
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

বিদেশে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের তহবিল ব্যবহারের অধিকার নিয়ে নতুন করে মতবিরোধে জড়িয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অবমুক্ত করা অর্থ কেবল খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার কাজে ব্যয় করা যাবে। তবে ইরান বলছে, ওই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। একই সময়ে পারমাণবিক পরিদর্শন নিয়েও দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান সম্প্রতি ঘোষিত শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বুধবার (২৪ জুন) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ট্রাম্প বলেছেন, অবমুক্ত করা যেকোনো অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি বলেছেন, ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজেই নেবে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘অনন্তকালের’ জন্য আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে জানিয়েছে, আলোচনায় তারা এমন কোনো ছাড় দেয়নি। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের ফলে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গত সোমবার সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, আর্থিক প্রণোদনা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে ইসরায়েলের সমান্তরাল সামরিক অভিযানসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও ভিন্নমুখী বক্তব্য দিয়েছে। অথচ এসব বিষয়ই গত সপ্তাহে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত দুই দেশের রূপরেখা চুক্তির অন্যতম প্রধান অংশ ছিল।
তবে এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালোই যাচ্ছে।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করেছে। এর ফলে দলটি তাদের পরবর্তী ম্যাচের দুই দিন আগে মেক্সিকোর টিজুয়ানা থেকে সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। আগে তাদের ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হতো।
অন্যদিকে যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনসমর্থনেও ভাটা পড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ট্রাম্পের জনসমর্থন কমার পাশাপাশি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটও প্রেসিডেন্টের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। যদিও পদক্ষেপটি মূলত প্রতীকী, তবু এটি ট্রাম্পের নিজ দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকেই স্পষ্ট করেছে।
রয়টার্স/ইপসোসের এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখন দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও উদ্বেগ বাড়ছিল। তারই প্রতিফলন হিসেবে চলতি মাসে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া একটি প্রস্তাব সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে সমর্থন পায়। ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্টে’র (যুদ্ধ ক্ষমতা আইন) আওতায় কোনো প্রেসিডেন্টকে শত্রুতামূলক পরিস্থিতি থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ দিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে প্রস্তাব পাস হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। তবে এই ভোটের বাস্তব প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নাবিকদের উদ্ধার তৎপরতা
স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত হলেও, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার প্রাথমিক সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত নৌপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
ট্রাম্প বুধবার বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার পরও কেন তেল কোম্পানিগুলো খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম কমাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখতে তিনি বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আমি যা দেখছি, তার চেয়ে পেট্রোলের দাম আরও দ্রুত গতিতে কমা উচিত!”
বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত বুধবার ১ শতাংশেরও বেশি কমেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহের ধারাবাহিক দরপতন আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দাম প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেখানে আটকে পড়া প্রায় ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৬০ দিন ইরান প্রণালিটি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। তবে এরপর তারা শুল্ক বা অন্যান্য ফি আরোপ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার ইরান ও ওমান, যারা এই প্রণালির দুই প্রান্ত নিয়ন্ত্রণ করে, এক যৌথ বিবৃতিতে জলপথটির ওপর নিজেদের ‘সার্বভৌম অধিকারের’ বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন ব্যয় বহনে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।
ওমান আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর জন্য একটি অস্থায়ী করিডোর বা নিরাপদ পথ তৈরির লক্ষ্যে তারা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি বর্তমানে উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করতে সফর করছেন, বলেছেন চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের সুযোগ দেওয়া হবে না।
গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারমাণবিক পরিদর্শন ও অবরুদ্ধ তহবিল নিয়ে বিরোধ
যদিও রূপরেখা চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয়নি, তবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করার কথা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ইরান সুদূর ভবিষ্যৎ (অনন্তকাল!) পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্তরের পারমাণবিক পরিদর্শনে সম্পূর্ণ ও পুরোপুরিভাবে সম্মত হয়েছে।”
তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও তারা কোনো সম্মতি দেয়নি।
বিদেশে অবরুদ্ধ থাকা ইরানি তহবিল ব্যবহারের প্রশ্নেও দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। ট্রাম্প বলেছেন, অবমুক্ত করা যেকোনো অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
অন্যদিকে জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি বলেছেন, ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজেই নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বদলে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চালচিত্র— লাভবান ইরান, শঙ্কিত প্রতিদ্বন্দ্বীরাতবে ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে। ফলে এই সময়ের মধ্যে তেহরান তেল ও তেলজাত পণ্য বিক্রি করতে এবং সেগুলোর মূল্য গ্রহণ করতে পারবে।
এদিকে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সমান্তরাল সামরিক অভিযানও শান্তি প্রক্রিয়ার বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। রাষ্ট্রদূত বাহরাইনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলকে লেবানন থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।
তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখবে এবং ইসরায়েলি সেনা ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি “নস্যাৎ” করতে পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে।
গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও, একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সিভিল ডিফেন্স ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। যদিও গত রোববার থেকে যুদ্ধবিরতি মোটামুটি কার্যকর ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

বিদেশে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের তহবিল ব্যবহারের অধিকার নিয়ে নতুন করে মতবিরোধে জড়িয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অবমুক্ত করা অর্থ কেবল খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার কাজে ব্যয় করা যাবে। তবে ইরান বলছে, ওই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। একই সময়ে পারমাণবিক পরিদর্শন নিয়েও দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান সম্প্রতি ঘোষিত শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বুধবার (২৪ জুন) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ট্রাম্প বলেছেন, অবমুক্ত করা যেকোনো অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি বলেছেন, ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজেই নেবে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘অনন্তকালের’ জন্য আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে জানিয়েছে, আলোচনায় তারা এমন কোনো ছাড় দেয়নি। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের ফলে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গত সোমবার সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, আর্থিক প্রণোদনা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে ইসরায়েলের সমান্তরাল সামরিক অভিযানসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও ভিন্নমুখী বক্তব্য দিয়েছে। অথচ এসব বিষয়ই গত সপ্তাহে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত দুই দেশের রূপরেখা চুক্তির অন্যতম প্রধান অংশ ছিল।
তবে এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালোই যাচ্ছে।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করেছে। এর ফলে দলটি তাদের পরবর্তী ম্যাচের দুই দিন আগে মেক্সিকোর টিজুয়ানা থেকে সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। আগে তাদের ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হতো।
অন্যদিকে যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনসমর্থনেও ভাটা পড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ট্রাম্পের জনসমর্থন কমার পাশাপাশি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটও প্রেসিডেন্টের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। যদিও পদক্ষেপটি মূলত প্রতীকী, তবু এটি ট্রাম্পের নিজ দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকেই স্পষ্ট করেছে।
রয়টার্স/ইপসোসের এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখন দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও উদ্বেগ বাড়ছিল। তারই প্রতিফলন হিসেবে চলতি মাসে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া একটি প্রস্তাব সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে সমর্থন পায়। ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্টে’র (যুদ্ধ ক্ষমতা আইন) আওতায় কোনো প্রেসিডেন্টকে শত্রুতামূলক পরিস্থিতি থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ দিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে প্রস্তাব পাস হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। তবে এই ভোটের বাস্তব প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নাবিকদের উদ্ধার তৎপরতা
স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত হলেও, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার প্রাথমিক সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত নৌপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
ট্রাম্প বুধবার বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার পরও কেন তেল কোম্পানিগুলো খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম কমাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখতে তিনি বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আমি যা দেখছি, তার চেয়ে পেট্রোলের দাম আরও দ্রুত গতিতে কমা উচিত!”
বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত বুধবার ১ শতাংশেরও বেশি কমেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহের ধারাবাহিক দরপতন আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দাম প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেখানে আটকে পড়া প্রায় ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৬০ দিন ইরান প্রণালিটি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। তবে এরপর তারা শুল্ক বা অন্যান্য ফি আরোপ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার ইরান ও ওমান, যারা এই প্রণালির দুই প্রান্ত নিয়ন্ত্রণ করে, এক যৌথ বিবৃতিতে জলপথটির ওপর নিজেদের ‘সার্বভৌম অধিকারের’ বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন ব্যয় বহনে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।
ওমান আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর জন্য একটি অস্থায়ী করিডোর বা নিরাপদ পথ তৈরির লক্ষ্যে তারা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি বর্তমানে উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করতে সফর করছেন, বলেছেন চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের সুযোগ দেওয়া হবে না।
গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারমাণবিক পরিদর্শন ও অবরুদ্ধ তহবিল নিয়ে বিরোধ
যদিও রূপরেখা চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয়নি, তবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করার কথা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ইরান সুদূর ভবিষ্যৎ (অনন্তকাল!) পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্তরের পারমাণবিক পরিদর্শনে সম্পূর্ণ ও পুরোপুরিভাবে সম্মত হয়েছে।”
তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও তারা কোনো সম্মতি দেয়নি।
বিদেশে অবরুদ্ধ থাকা ইরানি তহবিল ব্যবহারের প্রশ্নেও দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। ট্রাম্প বলেছেন, অবমুক্ত করা যেকোনো অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
অন্যদিকে জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি বলেছেন, ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজেই নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বদলে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চালচিত্র— লাভবান ইরান, শঙ্কিত প্রতিদ্বন্দ্বীরাতবে ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে। ফলে এই সময়ের মধ্যে তেহরান তেল ও তেলজাত পণ্য বিক্রি করতে এবং সেগুলোর মূল্য গ্রহণ করতে পারবে।
এদিকে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সমান্তরাল সামরিক অভিযানও শান্তি প্রক্রিয়ার বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। রাষ্ট্রদূত বাহরাইনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলকে লেবানন থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।
তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখবে এবং ইসরায়েলি সেনা ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি “নস্যাৎ” করতে পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে।
গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও, একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সিভিল ডিফেন্স ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। যদিও গত রোববার থেকে যুদ্ধবিরতি মোটামুটি কার্যকর ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর এক বিবৃতিতে বলেন, তদন্তে পাওয়া প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখায়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং তাদের হত্যা করেছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মঙ্গলবার বলেন, সুইজারল্যান্ডে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির কোনো বৈঠক হয়নি। পাশাপাশি জাতিসংঘের এই পারমাণবিক তদারকি সংস্থাকে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ারও কোনো পরিকল্পনা নেই।
১ দিন আগে
মঙ্গলবার (২৩ জুন) লন্ডন ক্লাইমেট অ্যাকশন উইকে বক্তব্য দেন গুতেরেস। সেখানে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন একই সঙ্গে দুটি সংকটের মুখোমুখি— জলবায়ু সংকট ও জ্বালানি সংকট। এই দুই সংকটের মূল উৎস একটিই, আর তা হলো জীবাশ্ম জ্বালানি।
১ দিন আগে