ইরান যুদ্ধের পরিণতি কি আফগানিস্তান-ইরাকের মতো হবে?

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি ও যুদ্ধ-পরবর্তী অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতীকী চিত্র। ছবি: এআই

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল কয়েকটি স্পষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে— দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে দুর্বল করা এবং তেহরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া। কিন্তু ছয় মাসের যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন আর শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে কে এগিয়ে, সেটি নয়।

প্রশ্ন হলো— যুদ্ধ শেষ হলে ইরানের কী হবে? ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিজয়ের পর যে দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত অধ্যায় শুরু হয়েছিল, ইরানও কি সেদিকেই যাচ্ছে?

প্রশ্নটি নিছক ঐতিহাসিক তুলনা নয়। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার উৎখাত এবং ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের সরকার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র বুঝেছিল, একটি রাষ্ট্রের সরকারকে সামরিক শক্তিতে পরাজিত করা আর সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করা এক বিষয় নয়। সরকার পতনের পর তৈরি হওয়া ক্ষমতার শূন্যতা, স্থানীয় বিভাজন, সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সামরিক বিজয়কে জটিল করে তোলে।

ইরানের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বড়। কারণ এটি ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দুর্বল রাষ্ট্র নয়। প্রায় ৯ কোটি মানুষের দেশটির রয়েছে শক্তিশালী সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো, বিশাল ভূখণ্ড, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক এবং নিজস্ব জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিচয়। ফলে তেহরানে সরকার পতন ঘটানো গেলেও ‘পরের দিন’ কী হবে, সেটিই হতে পারে আসল যুদ্ধ।

সামরিক বিজয় মানেই রাজনৈতিক বিজয় নয়

ইরাক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল— একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্বকে উৎখাত করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোকে নতুন করে দাঁড় করানো অত্যন্ত কঠিন।

২০০৩ সালে বাগদাদ দখলের পর যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল, সাদ্দাম-পরবর্তী ইরাকে দ্রুত একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা দাঁড় করানো সম্ভব হবে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়া, সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও বিদ্রোহের বিস্তার দেশটিকে দীর্ঘ অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়। পরবর্তী সময়ে আল-কায়েদা ইন ইরাক এবং শেষ পর্যন্ত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান সেই অস্থিতিশীলতাকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।

আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতাও ভিন্ন ছিল না। ২০০১ সালে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় দুই দশক দেশটিতে সামরিক ও রাজনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখে। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবানই আবার কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

৯/১১-এর ২৫ বছর পর এই দুই যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ‘ফরএভার ওয়ারে’র প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের ইরান অভিযানকে আফগানিস্তান ও ইরাকের সেই দীর্ঘ যুদ্ধগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের বড় উদ্বেগ হলো, যুদ্ধ শুরুর সময় একটি পরিষ্কার প্রস্থান-কৌশল না থাকলে সামরিক অভিযান নিজস্ব গতিতে দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ইরানে সেই ঝুঁকি আরও তীব্র। কারণ যুক্তরাষ্ট্র যদি শুধু পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে ফিরে যায়, তবু প্রশ্ন থেকে যাবে— ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কে চালাবে? আর যদি বর্তমান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তার জায়গায় কোন শক্তি আসবে?

ক্ষমতার শূন্যতার ঝুঁকি

ইরানের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো ক্ষমতার শূন্যতা। কেন্দ্রীয় সরকার দুর্বল হয়ে পড়লে পরিস্থিতি সরাসরি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দিকে যাবে— এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং প্রথম পর্যায়ে ক্ষমতার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে সামরিক বাহিনী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), নিরাপত্তা কাঠামো, রাজনীতিক, বিরোধী গোষ্ঠী, রাজতন্ত্রপন্থি শক্তি এবং বিভিন্ন জাতিগত ও আঞ্চলিক সংগঠন।

এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে কুর্দি, বেলুচ, আরব ও অন্যান্য জাতিগত প্রশ্ন। অর্থাৎ, বর্তমান শাসনব্যবস্থা দুর্বল হলেই ‘গণতন্ত্র’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নেবে— এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে রাষ্ট্র টিকে থাকবে, কিন্তু কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে যাবে।

এ ধরনের পরিস্থিতিই ইরাকের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি করেছিল। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতার ক্ষেত্র তৈরি করে। ইরানে একই ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

ইরানের সীমান্ত রয়েছে ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে। দক্ষিণে রয়েছে পারস্য উপসাগর। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা খুব দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কোন পথে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

এখানেই ইরান ও ইরাক-আফগানিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বড় আকারের স্থলবাহিনী মোতায়েন করেছিল। ইরানে এখন পর্যন্ত যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনী। ফলে ওয়াশিংটনের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় পথ হতে পারে— ধ্বংস করো, দুর্বল করো এবং বেরিয়ে যাও।

কিন্তু এখানেই রয়েছে কৌশলগত ফাঁদ। যদি ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো আংশিকভাবে ধ্বংস হয়, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার টিকে থাকে, তাহলে একটি দুর্বল অথচ প্রতিশোধপরায়ণ ইরান তৈরি হতে পারে।

আর যদি সরকারও ভেঙে পড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ থাকবে— একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিরাপত্তা দেওয়া, অথবা দেশটির ভাগ্য ইরানিদের হাতে ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া।

প্রথম পথের অর্থ দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির ঝুঁকি। দ্বিতীয় পথ ঠেলে দেবে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। ইরাকের শিক্ষা হলো— দ্বিতীয় পথ বেছে নিলে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হতে পারে, আর প্রথম পথ বেছে নিলে যুদ্ধের শেষ দেখা কঠিন হয়ে যায়।

সরকার বদল হলে কার হাতে যাবে ইরান?

এ প্রশ্নটিই সম্ভবত যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাঁধা। ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়েও এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন এমন একটি যুদ্ধ-পরবর্তী কৌশল তৈরি করছে, যার লক্ষ্য ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং একই সঙ্গে ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা। পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কিন্তু এখানে একটি মৌলিক সমস্যা আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বর্তমান সরকারকে সরিয়ে দিতে চাইলে সেই জায়গায় কাকে বসাবে?

রাজতন্ত্রপন্থি রেজা পাহলভি একটি সম্ভাব্য নাম হলেও পুরো ইরানে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটা, সেটি প্রশ্নের বিষয়। সংস্কারপন্থি বা প্রজাতান্ত্রিক বিরোধীদের মধ্যেও ঐক্য নেই। আবার আইআরজিসির মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হলে এর অস্ত্র ও সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখাও কঠিন হতে পারে।

ইরাকের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই— বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি তৈরি না করে শুধু পুরোনো ব্যবস্থাকে ধ্বংস করলে ‘নতুন সরকার’ পাওয়া যায় না; বরং তৈরি হয় নতুন ক্ষমতার লড়াই।

ইরানে ভাঙন দেখা দিলে বদলে যাবে মধ্যপ্রাচ্যও

ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হলে আরেকটি বড় পরিবর্তন ঘটবে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে। গত কয়েক দশকে ইরান ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে বিভিন্ন মিত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে একটি আঞ্চলিক প্রভাববলয় তৈরি করেছে। যুদ্ধ এরই মধ্যে সেই নেটওয়ার্ককে পুনর্গঠনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইরাকে এখন ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তারা সরকারের নির্দেশ মানতে অনিচ্ছুক। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে প্রায় ৫০ হাজার যোদ্ধাসমৃদ্ধ শক্তিশালী মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

অর্থাৎ, ইরানের প্রভাব কমলেও সেই প্রভাবের জায়গা রাতারাতি শূন্য হবে না। বরং ইরান দুর্বল হলে তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

এরই মধ্যে হুতিদের নতুন করে শক্তিশালী হয়ে ওঠা তার একটি উদাহরণ। ইয়েমেনে হুতিদের মোখা দখল এবং বাব এল-মান্দেবের দিকে অগ্রসর হওয়া দেখাচ্ছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাব শুধু ইরানের সীমান্তে আটকে নেই। ফলে ইরানকে দুর্বল করার অভিযান উল্টো আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও ছড়িয়ে দিতে পারে।

ইরাক-আফগানিস্তানের সঙ্গে মিলবে না ইরান

চলমান পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইরানের ভবিষ্যৎকে সরাসরি ইরাক বা আফগানিস্তানের সঙ্গে এক করে দেখা ভুল হবে।

ইরানের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অনেক বেশি শক্তিশালী। দেশটির জাতীয় পরিচয়ও অত্যন্ত দৃঢ়। এমনকি ইসলামিক রিপাবলিকের বিরোধীরাও অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন। অর্থাৎ, বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে ইরানিরা বিদেশি বাহিনীকে স্বাগত জানাবে।

বরং বাইরের হামলা জাতীয়তাবাদকে শক্তিশালী করতে পারে এবং শাসকগোষ্ঠীকে নিজেদের বিরোধীদের ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ দিতে পারে। এ কারণেই যুদ্ধের সামরিক সাফল্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দেয় না।

আসল পরীক্ষা যুদ্ধের পর

ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো যুদ্ধ চলাকালীন নয়, যুদ্ধের পরই পাওয়া যাবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তাহলে এটি হবে তুলনামূলকভাবে সীমিত যুদ্ধের পরিণতি।

কিন্তু যদি যুদ্ধের পর ইরানে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিরে আসতে হয়, তাহলে ২০০১ ও ২০০৩ সালের ছায়া সত্যিই ফিরে আসবে।

আর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে যদি ইরান ভেঙে পড়ার পথে যায়, কিন্তু কেউ তাকে স্থিতিশীল করার দায়িত্ব নিতে না চায়। কারণ ইরাক ও আফগানিস্তানের শিক্ষা শুধু এই নয় যে দীর্ঘ যুদ্ধ ব্যয়বহুল। আরও বড় শিক্ষা হলো— একটি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা এবং একটি রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা কাজ।

ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রথম কাজটি সফলভাবে করতে পারে, কিন্তু দ্বিতীয়টির কোনো পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিজয়ও শেষ পর্যন্ত পরিণত হতে পারে সবচেয়ে বড় কৌশলগত পরাজয়ে।

তাই প্রশ্নটি এখন শুধু ‘ইরান যুদ্ধে হারবে কি না’ নয়, আসল প্রশ্ন হলো— যুদ্ধের পর ইরান কেমন রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়াবে?

আর সেই উত্তরই ঠিক করবে, ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ ইতিহাসে একটি সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে লেখা হবে, নাকি আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো আরেকটি দীর্ঘ, অনিশ্চিত এবং বহু প্রজন্মব্যাপী সংঘাতের সূচনা হিসেবে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ

শুক্রবার ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোকায় হুথি যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এর এক দিন আগে হুথিরা লোহিত সাগরের পুরো উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছিল।

১৩ ঘণ্টা আগে

সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিটি ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সেখানে থাকা প্রধান অস্ত্রের গুদাম এবং ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার’ লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়।

১৪ ঘণ্টা আগে

ব্রিকসে ইরান-আমিরাত বরফ গলার আভাস

ভারতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। তার মতে, ভারত কঠিন আলোচনাগুলো চালু রাখার সুযোগ তৈরি করেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো একই টেবিলে বসতে পারে, কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করতে পারে এবং যেসব বিষয়ে তাদের স্বার্থের মিল রয়েছ

১ দিন আগে

জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যার্পণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে: আনোয়ার ইব্রাহিম

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন, পিস টিভিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরুর পর ২০১৬ সালে তিনি মালয়েশিয়ায় চলে যান। পরে দেশটিতে তাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

১ দিন আগে
Advertisement