চাঁপাই সীমান্তে নৌকাডুবি, ১০ বাংলাদেশিকে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
শনিবার পদ্মায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। ছবি: বিএসএফ
শনিবার পদ্মায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। ছবি: বিএসএফ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পদ্মা নদীতে (ভারতীয় অংশে গঙ্গা) প্রবল স্রোতে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ওই ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার মধ্যেই নৌকাডুবির শিকার ১০ জনকে ভারতের জলসীমা থেকে উদ্ধার করে বিএসএফ। পরে শনিবার রাতেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে।

বিজিবি জানিয়েছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বাখেরআলী এলাকার আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় মো. ওয়াসিম (২৩) নামের একজন সাঁতরে বাঁচলেও ১১ জন স্রোতে ভেসে যান।

বিএসএফের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিএসএফের মালদা সেক্টরের ৭১ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বিওপি খণ্ডুয়া এলাকায় টহল দেওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তিকে নদীতে ডুবে যেতে দেখেন। তারা দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তিন শিশু, তিন নারী ও চার পুরুষসহ ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেন বিএসএফ সদস্যরা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসএফ বলেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তারা বাংলাদেশের জহুরপুরটেক গ্রামের বাসিন্দা। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নিজেদের গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তানিশা খাতুন নামে ৩০ দিন বয়সী একটি শিশু রয়েছে, যার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশুটির অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

উদ্ধার বাকিরা হলেন— মো. রাসেল, মো. ইব্রাহিম, সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, সখিনা, নিলুফা, শিশু তানিশার মা তানিয়া, সানাউল্লাহ ও আল আমিন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জহুরপুর গ্রামের বকরীপাড়ার বাসিন্দা। নৌকায় থাকা একই গ্রামের মো. মোস্তফা এখনো নিখোঁজ।

বিজিবি জানিয়েছে, বিকেলে বিএসএফ বিষয়টি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাখেরআলী ও ফরিদপুর বিজিবি বিওপি কমান্ডারকে জানান। পরে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই ১০ জনকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা সবাই আত্মীয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মো. ইসমাইল হোসেন নামের এক আত্মীয়ের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement