পাটোয়ারীর গালি শুনে আমরা অভ্যস্ত: সিইসি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ১৭: ২৮
পাটোয়ারীর গালি শুনে আমরা অভ্যস্ত: সিইসি

নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনের গুণগত মান কেমন ছিল তা দেশবাসী এবং গণমাধ্যমের মূল্যায়নের বিষয়। উনার এই ধরনের কথা শুনে আমরা একদম অভ্যস্ত। কেননা, মুখোমুখি আলোচনার পর বাইরে গিয়ে গালিগালাজ বা সমালোচনা করার এই সংস্কৃতি নতুন নয়, তাই একে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার কিছু নেই।

‎সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফডি) নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এবং বর্তমান কমিশন প্রধানমন্ত্রীর অনুগ্রহপুষ্ট। তিনি সতর্ক করে বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ না হয়, তবে আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অনিয়মের জন্য তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

‎

পরে সিইসি বলেন, অনেকের কাছে উনার বক্তব্য নতুন মনে হতে পারে, কিন্তু বিশ্বাস করেন আমি সামান্যতম মনঃক্ষুণ্ণ নই। শুধু প্রশংসা করলে তো ইভালুয়েশন বা সঠিক মূল্যায়ন হয় না। উনি নিজের পার্সপেক্টিভ থেকে যেটা অন্তরে বিশ্বাস করেছেন, সেটাই বলেছেন। আর এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য; উনাকে এই বলার সুযোগ দেওয়াটাই সৌন্দর্য। এজন্য আমি একদম আহত নই।

তিনি বলেন, অতীতে শুধু এক পক্ষ বলতে বলতে সব বরবাদ করে দিয়েছে। সবাই শুধু এক পক্ষের প্রশংসা করেছে। আর সেই একপেশে প্রশংসার রেজাল্ট হিসেবেই দেশের এই বিপ্লব হয়েছে। শুধু একজনের প্রশংসা করতে গিয়ে আমাদেরকে এই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সুতরাং মুদ্রার দুইটা দিকই থাকে।

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন সফল করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন দলের অভ্যন্তরীণ মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি একটি সুস্থ রাজনৈতিক ধারা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সিস্টেমের কোনো ঘাটতি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে দূর করার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, আইনি সংস্কার শেষে চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বিগত সরকারের সব কর্মকর্তাকে একযোগে অপসারণ না করার বিষয়ে তিনি যুক্তি দেন যে, সবাইকে বাদ দিলে নির্বাচন অনুষ্ঠান করাই অসম্ভব হয়ে পড়ত, তাই সবাইকে দায়িত্বশীলতার শপথ বুঝিয়েই কাজ করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement