
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তেহরানের রাজনীতিবিদদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা, ইস্পাত কারখানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলার কারণে এনপিটি চুক্তিতে থাকা ‘অর্থহীন’ হয়ে পড়েছে।
গত শুক্রবার রাতে ইরানের সংসদীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (আগে টুইটার) বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক চুক্তির অংশ হয়ে থাকা এখন আমাদের জন্য কোনো কাজে আসছে না।’
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি মালেক শারিয়াতি বলেছেন, ইরানের সংসদে ইতোমধ্যে একটি জরুরি বিল জমা দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত পর্যালোচনার জন্য তোলা হবে। প্রস্তাবিত এই বিলে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সব বিধিনিষেধ বাতিল করার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি এনপিটির বদলে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) ও ব্রিকসের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়নে নতুন চুক্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এই বিল সংসদে পাস হলেও তা কার্যকর করতে ইরানের ক্ষমতাধর গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ
তেহরান জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। সম্প্রতি আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, ‘পারমাণবিক যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো পথে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।’ এ মন্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ মনে করছে ইরান।
দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের আইএইএর প্রধান গ্রোসিকে ‘অপরাধের সহযোগী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা না জানিয়ে শত্রুদের উসকানি দিচ্ছেন, যা ইরানকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে।’
হামলার তীব্রতায় অস্থির ইরান, ব্যাহত জনজীবন
গত শুক্রবার থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার তীব্রতা বেড়েছে। ইয়াজদে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র এবং আরাকের হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্সে বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যা বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ ছাড়া ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ইস্পাতশিল্পও আক্রান্ত হয়েছে। ইসফাহান ও আহভাজের সব ইস্পাত কারখানার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উৎপাদন লাইন ধ্বংস হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতি এতে আরও বেশি চাপে পড়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে তেহরানের ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে গবেষণা ও শিক্ষা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তবে কেউ হতাহত হননি। এ ছাড়া কারাজ, ইয়াজদ, শিরাজ, তাবরিজ, বুশেহরসহ একাধিক শহরে বড় ধরনের বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
গত দুই দিনে তেহরানে বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সরকারের নির্দেশে দেশ জুড়ে ইন্টারনেট প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময়ও একইভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে নিয়মিত এমন ভিডিও প্রকাশিত হচ্ছে, যেখানে নাগরিকদের ‘স্বীকারোক্তি’ দেখানো হচ্ছে। এক ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য ভিডিও করার অভিযোগে এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেহরানের আকাশ ও রাজপথ এখন নিরাপত্তা বাহিনীর দখলে। সাধারণ মানুষ একদিকে যুদ্ধের আতঙ্কে, অন্যদিকে আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধে— সব মিলিয়ে ইরানের পরিস্থিতি অস্থির-উত্তাল-থমথমে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তেহরানের রাজনীতিবিদদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা, ইস্পাত কারখানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলার কারণে এনপিটি চুক্তিতে থাকা ‘অর্থহীন’ হয়ে পড়েছে।
গত শুক্রবার রাতে ইরানের সংসদীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (আগে টুইটার) বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক চুক্তির অংশ হয়ে থাকা এখন আমাদের জন্য কোনো কাজে আসছে না।’
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি মালেক শারিয়াতি বলেছেন, ইরানের সংসদে ইতোমধ্যে একটি জরুরি বিল জমা দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত পর্যালোচনার জন্য তোলা হবে। প্রস্তাবিত এই বিলে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সব বিধিনিষেধ বাতিল করার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি এনপিটির বদলে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) ও ব্রিকসের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়নে নতুন চুক্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এই বিল সংসদে পাস হলেও তা কার্যকর করতে ইরানের ক্ষমতাধর গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ
তেহরান জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। সম্প্রতি আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, ‘পারমাণবিক যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো পথে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।’ এ মন্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ মনে করছে ইরান।
দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের আইএইএর প্রধান গ্রোসিকে ‘অপরাধের সহযোগী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা না জানিয়ে শত্রুদের উসকানি দিচ্ছেন, যা ইরানকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে।’
হামলার তীব্রতায় অস্থির ইরান, ব্যাহত জনজীবন
গত শুক্রবার থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার তীব্রতা বেড়েছে। ইয়াজদে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র এবং আরাকের হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্সে বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যা বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ ছাড়া ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ইস্পাতশিল্পও আক্রান্ত হয়েছে। ইসফাহান ও আহভাজের সব ইস্পাত কারখানার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উৎপাদন লাইন ধ্বংস হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতি এতে আরও বেশি চাপে পড়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে তেহরানের ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে গবেষণা ও শিক্ষা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তবে কেউ হতাহত হননি। এ ছাড়া কারাজ, ইয়াজদ, শিরাজ, তাবরিজ, বুশেহরসহ একাধিক শহরে বড় ধরনের বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
গত দুই দিনে তেহরানে বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সরকারের নির্দেশে দেশ জুড়ে ইন্টারনেট প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময়ও একইভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে নিয়মিত এমন ভিডিও প্রকাশিত হচ্ছে, যেখানে নাগরিকদের ‘স্বীকারোক্তি’ দেখানো হচ্ছে। এক ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য ভিডিও করার অভিযোগে এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেহরানের আকাশ ও রাজপথ এখন নিরাপত্তা বাহিনীর দখলে। সাধারণ মানুষ একদিকে যুদ্ধের আতঙ্কে, অন্যদিকে আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধে— সব মিলিয়ে ইরানের পরিস্থিতি অস্থির-উত্তাল-থমথমে।
সূত্র: আল জাজিরা

পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট ক্যাবল ও ক্লাউড অবকাঠামোকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, বিশ্লেষকরা এটি সম্ভাব্য ‘গোপন হুমকি’ হিসেবে দেখছেন।
১০ ঘণ্টা আগে
এবার যুক্তরাষ্ট্রের নৌ বাহিনীমন্ত্রী জন ফেলান তার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন তার সরে দাঁড়ানোর খবর দিলেও একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান বলছে, তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
লড়াইয়ের বদলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এখন মূলত "অবরোধ যুদ্ধ" চলছে, যেখানে দুই পক্ষই বাণিজ্যিক জাহাজ আটক ও জব্দে শক্তি প্রয়োগ করছে।
১২ ঘণ্টা আগে
সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মিলে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী প্রথম দফার ভোটের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন, যাকে বলা হচ্ছ ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’।
১৪ ঘণ্টা আগে