বৈশ্বিক তেলের বাজারে ‘রেড জোনে’র শঙ্কা জ্বালানি সংস্থার প্রধানের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
বৃহস্পতিবার লন্ডনের চ্যাথাম হাউজে এক অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল। ছবি: চ্যাথাম হাউজ

গ্রীষ্মকালীন জ্বালানির চাহিদা যখন ক্রমেই বাড়ছে, এমন সময় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ থাকা ও তেলের মজুত ক্রমশ কমে আসায় বৈশ্বিক তেলের বাজার ‘রেড জোনে’ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আসছে জুলাই-আগস্টেই দেখা দিতে পারে এমন কঠিন পরিস্থিতি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) লন্ডনের চ্যাথাম হাউজে ইরান যুদ্ধের জের ধরে বৈশ্বিকভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন আশঙ্কার কথা বলেন তিনি।

বিরোল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, চলমান পরিস্থিতির কোনো উন্নতি যদি আমরা না করতে পারি, তাহলে সম্ভবত আমরা আগামী জুলাই বা আগস্টেই রেড জোনে ঢুকে পড়তে পারি।

‘রেড জোন’ কী?

ফাতিহ বিরোল তার বক্তৃতায় ‘রেড জোনে’র কথা উল্লেখ করলেও এটি দিয়ে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলেই তার আশঙ্কার দিকটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা করলে শুরু হয় ইরান যুদ্ধ। এ যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ইরান, যে প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিকভাবে সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। দেশে দেশে দেখা দেয় তেলের সংকট, বেড়ে যায় দাম।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ৩২ সদস্য দেশ সমন্বিত কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড় করছে, যেখান থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লাখ ব্যারেল হারে তেল আসছে বাজারে আসছে। এই কৌশলগত মজুত থেকে এর আগে কখনোই এত বেশি পরিমাণে তেল ছাড়া হয়নি।

রয়টার্সের হিসাব বলছে, এ গতিতে চললে প্রাথমিক ৪০ কোটি ব্যারেলের মজুত আগস্টের শুরুতেই শেষ হয়ে যাবে। ফাতিহ বিরোল সরাসরি উল্লেখ না করলেও সম্ভবত সেই মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার সময়সীমা মাথায় রেখেই জুলাই-আগস্টে ‘রেড জোন’ দেখতে পাচ্ছেন। অবশ্য তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আইইএ আরও মজুত ছাড় দিতে প্রস্তুত।

সংকট কতটা গভীর

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা ও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন এক কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট।

বিরোল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে বাজারের উদ্বৃত্ত তেলের মজুত, আইইএর সমন্বিত ৪০ কোটি ব্যারেলের কৌশলগত মজুত ছাড় এবং বাণিজ্যিক মজুত থেকে সরবরাহ— এই তিনটি মিলিয়েও সংকট সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘এ সংকটের সমাধান একটিই— হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ ও শর্তহীনভাবে খুলে দেওয়া।’

মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগবে

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের তেল উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিরোল জানান, এই সক্ষমতা যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় লেগে যাবে, দেশভেদে এই সময়কাল ভিন্ন ভিন্নও হবে।

ইরাককে নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোল। তেল থেকে রাজস্ব কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মজুত সক্ষমতার অভাবে ইরাককে বহু তেলক্ষেত্র বন্ধ করে দিতে হয়েছে, যেগুলো আবার চালু করা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে তাদের পুনরুদ্ধার তুলনামূলক সহজ হতে পারে বলে মনে করেন বিরোল।

তেলের দাম এখনো চড়া

ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই বৈশ্বিক তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। শুরুর দিকে একটানা বাড়তে থাকে তেলের দাম। যুদ্ধপূর্ব বাজারে যেখানে অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম (ব্রেন্ট ক্রুড) ছিল ৬৫ ডলার, তা একপর্যায়ে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পরে কিছুটা কমলেও এখনো প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামছে না। বৃহস্পতিবার সবশেষ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১০৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বড় সুবিধা পাবে আইআরজিসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।

৬ ঘণ্টা আগে

‘বিশ্বাসঘাতক’ ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষোভ, এককভাবে লড়াইয়ের পক্ষে ইসরায়েলিরা

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।

৬ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

৯ ঘণ্টা আগে

ইরান ইস্যুই গড়তে পারে জে ডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী এ ধরনের হাই-প্রোফাইল আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। কিন্তু ট্রাম্প দৃশ্যত রুবিওর পরিবর্তে ভ্যান্সকেই সামনে নিয়ে এসেছেন। ফলে প্রশাসনের ভেতরে রুবিওর প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৯ ঘণ্টা আগে