চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান-তাইওয়ান-বাণিজ্যসহ যা কিছু আলোচনায়

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ৩০ অক্টোবর ২০২৫। ছবি: রয়টার্স

বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। দুই বৈশ্বিক পরাশক্তির শীর্ষ নেতাদের এ বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসবে ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান, পারমাণবিক অস্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও চলমান বাণিজ্য বিরোধসহ একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যু।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প বেইজিং পৌঁছাবেন বুধবার (১২ মে)। পরের দুই দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। ২০১৭ সালের পর এটিই হবে ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর।

বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির শীর্ষ নেতাদের এই মুখোমুখি বৈঠক এমন একসময়ে হচ্ছে, যখন বাণিজ্য যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং আঞ্চলিক উত্তেজনায় ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক আবারও চাপে পড়েছে।

বাণিজ্যে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে উভয় দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে নতুন ফোরাম গঠনের বিষয়ে একমত হতে পারে। ‘বোর্ড অব ট্রেড’ এবং ‘বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ নামে দুটি নতুন কাঠামো ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ ছাড়া চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানির নতুন ঘোষণা দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ে যে সাময়িক সমঝোতা হয়েছিল, সেটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে ট্রাম্পের এ সফরে। তবে এ আলোচনা থেকে চুক্তির আনুষ্ঠানিক সম্প্রসারণ ঘোষণা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘চুক্তিটির মেয়াদ এখনই শেষ হচ্ছে না। তবে উপযুক্ত সময়ে এর সম্ভাব্য সম্প্রসারণ ঘোষণা করা হবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

আলোচনায় ইরান ও রাশিয়া

ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে যাচ্ছে ইরান। চীন এখনো ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ওয়াশিংটন চাইছে, বেইজিং যেন তার প্রভাব ব্যবহার করে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি করায় এবং চলমান সংঘাত প্রশমনে ভূমিকা রাখে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন চীনের রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে মস্কোকে দেওয়া অর্থনৈতিক সহায়তা, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও সম্ভাব্য অস্ত্র উপাদান সরবরাহ নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান ও রাশিয়া প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। চীন যেভাবে ওই দুই রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে, সেটি আলোচনায় থাকবে।’

তাইওয়ান ইস্যুতে চাপা উত্তেজনা

অন্যদিকে তাইওয়ান প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থানে চীন দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তুষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপটির প্রধান আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী।

বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে আসছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির আশপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাইওয়ান নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

এআই ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়েও আলোচনা

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চীনের দ্রুত অগ্রসরমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এআই ব্যবহার ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।

একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এআই বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাত এড়াতে আমরা আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি করতে চাই।’

এ ছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন চীনের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সংলাপ শুরু করতে চাইলেও বেইজিং এ বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ব্যক্তিগত পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তারা এখনই কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী নয়।

এর আগে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়েছিল। তখন দুই দেশ তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়। ওই বাণিজ্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যে শতকরা তিন অঙ্কের শুল্ক আরোপ করেছিল এবং পালটা পদক্ষেপ হিসেবে চীন বৈশ্বিক রেয়ার আর্থ সরবরাহ সীমিত করার হুমকি দিয়েছিল।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ট্রাম্পের আরোপ করা অনেক শুল্কের আইনি ভিত্তি ছিল না। তবে ট্রাম্প এরই মধ্যে বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে আবারও কিছু শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি চুক্তি, ট্রাম্প বললেন ‘এবার তেল সচল হোক!’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এতদ্বারা হরমুজ প্রণালি কোনো টোল বা শুল্ক ছাড়াই উন্মুক্ত করার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি।’ বিশ্ববাসীর উদ্দেশে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। এবার তেল স

৬ ঘণ্টা আগে

ইউরেনিয়াম মজুত পাতলা করতে সম্মত হয়েছে ইরান: রয়টার্স

ইরানি এক কর্মকর্তার বরাতে রোববার (১৪ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ফের চালু, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২১ ঘণ্টা আগে

দারিদ্র্যে নতুন রেকর্ড গড়ল পাকিস্তান!

সার্ভেতে আয় বৈষম্য বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে এসেছে। পাশাপাশি একটি পৃথক বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা কিংবা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে লাখ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

১ দিন আগে

ইরানের মানুষের মনোবল ভাঙতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: আইআরজিসি

গেল বছরের ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু আলোচনার মাঝেই, তেহরানে অতর্কিত বিমান হামলা চালায় তেল আবিব। পরে হামলায় যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রও। পাল্টা জবাবে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনা ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় আইআরজিসি। পরে ১২ দিনের সংঘাত শেষ যুদ্ধের বন্ধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

১ দিন আগে