সংসদই হতে হবে রাজনৈতিক বিতর্ক-মতবিনিময়ের প্রধান মঞ্চ: তথ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৫৩
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: বাসস
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: বাসস

জাতীয় সংসদই রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান মঞ্চ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এখনো নানা উপায়ে রাজনীতিকে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন জাতীয় সংসদকে কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যাবে। রাজনৈতিক বিতর্ক, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে সংসদকেই। জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সঙ্গে শহিদদের রক্তের বন্ধন রয়েছে। সরকার সেই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বহু দেশ যেখানে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে, সেখানে বাংলাদেশকে এখনও ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিতে হচ্ছে। এই বাস্তবতা জাতির জন্য লজ্জার এবং আত্মসমালোচনার বিষয়।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদ পরিচালনা করছে। এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো অর্জিত গণতন্ত্র, নির্বাচন ও সংসদীয় ব্যবস্থাকে দেশের রাজনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রতিষ্ঠিত করা।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শহিদদের স্মরণ শুধু আবেগ বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন সংসদকে কার্যকর করা যাবে, রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে আনা যাবে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও জবাবদিহিমূলক করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশর সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল এবং যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, ডিইউজের বর্তমান সহসভাপতি রাশেদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement