কলম্বিয়ায় ২ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নিহত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
কলম্বিয়ায় সশস্ত্র সংগঠন ফার্কের দুই অংশের মধ্যে সংঘর্ষে ৫২ জন নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কোকেন উৎপাদন ও পাচারের কৌশলগত একটি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে হামলার তথ্য পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এক বিবৃতিতে সংঘর্ষে জড়িত ফার্কের একাংশ সংঘর্ষ ও প্রাণহানির তথ্য জানায়। পরে কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দেশটির সেনাবাহিনীও ওই এলাকায় সংঘর্ষের কথা স্বীকার করেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে সরকারিভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কলম্বিয়ায় আগামী রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল। এর মাধ্যমে বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর উত্তরসূরি নির্বাচন করা হবে। পেত্রো ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি আলোচনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। পরবর্তী প্রেসিডেন্টকেও একই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, সশস্ত্র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কয়েকজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

রয়টার্স বলছে, সংঘর্ষটি হয়েছে ফার্কের দুই অংশের মধ্যে। এর একাংশের নেতৃত্বে রয়েছেন ‘ইভান মোরদিস্কো’ নামে পরিচিত নেস্তর গ্রেগরিও ভেরা, আরেক অংশের নেতৃত্বে আছেন ‘কালারকা কর্দোবা’ নামে পরিচিত আলেক্সান্ডার দিয়াজ মেন্দোজা।

ফার্কের বিবদমান এই দুই অংশই ২০১৬ সালের শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই চুক্তির আওতায় ফার্কের প্রায় ১৩ হাজার সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছিল।

দিয়াজ মেন্দোজার নেতৃত্বাধীন অংশ বর্তমানে প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। তবে ইভান মোরদিস্কোর গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি স্থগিত করে সরকার।

খবরে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে কলম্বিয়ার গুয়াভিয়ারি বিভাগের ঘন জঙ্গলে, বাররাঙ্কো কলোরাডো গ্রামের কাছে। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারকারী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

গত সপ্তাহে ফার্কের সবচেয়ে বড় ভিন্নমতাবলম্বী অংশ ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’ ২০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয়। তবে তারা অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধের কথা বলেনি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে আরেক বিদ্রোহী সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি নির্বাচনের আগে পৃথক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা কলম্বিয়ার সশস্ত্র সংঘাত মূলত মাদক পাচার ও অবৈধ খনির অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত চার লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বড় সুবিধা পাবে আইআরজিসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।

৬ ঘণ্টা আগে

‘বিশ্বাসঘাতক’ ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষোভ, এককভাবে লড়াইয়ের পক্ষে ইসরায়েলিরা

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।

৬ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

৮ ঘণ্টা আগে

ইরান ইস্যুই গড়তে পারে জে ডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী এ ধরনের হাই-প্রোফাইল আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। কিন্তু ট্রাম্প দৃশ্যত রুবিওর পরিবর্তে ভ্যান্সকেই সামনে নিয়ে এসেছেন। ফলে প্রশাসনের ভেতরে রুবিওর প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৯ ঘণ্টা আগে