যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১৪: ১৭
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) লিখিত কপি ইসরায়েলকে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এ নিয়ে ইসরাইলি মহলে তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেছেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকত, তবে ইসরাইলের অস্তিত্বই থাকত না, পৃথিবী থেকে মুছে যেত।’

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। এর আগে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সই হওয়া এই চুক্তির নথিপত্র ইসরাইলের সাথে শেয়ার করতে মার্কিন প্রশাসন অস্বীকৃতি জানালে তেল আবিব এটিকে একটি 'খারাপ চুক্তি' বলে আখ্যা দেয়, যা নিয়ে দুই মিত্র দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সই করা বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মূল কপি বা খসড়া দেখতে চেয়েছিল ইসরাইল, কিন্তু সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে করা এই চুক্তির নথিপত্র ইসরাইলের সঙ্গে শেয়ার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ইসরাইলি কর্মকর্তাদের এই চুক্তির বিষয়ে মৌখিকভাবে ব্রিফ করা হলেও এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো খসড়া দেয়া হয়নি। গত রোববার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সই হওয়া এই সমঝোতার মাধ্যমে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হয়েছে। তবে এর বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই কূটনীতির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, তিনি এই চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠাবেন এবং এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি সম্ভবত একটি সংবাদ সম্মেলন করে এটি শব্দে শব্দে পড়ে শোনাব, যাতে সংবাদমাধ্যম সঠিক তথ্যটি প্রকাশ করতে পারে।’ আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক সই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ইসরাইলকে চুক্তির পাঠ্য না দেয়ায় ওই অঞ্চলে এমন একটি ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, এই সমঝোতা মূলত ইরানের পক্ষেই গেছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়নি। ইসরাইলি সংবাদপত্র ইয়েদিওত আহরোনোত ইতিমধ্যে একে একটি ‘খারাপ চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কট্টরপন্থি ইসরাইলি রাজনীতিক ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই চুক্তি ইরানকে নিশ্চিতভাবে একটি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত করবে।’ তবে তিনি এও যোগ করেন যে, মার্কিনিদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে তার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের যেকোনো ধরনের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ট্রাম্প। জি-৭ সম্মেলনে কাতারের আমিরের পাশে বসে তিনি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকত, তবে ইসরাইলের অস্তিত্বই থাকত না। ইসরাইল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত।’

রাজনীতি/এসআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

৬ ঘণ্টা আগে

ইরান ইস্যুই গড়তে পারে জে ডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী এ ধরনের হাই-প্রোফাইল আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। কিন্তু ট্রাম্প দৃশ্যত রুবিওর পরিবর্তে ভ্যান্সকেই সামনে নিয়ে এসেছেন। ফলে প্রশাসনের ভেতরে রুবিওর প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৬ ঘণ্টা আগে

লেবাননে 'যুদ্ধবিরতিতে সম্মত' ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ, জানালেন মার্কিন কর্মকর্তা

লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তিটিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তরের সম্ভাবনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। এরপরই এই যুদ্ধবিরতির খবর এলো।

২০ ঘণ্টা আগে

হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ: ৪৮ ঘণ্টা আগে ইরানের অনুমতি বাধ্যতামূলক

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজ পরিচালনাকারীদের হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সরকারি ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনে জাহাজের সঠিক যোগাযোগ তথ্য, রুট ও সময়সূচি উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে প্রণালিতে প্রবেশ কিংবা বের

২১ ঘণ্টা আগে