লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফিরলেন আরও ১৬৫ বাংলাদেশি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকালে লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৬৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক আজ শুক্রবার সকালে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

এদের মধ্যে ১৪৩ জনই বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন এবং বাকি ২২ জন লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন।

ফেরত আসা এই অভিবাসীদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার নেশায় মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে তারা বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিমানবন্দরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি, পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে তাদের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সবার সঙ্গে বিনিময় করার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বার্তায় বলা হয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৪৩ জন এবং বেনাগাজী ও তদসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী দুস্থ, অসহায় ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ২২ জনসহ মোট ১৬৫ জন স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবাসনেচ্ছুক অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে আজ সকাল সাড়ে ৫টায় এ বুরাক এয়ারের ফ্লাইট যোগে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

‘প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন করা প্রত্যেককে পথখরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।’

বার্তায় আরো বলা হয়, লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement