ট্রাম্পকে ঘিরে ‘উত্তেজনা’ এড়াতে বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনই করবে না ন্যাটো!

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বারবার বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে ন্যাটো তাদের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন না করার কথা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষ মেয়াদে তাকে ঘিরে নতুন করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই এমনটি ভাবছে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত এই রাজনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তা জোট।

ন্যাটোর অন্তত ছয়টি কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে এ ভাবনার কথা জানিয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরেই ন্যাটো নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়ে আসছেন। ইরান যুদ্ধে এ সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখলে এ প্রণালি চালু করতে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়েও ট্রাম্প সামরিক অভিযানে সহায়তা না পাওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ জানিয়েছেন।

এ যুদ্ধের মধ্যে ট্রাম্প আগের মতোই ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। ট্রাম্পের এসব বক্তব্যে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোও বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বার্ষিক সম্মেলন হলে সেখানে ট্রাম্পের উপস্থিতি আরও বেশি উত্তেজনা ছড়াবে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

ন্যাটোর ৭৭ বছরের ইতিহাসে শীর্ষ সম্মেলন প্রতিবছরই আয়োজিত হয়েছে, এমন নয়। তবে ২০২১ সাল থেকে প্রতি গ্রীষ্মেই সদস্যদেশগুলোর নেতারা বৈঠকে বসছেন। এ বছর আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এখন কিছু সদস্য দেশ এই গতি কমাতে চাইছে। এক জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় কর্মকর্তা ও পাঁচজন কূটনীতিক জানান, ২০২৭ সালে আলবেনিয়ায় নির্ধারিত সম্মেলন সম্ভবত শরতে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এমনকি ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ বছর ২০২৮ সালে কোনো সম্মেলন আয়োজন করা না-ও হতে পারে বলে অভিমত এসেছে।

আরেকজন কূটনীতিক বলেন, কিছু দেশ দুই বছর পরপর সম্মেলন করার পক্ষে চাপ দিচ্ছে। আলোচনা উঠলেও এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত দেবেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্প একটি বড় কারণ হলেও আরও বিস্তৃত বিষয় এখানে বিবেচনায় রয়েছে। অনেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষক দীর্ঘদিন ধরে মনে করেন, প্রতিবছর সম্মেলন আয়োজনের চাপ থেকে তাৎক্ষণিক ও চটকদার ফল দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে ব্যাহত করে।

এক কূটনীতিক বলেন, ‘খারাপ সম্মেলনের চেয়ে কম সম্মেলনই ভালো। আমাদের কাজ এমনিতেই অনেক। কী করতে হবে তা আমরা জানি।’ আরেকজনের মতে, আলোচনার মান ও সিদ্ধান্তের গুণগত দিকই মুখ্য বিষয়। এগুলোই জোটের শক্তি নির্ধারণ করে।

রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ন্যাটো রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক চালিয়ে যাবে। আর সম্মেলনের মাঝের সময়গুলোতেও মিত্ররা যৌথ নিরাপত্তা নিয়ে পরামর্শ, পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।’

ন্যাটো ও ট্রাম্পকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো ফাইলিস বেরি লিখেছেন, ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলন কমানো হলে ন্যাটো নিজেদের কাজ স্বাভাবিকভাবে চালাতে পারবে এবং সাম্প্রতিক ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের যে নাটকীয়তা দেখা যাচ্ছে, তা কমে আসবে।’

গত সপ্তাহে আটলান্টিক কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বেরি উল্লেখ করেন, স্নায়ুযুদ্ধের সময় ন্যাটো কয়েক দশকে মাত্র আটটি সম্মেলন করেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অনুষ্ঠিত প্রথম তিনটি ন্যাটো সম্মেলনকে তিনি ‘বিতর্কপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন, যা মূলত মিত্রদের কম প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে তার অভিযোগে প্রভাবিত ছিল।

গত বছরের হেগ সম্মেলনের গতিবিধিও অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে ট্রাম্পের চাপেই। তিনি ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোকে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের জন্য বরাদ্দের দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত তারা জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সরাসরি প্রতিরক্ষা ও ১ দশমিক ৫ শতাংশ নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয়ে সম্মত হয়। বড় কোনো ‘নাটক’ ছাড়াই সম্মেলন শেষ হওয়াটাই তখন ‘সাফল্য’ হিসেবে দেখা হয়।

তবে চলতি বছরের সম্মেলন উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মিত্ররা প্রত্যাশিত সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন— যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি মেনে চলবে কি না। তিনি এমনকি জোট ছাড়ার কথাও বিবেচনা করছেন বলে জানান।

এর কয়েক মাস আগে ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দাবি তোলেন, যা ন্যাটোর আরেক সদস্যদেশের ভূখণ্ড। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও ট্রাম্প ন্যাটো ছাড়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালের ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প অন্য সদস্যদের কম প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিবাদে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ওই সময় ন্যাটোর মহাসচিব ছিলেন জেনস স্টলেনবার্গ। তিনি স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) যদি সত্যিই প্রতিবাদ জানিয়ে বেরিয়ে যেতেন, তাহলে ভেঙে পড়া ন্যাটোকে সামাল দেওয়ার দায় আমাদের ওপরই পড়ত।’

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের যুদ্ধে ৪২টি বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন কংগ্রেসের অধীন সংস্থা 'কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস' (সিআরএস)-এর সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব গোপন রাখতে চাইলেও সিআরএস-এর এই প্রতিবেদন মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের বড় বিপর্যয়কে প্রকাশ্যে এনেছে।

৮ ঘণ্টা আগে

জাতিসংঘের বিশেষ দূতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলবানেজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তা, কোম্পানি ও ব্যবসায়িক নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। খবর আল আরাবিয়ার।

১০ ঘণ্টা আগে

কিউবার রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চে ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস এবং আরমান্দো আলেহান্দ্রে জুনিয়র, কার্লোস আলবার্তো কস্তা, মারিও মানুয়েল দে লা পেনিয়া ও পাবলো মোরালেসের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক চারটি হত্যার অভিযোগও আ

১০ ঘণ্টা আগে

শর্ত না মানলে ইরানে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত একটি বাস্তবসম্মত সমঝোতায় আসতে রাজি হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ সময়, শক্তি এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে। এই চুক্তিটি অত্যন্ত দ্রুত, এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেও সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

১৩ ঘণ্টা আগে