অর্থনৈতিক পথ বন্ধের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি সড়কে মোটরসাইকেল আরোহীরা চলাচল করছেন। পেছনে দেখা যাচ্ছে ইসলামি বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি এবং ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিকৃতি সংবলিত দেয়ালচিত্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানের নেতৃত্বকে উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করে দিতে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হুমকি দিলে তার প্রতিক্রিয়া হবে ‘ধ্বংসাত্মক’।

মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ ঘোষণা করেছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান চুক্তির সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন দেশটি ‘অভূতপূর্ব মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার’ মুখোমুখি হবে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো সহায়তা দিলে সেই দেশকেও ‘প্রচণ্ড অর্থনৈতিক ক্ষতির’ মুখে পড়তে হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নতুন করে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত আগামী সোমবার জানানো হবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকি ও নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতির মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, এসব হুমকির জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ব্যাপক ও চূড়ান্ত।

দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, আবদোল্লাহিকে বলেছেন, ‘স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে শত্রুর নতুন হুমকির জবাব দেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এ জবাব হবে কঠোর, শাস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক।’

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত বুঝতে পেরেছে যে সরাসরি সামরিক সংঘাতে ইরানকে পরাজিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক।

বাঘের গালিবাফ ইরাকের নাজাফে ইরাকি আধাসামরিক বাহিনীর কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহানদিসের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির সঙ্গে নিহত হন আল-মুহানদিস। ২১ আগস্ট ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
বাঘের গালিবাফ ইরাকের নাজাফে ইরাকি আধাসামরিক বাহিনীর কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহানদিসের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির সঙ্গে নিহত হন আল-মুহানদিস। ২১ আগস্ট ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

প্রতিবেশী দেশ ইরাকে বসে তিনি বলেন, ‘অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার জন্য আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে আমরা তা কাটিয়ে উঠতে পারি।’ এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও ‘মানসিক’ যুদ্ধের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ করেন।

তবে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানি ও ইরাকি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার সময় গালিবাফ ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপের বিষয়টিও স্বীকার করেন। বলেন, ‘আমাদের যতই সামরিক শক্তি থাকুক না কেন, মানুষ ক্ষুধার্ত থাকলে এবং আর্থিক লেনদেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় উৎপাদন না থাকলে আমরা টিকে থাকতে পারব না।’

কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

বৃহস্পতিবার নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর তেলের দাম বাড়লেও শুক্রবার তা কিছুটা কমেছে। তবে সপ্তাহের হিসাবে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট সিএনবিসিকে বলেন, ‘তেলের দাম কেন বেড়েছে, তা আমি নিশ্চিত নই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করি, তাহলে এর অর্থ সম্ভবত বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু হবে না।’ এখানে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ বোঝাতে ‘কাইনেটিক’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতটি উপসাগরীয় দেশগুলোকে জড়িয়ে ফেলেছে এবং বিশ্ব জুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ফেব্রুয়ারির আগে বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করত।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। আগের দিনের তুলনায় যা অর্ধেক। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এই পথে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত।

যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলেন, সেগুলো এখনো অর্জিত হয়নি। এর মধ্যে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমানো এবং ইরানিদের জন্য দেশটির ধর্মীয় শাসকদের উৎখাতের পরিস্থিতি তৈরি করা।

প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতের অবসানের পথে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এপ্রিলে ও জুনে দুবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে দুটিই দ্রুত ভেঙে যায়।

সিএনবিসিকে বেসেন্ট বলেন, সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা তিনি ‘বিস্তারিতভাবে জানাবেন’। বলেন, ‘আমরা এই শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাব। এখন আমাদের মিত্র এবং বিশ্বের বাকি দেশগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’

জুলাইয়ে ইরানের ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ এবং ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’কে তিনি ‘এক-দুই ঘুষির’ সঙ্গে তুলনা করেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে ইরান প্রায় ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। দেশটির জনগণ এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা, জ্বালানি সংকট এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন ইরানি নাগরিক বলেছেন, আরও অর্থনৈতিক শাস্তি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে পারে, ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে এবং নতুন করে বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। তবে জানুয়ারিতে বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর পর থেকে এমন কোনো পরিস্থিতির লক্ষণ দেখা যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া অর্থনৈতিক পদক্ষেপ এবং যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্পের মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেন।

আরাগচি লেখেন, ‘১৪ বছর আগে: ইতিহাসের সবচেয়ে পঙ্গু করে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা; ব্যর্থ। ৮ বছর আগে: সর্বোচ্চ চাপ; ব্যর্থ। ৫ মাস আগে: নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ; ব্যর্থ। আজ: ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান; এটিও ব্যর্থ হতে বাধ্য। আমরা এই সিনেমা আগেও দেখেছি। একই বুলশিট, শুধু হুমকিদাতারা ভিন্ন।’

নতুন মার্কিন অবরোধে চীনে তেলের প্রবাহ কমছে

যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য দেশের ভেতরেও ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। জ্বালানির উচ্চ দাম তার জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকান পার্টির হাতে থাকবে কি না, তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন, চীন উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তার অর্ধেক জ্বালানি পেয়ে থাকে। তাই দেশটির যুক্তরাষ্ট্রের ‘কর্মসূচির সঙ্গে যোগ দেওয়া’ যৌক্তিক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে জাহাজে করে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনে থাকে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের নতুন করে অর্থনৈতিক সংঘাতের ঝুঁকিও রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিরল মাটির খনিজ রপ্তানিতে চীন আগের কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার পর এই সংঘাত হলে পাল্টা পদক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে।

বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপের পর থেকেই চীনা ক্রেতাদের কাছে ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব কমে গেছে।

ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস বলেছে, ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে না।’ তারা কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জন্য। এসব দেশের কয়েকটির জ্বালানি স্থাপনা এবং পানীয় জলের জন্য নির্ভরশীল লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বার্লিনের জঙ্গলে অস্ত্রের গোপন ভাণ্ডার, রুশ গোয়েন্দা সংযোগের সন্দেহ

ডোব্রিন্ট জানান, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে— এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে’ তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি জার্মানির বর্তমান ‘উচ্চ ঝুঁকি’র নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে। এতে বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

১২ ঘণ্টা আগে

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষার পর তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেছেন।

২১ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্প কি ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর বাণিজ্য বন্ধ করতে পারবেন

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো সহায়তা দিলে সেই দেশকেও ‘প্রচণ্ড অর্থনৈতিক ক্ষতির’ মুখে পড়তে হবে।

১ দিন আগে

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত ১৩, আহত ৩৩

রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তার জোর আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, "ইউক্রেন যতদিন পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না পাবে, ততদিন রাশিয়া শান্তির বিষয়টি বিন্দুমাত্র গু

২ দিন আগে