
এ কে এম শাকিল নেওয়াজ

ঢাকা শুধু ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে নেই; অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল ভবন, সরু রাস্তা, যানজট, গ্যাসলাইন, পানির সংকট, ঘনবসতি ও সমন্বয়হীন জরুরি ব্যবস্থাপনা— সব মিলিয়ে আমরা যেন প্রতিদিন একটি সম্ভাব্য মহাবিপর্যয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করছি।
ভূমিকম্প দরজায় কড়া নেড়ে আসে না। আগুনের মতো তার ধোঁয়া দেখা যায় না, বন্যার মতো পানি বাড়ার পূর্বাভাসও মেলে না। কয়েক সেকেন্ডের কম্পনেই একটি শহরের বহু বছরের উন্নয়ন, হাজারও পরিবারের স্বপ্ন ও একটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়তে পারে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন— বড় ভূমিকম্পে ঢাকার বহু এলাকায় উদ্ধারকারী দলের পৌঁছানো কঠিন হবে, কোথাও কোথাও উদ্ধার অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। তার এ বক্তব্যকে একটি সংস্থার সীমাবদ্ধতার স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে আমাদের নগরসভ্যতার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন; যেখানে রোগ বহু পুরোনো, কিন্তু চিকিৎসা এখনো খণ্ডিত।
ঢাকার দুর্যোগঝুঁকির সবচেয়ে নির্মম দিক হলো— বিপদ শুধু ভবনধসে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বড় ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবন, বন্ধ সড়ক, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-সংযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাসলাইন, অগ্নিকাণ্ড, পানির সংকট, আতঙ্কিত জনতা এবং হাসপাতালের ওপর অস্বাভাবিক চাপ— সবকিছু একই সময়ে ঘটতে পারে।
সাধারণ অবস্থায় যে পথ অতিক্রম করতে ১০ মিনিট লাগার কথা, যানজটে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যেতে পারে। ভূমিকম্পের পর সেই রাস্তা ধ্বংসস্তূপ, পরিত্যক্ত গাড়ি কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত উড়ালসড়কের কারণে আদৌ চলাচলযোগ্য থাকবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকার ৪১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম ছড়িয়ে রেখেছে। সারা দেশের ১০০টি ফায়ার স্টেশনও চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রয়োজন হলে রাজধানীতে সহায়তা পাঠানো হবে। উদ্যোগগুলো সময়োপযোগী। কিন্তু ঢাকার প্রবেশপথ, সেতু ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাইরের দল কীভাবে পৌঁছাবে? একই সময়ে শত শত বা হাজারও স্থানে সাহায্যের প্রয়োজন হলে ৪১টি সরঞ্জামকেন্দ্র কি সচল থাকবে? সেখানে কি প্রশিক্ষিত জনবল, বিকল্প বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং পরিবহনের ব্যবস্থা থাকবে?
কঠিন হলো সরঞ্জামের চারপাশে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। একটি কাটার, ক্যামেরা, ড্রোন বা উদ্ধারযন্ত্র নিজে জীবন বাঁচায় না। জীবন বাঁচায় প্রশিক্ষিত মানুষ, দ্রুত সিদ্ধান্ত, নিরাপদ প্রবেশপথ, নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ এবং সমন্বিত নেতৃত্ব।
ফায়ার সার্ভিস একা পুরো রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে পারবে না। আমাদের মধ্যে একটি বিপজ্জনক ধারণা রয়েছে। আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস, ভবন ধসলে ফায়ার সার্ভিস, রাসায়নিক দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস, এমনকি ভূমিকম্পে পুরো মহানগর বিপর্যস্ত হলেও যেন ফায়ার সার্ভিসই সব সামলে নেবে।
ফায়ার সার্ভিস নিঃসন্দেহে উদ্ধার অভিযানের অগ্রবর্তী ও অপরিহার্য শক্তি। কিন্তু বড় ভূমিকম্পে তাদের স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কর্মীরা হতাহত হতে পারেন, গাড়ি বের করার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, পানির উৎস অকার্যকর হতে পারে এবং যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে একা ফায়ার সার্ভিসের ওপর দায়িত্ব চাপানো উত্তাল সমুদ্রে একটি লাইফবোট দিয়ে পুরো জাহাজের যাত্রীদের বাঁচানোর চেষ্টা করার মতো। ধ্বংসস্তূপে শুধু ফায়ার সার্ভিস নয়, নামতে হবে গোটা রাষ্ট্রকে।
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ও কমিটি রয়েছে। কিন্তু একটি মহানগরব্যাপী ভূমিকম্পের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী, সক্রিয় ও মহড়ায় পরীক্ষিত একটি জাতীয় ভূমিকম্প জরুরি অভিযানব্যবস্থা। এটি নতুন কোনো কাগুজে কমিটি হবে না; বরং সিদ্ধান্ত, সম্পদ, যোগাযোগ ও অভিযানের একটি অভিন্ন কাঠামো হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে নীতিগত নেতৃত্ব নিতে হবে। এর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, গণপূর্ত, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস কর্তৃপক্ষ, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভূমিকা আগেই নির্ধারণ করতে হবে।
কম্পন থামার প্রথম ১০ মিনিটে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন কে? প্রথম এক ঘণ্টায় জাতীয় ও নগর কমান্ড কোথায় সক্রিয় হবে? কোন বাহিনী কোন এলাকায় উদ্ধার পরিচালনা করবে? জরুরি রাস্তা খুলবে কারা? বিদ্যুৎ ও গ্যাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কে নেবে? কোন হাসপাতালে কতজন আহত পাঠানো হবে? মাঠ হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র, মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণশৃঙ্খলার দায়িত্ব কার?
এসব প্রশ্নের উত্তর যদি ভূমিকম্পের পরে সভায় বসে খুঁজতে হয়, তবে রাষ্ট্র এরই মধ্যে তার সবচেয়ে মূল্যবান সময় হারিয়ে ফেলবে।
বড় ভূমিকম্পে বেসামরিক সক্ষমতা দ্রুত অতিক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। তখন সশস্ত্র বাহিনীর প্রকৌশল, চিকিৎসা, পরিবহন, যোগাযোগ, বিমান সহায়তা, ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কিন্তু ‘প্রয়োজনে সেনাবাহিনী আসবে’— এমন অস্পষ্ট ধারণা কোনো অভিযান পরিকল্পনা নয়। কোন ইউনিট কোন অঞ্চলে দায়িত্ব নেবে, ভারী প্রকৌশল সরঞ্জাম কোথায় থাকবে, হেলিকপ্টার ওঠানামার স্থান কোথায়, মাঠ হাসপাতাল কত সময়ে চালু হবে এবং সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কীভাবে হবে— এসব আগেই পরিকল্পিত ও মহড়ায় পরীক্ষিত হতে হবে।
পুলিশকে জননিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিজিবিকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষা ও সহায়ক উদ্ধার এবং আনসার-ভিডিপিকে স্থানীয় জনবল সংগঠন, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, ত্রাণশৃঙ্খলা ও প্রাথমিক সহায়তার জন্য প্রস্তুত করা যায়। প্রতিটি বাহিনীর স্বতন্ত্র শক্তিকে এক অভিযানের ছাতার নিচে যুক্ত করাই হবে রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞা।
ভূমিকম্পের পর প্রথম বাস্তব যুদ্ধটি হবে ওয়ার্ড ও মহল্লায়। সিটি করপোরেশনকে শুধু পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সময় শেষ। তাদের কাছে সড়ক, খোলা জায়গা, পানির উৎস, ভারী যন্ত্র, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকের হালনাগাদ ডিজিটাল মানচিত্র থাকতে হবে।
ঢাকাকে কয়েকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জরুরি অভিযান অঞ্চলে ভাগ করা প্রয়োজন। প্রতিটি অঞ্চলে উদ্ধার ও চিকিৎসাসামগ্রী, পানি ও খাবার, ভারী যন্ত্র ও প্রশিক্ষিত চালক, বিকল্প বিদ্যুৎ, বেতার যোগাযোগ, অস্থায়ী হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র এবং বিকল্প নেতৃত্ব রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেন স্থানীয় অভিযান থেমে না যায়। বড় দুর্যোগে অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ নিজেই একটি দুর্বলতায় পরিণত হয়।
যারা মানুষকে উদ্ধার করবেন, তাদের স্থাপনাই যদি ধসে পড়ে, তবে আধুনিক যন্ত্রপাতিও ধ্বংসস্তূপে বন্দি হয়ে যাবে। তাই ফায়ার স্টেশন, হাসপাতাল, পুলিশ স্টেশন, জরুরি পরিচালনাকেন্দ্র, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, যোগাযোগকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার ভূমিকম্প-সহনশীলতা জরুরিভাবে যাচাই করতে হবে।
মিরপুরে ভূমিকম্প-সহনশীল ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর নির্মাণ ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে শুধু সদর দপ্তর নয়, গুরুত্বপূর্ণ সব স্টেশনের কাঠামোগত ও কার্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিকল্প বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, একাধিক প্রবেশপথ এবং স্বতন্ত্র যোগাযোগব্যবস্থা ছাড়া শুধু শক্ত ভবন যথেষ্ট নয়।
মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যর্থ হলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কোনো রাষ্ট্রের জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা হতে পারে না। প্রয়োজন আন্তঃসংস্থা বেতার নেটওয়ার্ক, বিকল্প উপগ্রহ-সংযোগ এবং অভিন্ন নির্দেশনা পদ্ধতি।
ভূমিকম্পের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাই অনেক মানুষকে উদ্ধার করবেন। পেশাদার দল পৌঁছানোর আগেই জীবন রক্ষার ‘সোনালি সময়’ পেরিয়ে যেতে পারে।
তাই এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির পরিকল্পনাকে শুধু তিন দিনের প্রশিক্ষণ, সনদ ও ছবির অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন কেন্দ্রীয় ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার, এলাকাভিত্তিক দক্ষতার মানচিত্র, পরিচয়পত্র, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী, বার্ষিক পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত মহড়া।
কেউ অনুসন্ধান করবে, কেউ নিরাপদ উদ্ধার, কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা, কেউ অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা এবং কেউ জনতা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করবে। দায়িত্বের এই বিভাজন না থাকলে স্বেচ্ছাসেবকের অনিয়ন্ত্রিত ভিড় উদ্ধারকাজের নতুন বাধা হয়ে উঠতে পারে।
উদ্ধারসক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। কিন্তু মানুষকে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়তে না দেওয়া আরও জরুরি। দুর্বল ভবনগুলো একেকটি নীরব টাইমবোমা, ভূমিকম্প কেবল বিস্ফোরণের বোতামটি চাপবে।
হাসপাতাল, বিদ্যালয়, ফায়ার স্টেশন, সেতু, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও পানি-গ্যাস অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঝুঁকিভিত্তিক মূল্যায়ন ও শক্তিশালীকরণ শুরু করতে হবে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডকে শুধু নকশায় অনুমোদনের সিল হিসেবে দেখলে চলবে না; মাটি পরীক্ষা থেকে নকশা, নির্মাণসামগ্রী, প্রকৌশল তদারকি, ব্যবহার পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ— প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রয়োজন একটি পূর্ণমাত্রার জাতীয় ভূমিকম্প মহড়া, যেখানে একই সঙ্গে সড়ক বন্ধ, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যর্থতা, একাধিক অগ্নিকাণ্ড, হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগী, জনতার আতঙ্ক এবং পরাঘাতের পরিস্থিতি অনুশীলন করা হবে।
