ট্রাম্পের ‘চাপিয়ে দেওয়া’ লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলে অস্বস্তি-ক্ষোভ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ ঘোষণায় লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ইসরায়েলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ইসরায়েলিরা বলছেন, তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতি ‘চাপিয়ে দিয়েছেন’। এতে সেখানে অস্বস্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগেই বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ায় সরকার ও জনগণের একাংশে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য একটি কূটনৈতিক বিব্রতকর অবস্থাও তৈরি করেছে। কারণ যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্তটি নিজেদের পক্ষ থেকে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে এসেছে। আরেক ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী হয়তো রাতেই যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত ছিল। তবে ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসায় অনেকের কাছেই তা অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েলি বাহিনী এখনো লেবাননের ভেতরে অভিযান চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি আসেনি।

ইসরায়েলের সাবেক কূটনীতিক শায়েল বেন এফ্রাইম এ ‘নীরবতা’ প্রসঙ্গে আলজাজিরাকে বলেন, প্রথমত, এই যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এটি অনেকটাই এক ধরনের নির্দেশ বলে মনে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, নেতানিয়াহু এখনো বুঝে উঠতে পারেননি, কীভাবে এটি ইসরায়েলি জনগণ বা নিজের মন্ত্রিসভার সামনে উপস্থাপন করবেন। কারণ তারা এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।

বেন এফ্রাইমের মতে, লেবাননে উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং লিতানি নদী পর্যন্ত একটি বাফার জোন তৈরি করার মতো প্রধান লক্ষ্যগুলো এ অভিযানে এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি ইসরায়েল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননের ভেতরে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, কারণ তারা তখনও সামরিকভাবে উন্মুক্ত অবস্থানে থাকবে।

এদিকে এ যুদ্ধবিরতি একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামরিক কৌশলের দুর্বলতাও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সত্যিই এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফল হয়ে থাকে, তাহলে এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও ইসরায়েলের কৌশলগত স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলবে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মার্কিন চাপে খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দেয়নি ১৩ দেশ, অন্যদেরও হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও কূটনৈতিক প্রচারণার মুখে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অন্তত ১৩টি দেশ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

১৮ ঘণ্টা আগে

আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা, তেহরানে শোকের জনসমুদ্র

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার শোকের জনসমুদ্রে পরিণত হয় তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জাতীয় সংগীত, ধর্মীয় শোকগাথা ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে তার সপ্তাহব্যাপী দাফন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

১৯ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা উদ্‌যাপন, ভাষণে কমিউনিজম নিয়ে ট্রাম্পের তোপ

কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন হুমকি আখ্যা দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশকে ইঙ্গিত করে তিনি তীব্র আক্রমণ শানান। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং এ ধরনের মতাদর্শের সমর্থকরাই ‘১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের শত্রু’।

২১ ঘণ্টা আগে

তেহরানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খামেনির মরদেহ, সপ্তাহব্যাপী দাফন অনুষ্ঠান শুরু

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রথমবারের মতো খামেনির কফিন জনসাধারণের সামনে আনা হয়। এ সময় হাজারো ইরানি কান্নায় ভেঙে পড়েন। শোকগীতি গাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা দুলতে থাকেন এবং মাথায় আঘাত করতে থাকেন। কফিনের ওপর ফুল ছুড়ে দেওয়া হলে সেগুলো পরে জনতার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

২১ ঘণ্টা আগে