মস্কোতে ‘ব্যর্থতা’র পর ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক ফ্লোরিডায়: হোয়াইট হাউজ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ (বাঁয়ে) ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার (ডানে)। ছবি: রয়টার্স

মস্কোতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক প্রায় ‘ব্যর্থ’ হওয়ার পর এবার ইউক্রেনের সঙ্গে ফ্লোরিডার মায়ামিতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠকে কিয়েভের পক্ষ থেকে যোগ দেবেন তাদের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ।

ইউক্রেনের সঙ্গে উইটকফ এ বৈঠক করবেন বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর)। মার্কিন এ বিশেষ প্রতিনিধি এর আগে মস্কোতে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন।

বুধবারই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক কয়েক দিনের মধ্যেই হবে। এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে পৃথিবী স্পষ্টভাবে অনুভব করছে, যুদ্ধ শেষ করার বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে। আলোচনায় অবশ্যই রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রেখে হতে হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে বুধবার মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে উইটকফের ওই বৈঠকের স্থায়িত্ব ছিল প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। বৈঠকে উইটকফের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক শেষে ক্রেমলিন জানিয়েছে, আলোচনায় ‘কোনো সমঝোতা হয়নি’।

ওই বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনাটি মোটামুটি ভালো ছিল। তবে পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ এ ধরনের বিষয়ে দুপক্ষের সমান আগ্রহ থাকা প্রয়োজন।’

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবহিয়া আবারও রাশিয়াকে ‘রক্তপাত বন্ধে’র আহ্বান জানিয়েছেন এবং পুতিনের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বের সময় নষ্ট করা’র অভিযোগ করেছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব ‘কমবেশি গ্রহণযোগ্য’। এসব প্রস্তাব নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। তবে কিছু প্রস্তাব নিয়ে পুতিন স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক আগে মস্কোর একটি ফোরামে পুতিন বলেন, তিনি ইউরোপের সঙ্গে সংঘাত চান না। তবে তিনি ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’।

মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে এখনো দুটি বড় মতপার্থক্য রয়েছে— রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি।

ইউক্রেন ও এর ইউরোপীয় অংশীদারদের অভিমত, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পর রাশিয়ার ভবিষ্যৎ আগ্রাসন ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু রাশিয়া এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্পও বহুবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিয়েভকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের ঘাটতি ও রেকর্ড ব্যয়, ট্রাম্প প্রশাসনে চতুর্মুখী চাপ

টানা গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিজস্ব কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে চাহিদামতো দ্রুত নতুন অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের মতো শিল্প-সক্ষমতাও এই মুহূর্তে মার্কিন ডিফেন্স সেক্টরের নেই। ফলে একদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি আর অন্যদিকে নতুন অস্ত্র সরবরাহের সীমাবদ্ধতা—স

১১ ঘণ্টা আগে

এবার হুতিদের দখলে লোহিত সাগরের আরও ২ দ্বীপ

লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরও দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ‘গ্রেটার হানিশ’ ও ‘লেসার হানিশ’ নামের এই দুটি দ্বীপ দখলের মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে নিজেদের অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করল ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি।

১ দিন আগে

ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বেরিয়ে আসব, যদি না আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুয়েলার মতো তেল নিজেদের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’ তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজস্ব পাচ্ছে, তা দিয়ে ‘অনেকবার যুদ্ধের খরচ’ মেটানো হয়ে গেছে।

১ দিন আগে

হরমুজ নিয়ে বৈঠক স্থগিত, তেল সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবে হুতিদের হামলা, সপ্তাহান্তে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উপসাগরে জাহাজে হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

১ দিন আগে
Advertisement