মহড়া শেষে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে—
ভুল গোপন করলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি সাময়িকভাবে রক্ষা পায়, ভুল শনাক্ত করে সংশোধন করলে রক্ষা পায় মানুষের জীবন।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে নির্মম বৈশিষ্ট্য হলো— এটি কয়েক সেকেন্ডে বহু বছরের অবহেলার হিসাব মিলিয়ে দেয়। কম্পনের পর কমিটি করা যাবে, তদন্ত ঘোষণা করা যাবে; কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সময় ও জীবন ফিরিয়ে আনা যাবে না।
ধ্বংসস্তূপ থেকে একজন মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা বীরত্ব। কিন্তু এমন নগর ও রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে, যেখানে অবহেলার কারণে মানুষকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়তে হবে না। সেটিই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
মাটি কবে কাঁপবে, আমরা জানি না। কিন্তু মাটি কাঁপলে রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে থাকবে, নাকি তার প্রতিষ্ঠানগুলোও ধসে পড়বে— সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আজই। ভূমিকম্পের পরে উদ্ধার নয়, বিপর্যয়ের আগেই জীবন বাঁচাতে হবে।
লেখক: অবসরপ্রাপ্ত মেজর, অগ্নি-দুর্যোগ ও সংকট ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক পরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স

ঢাকা শুধু ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে নেই; অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল ভবন, সরু রাস্তা, যানজট, গ্যাসলাইন, পানির সংকট, ঘনবসতি ও সমন্বয়হীন জরুরি ব্যবস্থাপনা— সব মিলিয়ে আমরা যেন প্রতিদিন একটি সম্ভাব্য মহাবিপর্যয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করছি।
ভূমিকম্প দরজায় কড়া নেড়ে আসে না। আগুনের মতো তার ধোঁয়া দেখা যায় না, বন্যার মতো পানি বাড়ার পূর্বাভাসও মেলে না। কয়েক সেকেন্ডের কম্পনেই একটি শহরের বহু বছরের উন্নয়ন, হাজারও পরিবারের স্বপ্ন ও একটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়তে পারে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন— বড় ভূমিকম্পে ঢাকার বহু এলাকায় উদ্ধারকারী দলের পৌঁছানো কঠিন হবে, কোথাও কোথাও উদ্ধার অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। তার এ বক্তব্যকে একটি সংস্থার সীমাবদ্ধতার স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে আমাদের নগরসভ্যতার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন; যেখানে রোগ বহু পুরোনো, কিন্তু চিকিৎসা এখনো খণ্ডিত।
ঢাকার দুর্যোগঝুঁকির সবচেয়ে নির্মম দিক হলো— বিপদ শুধু ভবনধসে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বড় ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবন, বন্ধ সড়ক, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-সংযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাসলাইন, অগ্নিকাণ্ড, পানির সংকট, আতঙ্কিত জনতা এবং হাসপাতালের ওপর অস্বাভাবিক চাপ— সবকিছু একই সময়ে ঘটতে পারে।
সাধারণ অবস্থায় যে পথ অতিক্রম করতে ১০ মিনিট লাগার কথা, যানজটে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যেতে পারে। ভূমিকম্পের পর সেই রাস্তা ধ্বংসস্তূপ, পরিত্যক্ত গাড়ি কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত উড়ালসড়কের কারণে আদৌ চলাচলযোগ্য থাকবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকার ৪১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম ছড়িয়ে রেখেছে। সারা দেশের ১০০টি ফায়ার স্টেশনও চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রয়োজন হলে রাজধানীতে সহায়তা পাঠানো হবে। উদ্যোগগুলো সময়োপযোগী। কিন্তু ঢাকার প্রবেশপথ, সেতু ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাইরের দল কীভাবে পৌঁছাবে? একই সময়ে শত শত বা হাজারও স্থানে সাহায্যের প্রয়োজন হলে ৪১টি সরঞ্জামকেন্দ্র কি সচল থাকবে? সেখানে কি প্রশিক্ষিত জনবল, বিকল্প বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং পরিবহনের ব্যবস্থা থাকবে?
