পাকিস্তানে পুলিশ চৌকিতে জঙ্গি হামলা, ১৪ কর্মকর্তা নিহত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নুতে গাড়িবোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ চৌকির ধ্বংসস্তূপে জড়ো হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নুতে গাড়িবোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ চৌকির ধ্বংসস্তূপে জড়ো হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ চৌকিতে বোমা হামলার পর ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলায় অন্তত ১৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (৯ মে) এ হামলার ঘটনা ঘটে। রোববার (১০ মে) পাকিস্তান পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন’ নামে একটি জঙ্গি জোট এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। পুলিশ সূত্র জানায়, এ হামলায় তারা ড্রোনও ব্যবহার করেছে।

হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পুলিশ চৌকিটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইট-পাথর, আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া যানবাহন।

পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান এক বিবৃতিতে জানান, ধসে পড়া চৌকি থেকে ১৪ জন কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও তিনজন পুলিশ সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে পুলিশ চৌকিতে আঘাত হানে। এরপর তারা ভেতরে প্রবেশ করে জীবিত থাকা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ চৌকির ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সময় সেখানে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: রয়টার্স
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ চৌকির ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সময় সেখানে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: রয়টার্স

ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুলিশকে সহায়তা করতে ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালায়, এতে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটে।’

উদ্ধারকারী সংস্থা ও বেসামরিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কর্মকর্তারা জানান, বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলা পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে আবারও সংঘাত উসকে দিতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালায়, যা ইসলামাবাদের দাবি অনুযায়ী জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছিল।

পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সীমান্ত জুড়ে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, কাবুল জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং তারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে তালেবান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement