হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মাইন বিস্ফোরণ, ভয়াবহ আগুন

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে মাইন বিস্ফোরণে দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে জাহাজ দুটির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভুল নির্দেশনায় বিভ্রান্ত হয়ে ট্যাঙ্কার দুটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশের একটি মাইনক্ষেত্রে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকে পেতে রাখা নৌ-বোমার (মাইন) আঘাতে জাহাজ দুটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজ দুটির নাম, মালিকানা কিংবা এতে থাকা নাবিকদের হতাহতের বিষয়ে এলিট বাহিনীটি এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর দাবি, মাইনক্ষেত্রে প্রবেশের আগেই ট্যাঙ্কার দুটিকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে। একই সাথে তারা নাবিকদের নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রের ছড়ানো ‘বিভ্রান্তি’ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি
এই ঘটনার পর হরমুজ প্রণালিকে ‘অত্যন্ত অনিরাপদ’ আখ্যা দিয়েছে আইআরজিসি। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তেল, গ্যাস বা রাসায়নিক সার রপ্তানির কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।
সংঘাতের পটভূমি: মার্কিন বাহিনী টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ করার পরপরই এই মাইন বিস্ফোরণের খবরটি সামনে এলো।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার রাতভর যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে নিখুঁত নিশানায় এই হামলা চালানো হয়েছে। মূলত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, লজিস্টিক অবকাঠামো এবং সামরিক ড্রোন ঘাঁটি লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী এ অভিযান চালায়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক বিমান হামলা চালাচ্ছে, যার বিপরীতে ইরানও হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিজস্ব উপকূলীয় রুট বাদে অন্য কোনো পথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে না। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আরও প্রকট হলো।

