কঠিন হলো সরঞ্জামের চারপাশে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। একটি কাটার, ক্যামেরা, ড্রোন বা উদ্ধারযন্ত্র নিজে জীবন বাঁচায় না। জীবন বাঁচায় প্রশিক্ষিত মানুষ, দ্রুত সিদ্ধান্ত, নিরাপদ প্রবেশপথ, নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ এবং সমন্বিত নেতৃত্ব।
ফায়ার সার্ভিস একা পুরো রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে পারবে না। আমাদের মধ্যে একটি বিপজ্জনক ধারণা রয়েছে। আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস, ভবন ধসলে ফায়ার সার্ভিস, রাসায়নিক দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস, এমনকি ভূমিকম্পে পুরো মহানগর বিপর্যস্ত হলেও যেন ফায়ার সার্ভিসই সব সামলে নেবে।
ফায়ার সার্ভিস নিঃসন্দেহে উদ্ধার অভিযানের অগ্রবর্তী ও অপরিহার্য শক্তি। কিন্তু বড় ভূমিকম্পে তাদের স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কর্মীরা হতাহত হতে পারেন, গাড়ি বের করার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, পানির উৎস অকার্যকর হতে পারে এবং যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে একা ফায়ার সার্ভিসের ওপর দায়িত্ব চাপানো উত্তাল সমুদ্রে একটি লাইফবোট দিয়ে পুরো জাহাজের যাত্রীদের বাঁচানোর চেষ্টা করার মতো। ধ্বংসস্তূপে শুধু ফায়ার সার্ভিস নয়, নামতে হবে গোটা রাষ্ট্রকে।
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ও কমিটি রয়েছে। কিন্তু একটি মহানগরব্যাপী ভূমিকম্পের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী, সক্রিয় ও মহড়ায় পরীক্ষিত একটি জাতীয় ভূমিকম্প জরুরি অভিযানব্যবস্থা। এটি নতুন কোনো কাগুজে কমিটি হবে না; বরং সিদ্ধান্ত, সম্পদ, যোগাযোগ ও অভিযানের একটি অভিন্ন কাঠামো হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে নীতিগত নেতৃত্ব নিতে হবে। এর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, গণপূর্ত, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস কর্তৃপক্ষ, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভূমিকা আগেই নির্ধারণ করতে হবে।
কম্পন থামার প্রথম ১০ মিনিটে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন কে? প্রথম এক ঘণ্টায় জাতীয় ও নগর কমান্ড কোথায় সক্রিয় হবে? কোন বাহিনী কোন এলাকায় উদ্ধার পরিচালনা করবে? জরুরি রাস্তা খুলবে কারা? বিদ্যুৎ ও গ্যাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কে নেবে? কোন হাসপাতালে কতজন আহত পাঠানো হবে? মাঠ হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র, মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণশৃঙ্খলার দায়িত্ব কার?
এসব প্রশ্নের উত্তর যদি ভূমিকম্পের পরে সভায় বসে খুঁজতে হয়, তবে রাষ্ট্র এরই মধ্যে তার সবচেয়ে মূল্যবান সময় হারিয়ে ফেলবে।
বড় ভূমিকম্পে বেসামরিক সক্ষমতা দ্রুত অতিক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। তখন সশস্ত্র বাহিনীর প্রকৌশল, চিকিৎসা, পরিবহন, যোগাযোগ, বিমান সহায়তা, ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কিন্তু ‘প্রয়োজনে সেনাবাহিনী আসবে’— এমন অস্পষ্ট ধারণা কোনো অভিযান পরিকল্পনা নয়। কোন ইউনিট কোন অঞ্চলে দায়িত্ব নেবে, ভারী প্রকৌশল সরঞ্জাম কোথায় থাকবে, হেলিকপ্টার ওঠানামার স্থান কোথায়, মাঠ হাসপাতাল কত সময়ে চালু হবে এবং সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কীভাবে হবে— এসব আগেই পরিকল্পিত ও মহড়ায় পরীক্ষিত হতে হবে।
পুলিশকে জননিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিজিবিকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষা ও সহায়ক উদ্ধার এবং আনসার-ভিডিপিকে স্থানীয় জনবল সংগঠন, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, ত্রাণশৃঙ্খলা ও প্রাথমিক সহায়তার জন্য প্রস্তুত করা যায়। প্রতিটি বাহিনীর স্বতন্ত্র শক্তিকে এক অভিযানের ছাতার নিচে যুক্ত করাই হবে রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞা।
ভূমিকম্পের পর প্রথম বাস্তব যুদ্ধটি হবে ওয়ার্ড ও মহল্লায়। সিটি করপোরেশনকে শুধু পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সময় শেষ। তাদের কাছে সড়ক, খোলা জায়গা, পানির উৎস, ভারী যন্ত্র, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকের হালনাগাদ ডিজিটাল মানচিত্র থাকতে হবে।
ঢাকাকে কয়েকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জরুরি অভিযান অঞ্চলে ভাগ করা প্রয়োজন। প্রতিটি অঞ্চলে উদ্ধার ও চিকিৎসাসামগ্রী, পানি ও খাবার, ভারী যন্ত্র ও প্রশিক্ষিত চালক, বিকল্প বিদ্যুৎ, বেতার যোগাযোগ, অস্থায়ী হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র এবং বিকল্প নেতৃত্ব রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেন স্থানীয় অভিযান থেমে না যায়। বড় দুর্যোগে অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ নিজেই একটি দুর্বলতায় পরিণত হয়।
যারা মানুষকে উদ্ধার করবেন, তাদের স্থাপনাই যদি ধসে পড়ে, তবে আধুনিক যন্ত্রপাতিও ধ্বংসস্তূপে বন্দি হয়ে যাবে। তাই ফায়ার স্টেশন, হাসপাতাল, পুলিশ স্টেশন, জরুরি পরিচালনাকেন্দ্র, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, যোগাযোগকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার ভূমিকম্প-সহনশীলতা জরুরিভাবে যাচাই করতে হবে।
মিরপুরে ভূমিকম্প-সহনশীল ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর নির্মাণ ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে শুধু সদর দপ্তর নয়, গুরুত্বপূর্ণ সব স্টেশনের কাঠামোগত ও কার্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিকল্প বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, একাধিক প্রবেশপথ এবং স্বতন্ত্র যোগাযোগব্যবস্থা ছাড়া শুধু শক্ত ভবন যথেষ্ট নয়।
মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যর্থ হলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কোনো রাষ্ট্রের জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা হতে পারে না। প্রয়োজন আন্তঃসংস্থা বেতার নেটওয়ার্ক, বিকল্প উপগ্রহ-সংযোগ এবং অভিন্ন নির্দেশনা পদ্ধতি।
ভূমিকম্পের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাই অনেক মানুষকে উদ্ধার করবেন। পেশাদার দল পৌঁছানোর আগেই জীবন রক্ষার ‘সোনালি সময়’ পেরিয়ে যেতে পারে।
তাই এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির পরিকল্পনাকে শুধু তিন দিনের প্রশিক্ষণ, সনদ ও ছবির অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন কেন্দ্রীয় ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার, এলাকাভিত্তিক দক্ষতার মানচিত্র, পরিচয়পত্র, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী, বার্ষিক পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত মহড়া।
কেউ অনুসন্ধান করবে, কেউ নিরাপদ উদ্ধার, কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা, কেউ অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা এবং কেউ জনতা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করবে। দায়িত্বের এই বিভাজন না থাকলে স্বেচ্ছাসেবকের অনিয়ন্ত্রিত ভিড় উদ্ধারকাজের নতুন বাধা হয়ে উঠতে পারে।
