কোমে আলি খামেনির শোকযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন লাখো শোকাহত মানুষ। রয়টার্স ফাইল ছবি
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন লাখো শোকাহত মানুষ। রয়টার্স ফাইল ছবি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের অংশ হিসেবে দেশটির ধর্মীয় নগরী কোমে শুরু হয়েছে বিশাল শোকযাত্রা। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় জামকারান মসজিদে জানাজার নামাজের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

জানাজার নামাজে ইমামতি করেন প্রবীণ আলেম আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাভাদি আমোলি। পরে শোকযাত্রা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বুলেভার্ড হয়ে হযরত ফাতিমা মাসুমাহ (সা.)–এর মাজারের দিকে অগ্রসর হয়।

তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়েছে, আকাশ থেকে তোলা ছবিতে কোমে খামেনির বিদায় ও জানাজার অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। শোকযাত্রায় ইরানের পাশাপাশি তুরস্ক, ইরাক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলিম প্রতিনিধিদলও অংশ নেয়।

এর আগে সোমবার রাজধানী তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ভোর থেকেই সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার শুরুতে নিজ বাসভবনে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য।

মার্চ মাসে শেষকৃত্য আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরে গত শুক্রবার ইরানজুড়ে সপ্তাহব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এর অংশ হিসেবে বুধবার খামেনির কফিন প্রতিবেশী দেশ ইরাকে নেওয়া হবে। সেখানে নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা ও জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ইরানের মিত্র ও সমমনা শিয়া গোষ্ঠীগুলোর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এরপর বৃহস্পতিবার ইরানের মাশহাদ শহরে আরেকটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে হযরত ইমাম রেজার (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে।

গত শুক্রবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর দিন বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তী দুই দিন তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মুসাল্লায় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে লাখ লাখ শোকাহত মানুষ অংশ নেন।

সেখানে কোরআন তিলাওয়াত, শোকগাথা এবং প্রতিশোধের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে ইরানিদের অবিচল লড়াইয়ের সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর মধ্যে রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফের উপস্থিতিতে খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement