হলফনামায় আয় নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’, ব্যাখায় যা বললেন নাহিদ ইসলাম

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৩১

নির্বাচনী হলফনামায় নিজের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে ওই পোস্টে ‘অপপ্রচারের’ জবাবও দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক।

ফেসবুকের ওই এডমিন পোস্টে বলা হয়েছে, নির্বাচনি হলফনামায় নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার সত্য উদঘাটনের চেয়ে বরং একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি রাজনৈতিক প্রয়াস।

এতে বলা হয়, প্রথমত, বাৎসরিক আয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হলফনামায় যে ১৬ লক্ষ টাকার বাৎসরিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট চাকরি ছাড়ার পর হঠাৎ করে অর্জিত অর্থ নয়; এটি ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত) মোট আয়ের হিসাব। এই অর্থবছরের বড় একটি সময় (সাত মাস) নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই দায়িত্বের বিপরীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন–ভাতা পেয়েছেন।

বাস্তবতা হলো, এই ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ লক্ষ টাকাই উপদেষ্টা হিসেবে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা, যা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং সম্পূর্ণভাবে নথিভুক্ত। বাকি অংশ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট (পরামর্শক) হিসেবে বৈধ পেশাগত কাজের সম্মানী থেকে, যারও সুস্পষ্ট কর হিসাব রয়েছে।

মোট সম্পদ সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদ ৩২ লক্ষ টাকা। মোট সম্পদ কোনো এক বছরের আয় নয়, এটি একজন মানুষের পুরো জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি।

নাহিদ ইসলামের ক্ষেত্রে এই সম্পদ তার প্রায় ২৭ বছরের জীবনের জমাকৃত সঞ্চয়। এর মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা পদের বিপরীতে প্রাপ্ত বেতন থেকে সেভিংস, পূর্ববর্তী সেভিংস, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকারের মূল্য, ফার্নিচার এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যের সমষ্টি। পাশাপাশি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত ইনকামও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এখানে মোট সম্পদ যেটা একেবারেই সত্য ও একুরেট সেই তথ্যই দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘিরে যে অপপ্রচার চলছে, সেটিও তথ্যের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।

উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলামের ব্যাংক একাউন্টে যে প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিল, সেটি ছিল উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন মোট আয়ের পর অবশিষ্ট নগদ অর্থ—তার মোট সম্পদের প্রতিফলন নয়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ একই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পায়, যা হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মাত্র দুটি—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং আরেকটি নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা। এর বাইরে তার আর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। একই সঙ্গে এটিও পরিষ্কার যে উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় যেমন তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি ছিল না, পদত্যাগের পরেও তা হয়নি—এই তথ্য হলফনামায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

পেশা সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, পেশা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করা হয়নি। তার পূর্ববর্তী পেশা সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমান পেশা হিসেবে কনসালট্যান্সি উল্লেখ আছে, যা একটি স্বীকৃত ও বৈধ পেশা। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেন—যে প্রতিষ্ঠানের নাম ইলেকশন কমিশনে দাখিল করা নথিতেই উল্লেখ রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং নাহিদ ইসলামের যুক্ত থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি। তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এই পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন—এতে অস্বাভাবিক বা গোপন কিছু নেই।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনি হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য। তিনি উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন আয়, পদত্যাগের পর পেশাগত আয় এবং জীবনের সামগ্রিক সম্পদ—সবকিছু আলাদা করে, স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করেছেন। অথচ এই স্পষ্ট ও পৃথক ক্যাটাগরিগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দিয়ে একটি অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বাস্তবে, সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা এই কথাই প্রমাণ করে যে নাহিদ ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন—আর সেটিই এই অপপ্রচারের মূল অস্বস্তির জায়গা। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই দেশে সত্য বলা অনেক সময় অপরাধে পরিণত হয়। যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। অথচ যেসব রাজনীতিবিদ বছরের পর বছর দেশে-বিদেশে বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন, যাদের হলফনামার তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না—তাদের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত। কারণ ক্ষমতার সঙ্গে আপস করা থাকলে প্রশ্ন ওঠে না।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’, প্রতিহতের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সবসময় সবকিছু সোজা পথে পাই না। আজকে আবার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি করছেন, আইনশৃঙ্খলা পর

৫ দিন আগে

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন— জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।

৫ দিন আগে

‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশ অনন্য দেশ হতো’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না

৭ দিন আগে

সরকার স্বস্তি দিতে চায়, বিরোধীদল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

৮ দিন আগে