উদ্ধারসক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। কিন্তু মানুষকে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়তে না দেওয়া আরও জরুরি। দুর্বল ভবনগুলো একেকটি নীরব টাইমবোমা, ভূমিকম্প কেবল বিস্ফোরণের বোতামটি চাপবে।
হাসপাতাল, বিদ্যালয়, ফায়ার স্টেশন, সেতু, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও পানি-গ্যাস অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঝুঁকিভিত্তিক মূল্যায়ন ও শক্তিশালীকরণ শুরু করতে হবে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডকে শুধু নকশায় অনুমোদনের সিল হিসেবে দেখলে চলবে না; মাটি পরীক্ষা থেকে নকশা, নির্মাণসামগ্রী, প্রকৌশল তদারকি, ব্যবহার পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ— প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রয়োজন একটি পূর্ণমাত্রার জাতীয় ভূমিকম্প মহড়া, যেখানে একই সঙ্গে সড়ক বন্ধ, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যর্থতা, একাধিক অগ্নিকাণ্ড, হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগী, জনতার আতঙ্ক এবং পরাঘাতের পরিস্থিতি অনুশীলন করা হবে।
মহড়া শেষে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে—
ভুল গোপন করলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি সাময়িকভাবে রক্ষা পায়, ভুল শনাক্ত করে সংশোধন করলে রক্ষা পায় মানুষের জীবন।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে নির্মম বৈশিষ্ট্য হলো— এটি কয়েক সেকেন্ডে বহু বছরের অবহেলার হিসাব মিলিয়ে দেয়। কম্পনের পর কমিটি করা যাবে, তদন্ত ঘোষণা করা যাবে; কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সময় ও জীবন ফিরিয়ে আনা যাবে না।
ধ্বংসস্তূপ থেকে একজন মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা বীরত্ব। কিন্তু এমন নগর ও রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে, যেখানে অবহেলার কারণে মানুষকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়তে হবে না। সেটিই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
মাটি কবে কাঁপবে, আমরা জানি না। কিন্তু মাটি কাঁপলে রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে থাকবে, নাকি তার প্রতিষ্ঠানগুলোও ধসে পড়বে— সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আজই। ভূমিকম্পের পরে উদ্ধার নয়, বিপর্যয়ের আগেই জীবন বাঁচাতে হবে।
লেখক: অবসরপ্রাপ্ত মেজর, অগ্নি-দুর্যোগ ও সংকট ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক পরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স

একটি নবনির্বাচিত বা নতুন গঠিত সরকারের সামনে রাষ্ট্র পরিচালনার নানাবিধ সংকট ও চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়ায়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের পথচলা নিছক রুটিন রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; বরং এটি একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ সামলানো, গণআকাঙ্ক্ষা রক্ষা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরুত্থানের এক কঠিন পর
১৭ দিন আগে
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করা দরকার— আমি রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে অন্যায় বলছি না। আমার মূল যুক্তিটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিয়ে— রাজপথকে যদি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে রাখা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
২০ দিন আগে
মানুষের জীবনে কিছু প্রয়োজন আছে, যেগুলো নিয়ে কোনো আপস চলে না। খাদ্য তার প্রথম সারিতে। সকালে শ্রমজীবী মানুষের নাশতার রুটি, দুপুরে পরিবারের ভাতের হাঁড়ি, কৃষকের গোলায় ধান কিংবা দুর্যোগে অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে যাওয়া খাদ্যসহায়তা—সবকিছুর পেছনেই রয়েছে একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। সেই ব্যবস্থাপনার কেন
২২ দিন আগে
বাংলাদেশের গণপরিবহনে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ঢাকার রাস্তায় যখন নারী চালক, নারী সহকারী আর নারী যাত্রীদের নিয়ে বাস চলছে, তখন সেটা দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এই ভালো লাগার ভেতরেই কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, যে প্রশ্নগুলো শুধু বাসের রং নিয়ে নয়, বরং আ
২৩ দিন আগে