
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা-পালটা হামলার ঘটনায় সে লক্ষ্য তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তিন সপ্তাহ আগে দুপক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হলেও তা এখন কার্যত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছেন যেখানে তার সামনে থাকা প্রতিটি বিকল্পই ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প বলেছেন, অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘শেষ’। তার এ অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন সংঘাতের ফলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে— যুদ্ধ থামানোর রাজনৈতিক ঘোষণা দেওয়া যত সহজ, বাস্তবে একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা ততটাই কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন এমন এক অবস্থায় রয়েছেন, যেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জের মুখে নরম অবস্থান নিলে তেহরান আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে ভবিষ্যতেও চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে উৎসাহিত হতে পারে।
ট্রাম্প হয়তো মনে করছেন, সামরিক চাপ তৈরি করে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তার মূল লক্ষ্য— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের ধারণা, তেহরান ট্রাম্পের প্রত্যাশিত মাত্রার ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
মার্কিন প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘ট্রাম্প নিজেকেই এক ধরনের ফাঁদে ফেলেছেন। সামরিক কিংবা কূটনৈতিক— কোনো পথেই ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না।’
ইরান যুদ্ধ শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়, এটি এখন ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে হাজারও মানুষের প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
গত ২৩ জুন প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসস জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন নেমে আসে ৩৪ শতাংশে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ের সমান। এতে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনাও দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে সর্বশেষ হামলা-পালটা হামলা তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনেও ছায়া ফেলেছে, যেখানে ট্রাম্প অংশ নিয়েছিলেন।
গত ১৭ জুন সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করা। তবে বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়। কারণ সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো ভবিষ্যতের অনিয়মিত আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত সেসব আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তী বৈঠক কবে হবে, সেটিও অনিশ্চিত।
এরই মধ্যে ইরান নতুন অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় বাতিল করেছে, যা অন্তর্বর্তী সমঝোতা থেকে পাওয়া ইরানের অন্যতম বড় সুবিধা ছিল। তবু বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব আরও চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক হামলাগুলোও হয়তো ভবিষ্যৎ আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশলের অংশ।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা জোনাথন পানিকফের মতে, এই ধারা আগামী দিনগুলোতেও চলতে পারে। তিনি বলেন, ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হয়তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু এখন স্বাভাবিক অবস্থা হয়ে দাঁড়াবে নিয়ন্ত্রিত অস্থিতিশীলতা— অর্থাৎ মাঝেমধ্যেই সহিংসতা হবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের কোনো পথ থাকবে না।’
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানো থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার অগ্রাধিকার হবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।
এ কারণে তিনি অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। যদিও ইরানও একইভাবে নিজেদের বিজয়ের দাবি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করলেও বাস্তবে তার ঘোষিত অনেক লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মূল কারণগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ চলাকালে ইরান দেখিয়েছে, চাইলে এই পথের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
ইরান ভবিষ্যতে প্রণালি ব্যবস্থাপনায় নিজেদের ভূমিকা চায়। এমনকি কোনো ধরনের ফি বা টোল আরোপের পরিকল্পনার কথাও তারা বারবার বলেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও উপসাগরীয় আরব মিত্ররা হরমুজ প্রণালিতে বাধাহীন ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে চায়।
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষক জন অল্টারম্যানের মতে, ইরান মনে করছে ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে চান না এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে পেতে আগ্রহী। তেহরানের হিসাব হলো— ট্রাম্প কয়েক দিন সামরিক পদক্ষেপ নেবেন, এরপর উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোই তাকে সংঘাত থামানোর জন্য চাপ দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ লরা ব্লুমেনফেল্ডের মতে, ট্রাম্প জানেন অর্থনীতি থেকে মনোযোগ সরে গেলে তার রাজনৈতিক ক্ষতি হবে। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ টেনে বলেন, ট্রাম্প উপলব্ধি করছেন যে দীর্ঘ যুদ্ধ তাকে এমন এক অর্থনৈতিক সংকটে ঠেলে দিতে পারে, যার রাজনৈতিক মূল্য নির্বাচনে দিতে হবে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ থেকে দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার যে পরিকল্পনা ট্রাম্প করেছিলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর তা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ হয়তো আপাতত পূর্ণমাত্রায় ফিরে যাবে না, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে মধ্যপ্রাচ্যে ‘নিয়ন্ত্রিত অস্থিতিশীলতা’র নতুন একপর্যায়ে প্রবেশ করেছে পরিস্থিতি, যেখানে যুদ্ধবিরতি থাকবে, তবে শান্তি থাকবে না।

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা-পালটা হামলার ঘটনায় সে লক্ষ্য তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তিন সপ্তাহ আগে দুপক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হলেও তা এখন কার্যত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছেন যেখানে তার সামনে থাকা প্রতিটি বিকল্পই ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প বলেছেন, অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘শেষ’। তার এ অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন সংঘাতের ফলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে— যুদ্ধ থামানোর রাজনৈতিক ঘোষণা দেওয়া যত সহজ, বাস্তবে একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা ততটাই কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন এমন এক অবস্থায় রয়েছেন, যেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জের মুখে নরম অবস্থান নিলে তেহরান আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে ভবিষ্যতেও চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে উৎসাহিত হতে পারে।
ট্রাম্প হয়তো মনে করছেন, সামরিক চাপ তৈরি করে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তার মূল লক্ষ্য— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের ধারণা, তেহরান ট্রাম্পের প্রত্যাশিত মাত্রার ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
মার্কিন প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘ট্রাম্প নিজেকেই এক ধরনের ফাঁদে ফেলেছেন। সামরিক কিংবা কূটনৈতিক— কোনো পথেই ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না।’
ইরান যুদ্ধ শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়, এটি এখন ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে হাজারও মানুষের প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
গত ২৩ জুন প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসস জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন নেমে আসে ৩৪ শতাংশে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ের সমান। এতে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনাও দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে সর্বশেষ হামলা-পালটা হামলা তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনেও ছায়া ফেলেছে, যেখানে ট্রাম্প অংশ নিয়েছিলেন।
গত ১৭ জুন সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করা। তবে বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়। কারণ সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো ভবিষ্যতের অনিয়মিত আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত সেসব আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তী বৈঠক কবে হবে, সেটিও অনিশ্চিত।
এরই মধ্যে ইরান নতুন অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় বাতিল করেছে, যা অন্তর্বর্তী সমঝোতা থেকে পাওয়া ইরানের অন্যতম বড় সুবিধা ছিল। তবু বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব আরও চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক হামলাগুলোও হয়তো ভবিষ্যৎ আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশলের অংশ।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা জোনাথন পানিকফের মতে, এই ধারা আগামী দিনগুলোতেও চলতে পারে। তিনি বলেন, ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হয়তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু এখন স্বাভাবিক অবস্থা হয়ে দাঁড়াবে নিয়ন্ত্রিত অস্থিতিশীলতা— অর্থাৎ মাঝেমধ্যেই সহিংসতা হবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের কোনো পথ থাকবে না।’
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানো থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার অগ্রাধিকার হবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।
এ কারণে তিনি অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। যদিও ইরানও একইভাবে নিজেদের বিজয়ের দাবি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করলেও বাস্তবে তার ঘোষিত অনেক লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মূল কারণগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ চলাকালে ইরান দেখিয়েছে, চাইলে এই পথের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
ইরান ভবিষ্যতে প্রণালি ব্যবস্থাপনায় নিজেদের ভূমিকা চায়। এমনকি কোনো ধরনের ফি বা টোল আরোপের পরিকল্পনার কথাও তারা বারবার বলেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও উপসাগরীয় আরব মিত্ররা হরমুজ প্রণালিতে বাধাহীন ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে চায়।
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষক জন অল্টারম্যানের মতে, ইরান মনে করছে ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে চান না এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে পেতে আগ্রহী। তেহরানের হিসাব হলো— ট্রাম্প কয়েক দিন সামরিক পদক্ষেপ নেবেন, এরপর উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোই তাকে সংঘাত থামানোর জন্য চাপ দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ লরা ব্লুমেনফেল্ডের মতে, ট্রাম্প জানেন অর্থনীতি থেকে মনোযোগ সরে গেলে তার রাজনৈতিক ক্ষতি হবে। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ টেনে বলেন, ট্রাম্প উপলব্ধি করছেন যে দীর্ঘ যুদ্ধ তাকে এমন এক অর্থনৈতিক সংকটে ঠেলে দিতে পারে, যার রাজনৈতিক মূল্য নির্বাচনে দিতে হবে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ থেকে দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার যে পরিকল্পনা ট্রাম্প করেছিলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর তা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ হয়তো আপাতত পূর্ণমাত্রায় ফিরে যাবে না, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে মধ্যপ্রাচ্যে ‘নিয়ন্ত্রিত অস্থিতিশীলতা’র নতুন একপর্যায়ে প্রবেশ করেছে পরিস্থিতি, যেখানে যুদ্ধবিরতি থাকবে, তবে শান্তি থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আটলান্টিক উপকূল থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস থেকে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত দাবানলের এই ধারা সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে নজিরবিহীন। অনেক আগুনই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং শহর ও জনবসতির কাছাকাছি পৌঁছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্ট বলেন, সিবিআইয়ের দাখিল করা দুটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালতের মনে হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে নতুন করে বিচার শুরুর মতো কোনো গ্রহণযোগ্য বা জোরালো কারণ নেই। ফলে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
রাহুল বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে বসার সাহস নেই। আমি তাকে ৩০টি গাড়ির কনভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বসে থাকতে দেখেছি। তিনি আজ সংসদে নেই কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।’
১ দিন আগে
রাজ্যসভায় পাস ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি বেড়ে হবে ১০ বছরের কারাদণ্ড, পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধানও থাকবে।
১ দিন আগে