মাশহাদে দাফন, ৩ শহরে আলি খামেনির জানাজায় কোটি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০১: ৫৪
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর ৪০তম দিনে রাজধানী তেহরানে শোক পালন করেন ইরানের নাগরিকরা। ছবি: ইরনা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে ইরান। তেহরান সিটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপপ্রধান মোহাম্মদ আমিন তাওয়াকোলিজাদেহ জানিয়েছেন, তার জানাজা ও দাফনের প্রক্রিয়া হিজরি বর্ষপঞ্জির জিলহজ মাসের শেষে ও মহররম মাসের শুরুর দিকে হতে পারে।

তাওয়াকোলিজাদেহ আরও জানান, রাজধানী তেহরানসহ কোম ও মাশহাদ শহরে জানাজার পর মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে আলি খামেনিকে। ইরানের অন্যতম ধর্মীয় তীর্থস্থান এই শহরেই শিয়া মতাবলম্বীদের অন্যতম ইমাম আলি ইবনে মুসা ওরফে ইমাম রেজা (আ.)-এর সমাধি অবস্থিত।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সিসহ (ইরনা) দেশটির গণমাধ্যমগুলোর খবর বলছে, মঙ্গলবার (২ জুন) ইরানের বিভিন্ন নগরের ৫২তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কমিশনের বৈঠকে আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানান তাওয়াকোলিজাদেহ।

তিনি বলেন, আলি খামেনির জানাজায় বিপুল জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ উপস্থিত হতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় জমায়েত হবে সম্ভবত মাশহাদ শহরে, যেখানে আলি খামেনিকে সমাহিত করা হবে। দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে জানাজা অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য অনুরোধ এসেছে। অনুষ্ঠানটি সম্ভবত জিলহজ মাসের শেষ ও মহররম মাসের শুরুর দিকে হবে। তেহরানের জানাজার কর্মসূচি অন্তত ২৪ ঘণ্টা চলবে।

পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ ও কাশ্মিরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তাওয়াকোলিজাদেহ। তিনি আরও বলেন, এটি শিয়া মুসলমানদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সমাবেশে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন মাজহাব ও দেশের মুসলমানরাও এতে অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তেহরানের রাজপথে আলি খামেনির জন্য শোক। ছবি: ইরনা
তেহরানের রাজপথে আলি খামেনির জন্য শোক। ছবি: ইরনা

তেহরান সিটির এই কর্মকর্তা বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা শুধু ইরানের জন্য নয়, বিশ্বের বহু মুসলমানের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান নেতা এবং ইসলামি বিপ্লবের পথপ্রদর্শক। এ কারণেই আলি খামেনির মৃত্যুর পর প্রথম ৪০ দিনে ইরাকে কোনো শিয়া বিয়ে নিবন্ধিত হয়নি। একই সময়ে ইরাকের বিভিন্ন শহরে প্রতীকী জানাজা ও শোক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরান, কোম ও মাশহাদে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর দরগায় দাফন করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র চালু হয় ইরানে। ওই বিপ্লবের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদ অলঙ্কৃত করেন। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার পদে আসীন হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, যিনি ছিলেন রুহুল্লাহ খোমেনির শিষ্য।

৩৭ বছরের শাসনামলে আলি খামেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি একাধারে ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ও ফরমান জারির ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। অর্থনীতি, পরিবেশ, পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় পরিকল্পনা প্রভৃতি খাতে সরকারি নীতিনির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভারও ছিল তার ওপর।

আলি খামেনির মৃত্যুর ৪০তম দিনে সেমনান শহরে শোকমিছিল। ছবি: ইরনা
আলি খামেনির মৃত্যুর ৪০তম দিনে সেমনান শহরে শোকমিছিল। ছবি: ইরনা

সরকারের নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি সামরিক বাহিনী ও গণমাধ্যমের ওপর তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ ছিল আলি খামেনির। ফোর্বস সাময়িকী ২০১২ সালে তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ২১ জন ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেয়। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরান দীর্ঘ শোক ঘোষণা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে তার জানাজা ও দাফনের প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। ওই সময় ৪০ দিন টানা যুদ্ধ চলার পর ৭ এপ্রিল শুরু হয়েছে যুদ্ধবিরতি। এখনো সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। ইরানও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এ যুদ্ধে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে প্রায় মাসখানেক ধরে। কিন্তু হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ থেকে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত সে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে প্রত্যেক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেবেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে যখন পণ্যের দাম বাড়ছে, যার পেছনে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে শুরু করা যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। ইরান এর পালটা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা

১২ ঘণ্টা আগে

যুদ্ধে টিকতে না পেরে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে মরিয়া ইরান: ট্রাম্প

ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নৌযানকে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনায় আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

১৬ ঘণ্টা আগে

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

আমেরিকান কর্মকর্তাদের মতে, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে সম্প্রতি পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত এক নাবিক নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। এর পরই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা জোরদার করে ইরান।

১৬ ঘণ্টা আগে

ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুন: নিহত ৫, নিখোঁজ অন্তত ৮৭ জন

কোস্টগার্ডের ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবিয়াব ফেরিতে থাকা মোট আরোহীর সংখ্যা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই উদ্ধার কাজ জোরদার করা হয়েছে। কোড়ন এলাকাটি স্বচ্ছ নীল পানি ও প্রবাল প্রাচীরের জন্য বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায়, নিখোঁজদের মধ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটক থাকতে পারেন বলে ধারণা ক

২০ ঘণ্টা আগে
Advertisement