মাদক চক্রের ড্রোন ঠেকাতে সীমান্তে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা মার্কিন সেনাবাহিনীর

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
অ্যারিজোনার ইউমা প্রুভিং গ্রাউন্ডসে ‘ফ্যালকন পিক’ মহড়ায় অ্যান্ডুরিলের ‘ঘোস্ট-এক্স’ ড্রোন হাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক সদস্য। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
অ্যারিজোনার ইউমা প্রুভিং গ্রাউন্ডসে ‘ফ্যালকন পিক’ মহড়ায় অ্যান্ডুরিলের ‘ঘোস্ট-এক্স’ ড্রোন হাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক সদস্য। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত এলাকায় মাদক কার্টেলগুলোর ড্রোন ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় নতুন ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি পরীক্ষা করছে মার্কিন সেনাবাহিনী। সীমান্তে নজরদারি ও ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও ব্যবহারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে অ্যারিজোনায় মার্কিন নর্দার্ন কমান্ডের আয়োজিত ‘ফ্যালকন পিক’ নামের একটি মহড়ায় বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। সেনাসদস্যরা সেখানে রাডার, ড্রোন প্রতিহতকারী ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় বন্দুক ব্যবস্থা এবং ছোট আকারের চালকবিহীন উড়োজাহাজ শনাক্ত, অনুসরণ ও ধ্বংসের জন্য তৈরি অন্যান্য প্রযুক্তি দেখেন।

মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে সাধারণত বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন বাণিজ্যিক ড্রোনই প্রবেশ করছে। এসব ড্রোন অপরাধীরা নজরদারির কাজে ব্যবহার করে। মাদক ও মানব পাচারের মতো সীমান্তপারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও এগুলোর ব্যবহার জড়িত।

জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাউদার্ন বর্ডারের অপারেশনবিষয়ক উপকম্যান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান ফিলার সাংবাদিকদের বলেন, আগের ৩০ দিনে সামরিক বাহিনী সীমান্ত অতিক্রমের ৩৭৮টি ড্রোনের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

ফিলার বলেন, ‘আমরা মূলত বাজারে সহজে পাওয়া বাণিজ্যিক ড্রোনই দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি জানান, এসব ড্রোনের বেশির ভাগেই নজরদারির জন্য ক্যামেরা থাকে এবং সীমান্ত অতিক্রমের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সময় এগুলো প্রায়ই দেখা যায়।

মার্কিন সামরিক বাহিনী চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছে, আগস্টে দক্ষিণ সীমান্তে লেজার প্রযুক্তি মোতায়েনের পর থেকে কার্টেলগুলোর ১১টি ড্রোন লেজার ব্যবহার করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইউক্রেন থেকে শিক্ষা

ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার কীভাবে যুদ্ধের ধরন বদলে দিয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিতে কাজ করছেন মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেন আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুই ক্ষেত্রেই ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন ঘটিয়েছে।

তবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, কার্টেলগুলোর ব্যবহৃত ড্রোনকে ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ড্রোনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকা নতুন সরঞ্জাম পরীক্ষা, সেনাদের প্রশিক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগারের বাইরে বাস্তব পরিস্থিতিতে এসব প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে, তা মূল্যায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

এই মহড়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রযুক্তি খাতে নতুন ধরনের বেসরকারি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার বিষয়টিও উঠে আসে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর থেকে বিনিয়োগকারীরা অ্যান্ডুরিল, শিল্ড এআই, সারোনিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং আরও অনেক ছোট ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা স্টার্টআপে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে চুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছে।

মহড়ায় অ্যান্ডুরিলের ‘ঘোস্ট’ ড্রোন প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি টেলিডাইন এফএলআইআরের তৈরি রাডার ও ক্যামেরাভিত্তিক ড্রোন শনাক্তকারী ব্যবস্থা, অ্যালেন কন্ট্রোল সিস্টেমসের তৈরি ‘বুলফ্রগ’ নামে ড্রোন প্রতিরোধে স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান এবং পাওয়ারাসের বিক্রি করা একটি প্রতিরোধী ড্রোনও প্রদর্শন করা হয়।

পাওয়ারাস বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি কোম্পানির সঙ্গে একীভূত হয়েছে, যেটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলেদের সমর্থন রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তন ও উন্নয়নের যে প্রক্রিয়া দেখা গেছে, তার একটি অংশ অনুসরণ করাও এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ম্যাট রস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের দিকে তাকিয়ে বলি, প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে তারা যেভাবে দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, তা আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আসলে সেই প্রক্রিয়াটিই অনুসরণ করা উচিত।’

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement