জেনারেল ওসমানীর জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তিসহ জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী। ছবি: সংগৃহীত
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী। ছবি: সংগৃহীত

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের পাশাপাশি তার জীবন-সংগ্রাম, সততা ও দেশপ্রেমের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উত্থাপন করা হয়েছে জাতীয় সংসদে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী কার্যপ্রণালী-বিধির ৩০২ বিধি অনুযায়ী নোটিশ দিয়ে এ দাবি জানান। নোটিশটি সংসদ গ্রহণ করেছে বলে জানান অধিবেশনে সভাপতির আসনে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

নোটিশে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকীতে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি হতাশ ও লজ্জিত হয়েছেন। তার দাবি, প্রবীণ কিছু মানুষ ছিলেন অনুষ্ঠানের বক্তা ও শ্রোতা, যাদের বয়স ৭০ থেকে ৮০ বছরের বেশি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী বিনামূল্যে বঙ্গবীরের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য হল বা স্থান বরাদ্দের সুযোগ করে গিয়েছিলেন। তা না হলে হয়তো জেনারেল ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থানও পাওয়া যেত না।

নোটিশে সংসদ সদস্য বলেন, ওসমানী স্মৃতি পরিষদ সাধ্যমতো অনুষ্ঠানটি সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ, জেনারেল ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত নয়। এর আগে তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে সরকারিভাবে কোনো অনুষ্ঠানও পালিত হয়নি।

মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে জেনারেল ওসমানী সম্পর্কে একটি লাইনও আছে কি না, আমার জানা নেই। জেনারেল ওসমানী আজ অবহেলার শিকার বলে আমি মনে করি। এ কারণে আমি লজ্জিত।

কুমিল্লার এই সংসদ সদস্য বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষলগ্নে জেনারেল ওসমানীর ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ বাঙালি জাতির জন্য প্রেরণা জুগিয়েছিল। অবসর জীবন দূরে ঠেলে সেই বয়সে তিনি মুক্তিবাহিনীর সেনানায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা ইতিহাসে নজিরবিহীন।

স্বাধীনতার পর সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জেনারেল ওসমানী। পরে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে এর প্রতিবাদে তিনি পদত্যাগ করেন। সংসদ সদস্য মনিরুল এ প্রসঙ্গে বলেন, এমন একজন মানুষ আজ অবহেলিত।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জাতীয় সংসদের মূল প্রবেশদ্বারের নাম ‘এম এ জি ওসমানী গেট’ করার পাশাপাশি জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে তার জীবন-সংগ্রামের ইতিহাস, গৌরবগাথা, সততা ও দেশপ্রেম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement