষই পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছে।
এদিকে পালটাপালটি হামলা এবং ইরানি হামলা জোরদারের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ইরান তাদের সমন্বিত সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারগুলোকে জানিয়েছে, চলাচলের আগে তাদের বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী— বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী হরমুজে প্রবেশের চেষ্টা করলে হামলার মুখে পড়বে।’
চার সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা স্থগিত করে এবং উভয় পক্ষ পাকিস্তান এক দফা সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসে। তবে ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে সেই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে কোনো সমাধান আসেনি। পরে দ্বিতীয় দফার আলোচনাও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠিয়েছে, যা এখন পর্যালোচনা করছে তেহরান। এই প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ ও নৌপথ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি প্রস্তাবটি বিবেচনা করছেন, তবে সম্ভবত তা প্রত্যাখ্যান করবেন।
সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ‘সীমিত ক্ষতি’ হয়েছে। যদিও ইরান দাবি করে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। ট্রাম্প চান, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নিতে, যাতে তা অস্ত্র তৈরির পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারে।
রাজনীতি/আইআর

ওই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হামলার পাশাপাশি ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে অন্তত তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
জিসিএইচকিউ পরিচালক অ্যান কিস্ট-বাটলার তার প্রথম জনসমক্ষে দেওয়া বক্তৃতায় এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যের জন্য বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের রূপরেখা ব্যাখ্যা করেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন মহান আল্লাহর নির্দেশে তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন শয়তান তাকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করতে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিল। সেই সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) তিন স্থানে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন। হাজিদের এই আনুষ্ঠানিকতা সেই
১ দিন আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া সামনে এসেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। মার্কিন ওই খসড়া অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবার যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে তেহরান, যার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রত্যাহার করা হবে নৌ অবরোধ ও
১ দিন আগে