
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বিজয় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে। অঞ্চলটি সত্যিই বদলাচ্ছে। তবে তাদের কল্পনা অনুযায়ী নয়।
ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র পরাজিত হয়নি। বরং যুদ্ধ ১০০ দিনে পৌঁছানোর পর এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হয়ে উঠেছে একটি দীর্ঘস্থায়ী, ক্ষয়িষ্ণু ও অনির্দিষ্ট সংকট— যেখানে মাঝেমধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকবে, আবার হঠাৎ করেই সংঘাত নতুন করে জ্বলে উঠবে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, তেহরানের শাসকগোষ্ঠী তাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনা সেই বাস্তবতার নতুন স্মারক। এটি দেখিয়েছে, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করার সক্ষমতা রাখে এবং যুদ্ধ থেকে বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে আসার সংকল্পও হারায়নি।
তেহরানের দৃষ্টিতে বিজয়ের অর্থ শুধু টিকে থাকা নয়, বরং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় এবং ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা।
হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটন এরই মধ্যে জবাব দিয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো, যেন শক্ত অবস্থানের বার্তা যায়, আবার স্থবির হয়ে পড়া কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটিও পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে।
অ্যাপাচির ক্রুরা বেঁচে গেছেন। তারা নিহত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে যেতে পারত।
ট্রাম্প এখনো এমন একটি চুক্তির আশায় আছেন, যা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথ তৈরি করবে।
কারণ যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জনপ্রিয় নয়। ট্রাম্প এমন একটি পথ খুঁজছেন, যেটিকে তিনি রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। কিন্তু সেটি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ইতিহাসের পুরোনো একটি শিক্ষা এখন আবার সামনে এসেছে— যুদ্ধ শুরু করা যত সহজ, স্পষ্ট বিজয় নিয়ে তা শেষ করা তত কঠিন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তখন দুই নেতার বক্তব্যেই ছিল এক ধরনের ঐতিহাসিক আত্মবিশ্বাস। ট্রাম্প তখন মনে করছিলেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইসলামি শাসনব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্ট থেকে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। আমরা কাজ শেষ করলে নিজেদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নাও।’
পরদিন তেল আবিবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাদে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহুও প্রায় একই সুরে কথা বলেন।
চার দশক ধরে ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখে আসা নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছিলেন, এবার সেই ‘সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে’ চূড়ান্ত আঘাত করা হবে।
দুই নেতার বক্তব্যেই একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল— তারা বিশ্বাস করতেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কাছে পরিস্থিতি অনুকূল বলেই মনে হয়েছিল। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। হামাস ও হিজবুল্লাহ বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনও তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে দুর্বল করেছিল।
এমন অবস্থায় তারা ধরে নিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বকে হত্যা করলেই পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতা, নির্মমতা ও কৌশলগত প্রস্তুতিকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে বহিরাগত হুমকির মুখে থাকা ইরান তার নিরাপত্তা কাঠামো এমনভাবে গড়ে তুলেছে, যেন নেতৃত্বে আঘাত এলেও রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে। ফলে ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল আসেনি।
যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য সম্ভবত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেই পেয়েছে তেহরান। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ পথ বন্ধ করে দিয়ে ইরান দেখিয়ে দিয়েছে, চাইলে তারা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
তেহরানের নতুন নেতৃত্ব মনে করে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে হামলার আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য করার জন্য এই সক্ষমতাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা। তাদের বিশ্বাস, কেবল কূটনৈতিক ভাষা নয়, প্রতিপক্ষকে ব্যথা অনুভব করানোর মতো সক্ষমতাই ভবিষ্যৎ আক্রমণ ঠেকাতে পারে।
ইরানের কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লেবানন ও উপসাগরীয় যুদ্ধক্ষেত্রকে একসূত্রে বেঁধে দেওয়া। তেহরানের বার্তা স্পষ্ট— ইসরাইল যদি লেবাননে হামলা চালাতে থাকে এবং হিজবুল্লাহকে ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বড় চুক্তির আশা করা যাবে না।
সম্প্রতি বৈরুতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে নেতানিয়াহুকে সরে আসতে বলেছিলেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তিনি স্বীকার করেছেন, লেবাননের পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় সংকট পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে নেতানিয়াহু এই অবস্থান মানতে নারাজ। তার মতে, দুই সংকটকে একসঙ্গে দেখাটা ‘অসহনীয় ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রয়োজন এবং নেতানিয়াহুর সামরিক লক্ষ্য এখন আর পুরোপুরি এক নয়।
এই সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ আরব মিত্ররাও। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা বাহরাইনের মতো দেশগুলো গত দুই দশক ধরে নিজেদের স্থিতিশীল ব্যবসা ও বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু যুদ্ধ সেই ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
শুধু জ্বালানি রপ্তানি নয়, পর্যটন, বিদেশি বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।
মার্চে যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়, তখন ধারণা করা হয়েছিল জুনের মধ্যে হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু জুন এসেও প্রণালিটি পুরোপুরি খোলেনি।
বরং বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি ছাড়া এটি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে— এমন কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। ফলে কে জিতল বা কে হারল— ১০০ দিনে এসে তা আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নয়। বরং এই সংকট কতদিন টেনে বেড়াতে হবে, সে প্রশ্নই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বিজয় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে। অঞ্চলটি সত্যিই বদলাচ্ছে। তবে তাদের কল্পনা অনুযায়ী নয়।
ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র পরাজিত হয়নি। বরং যুদ্ধ ১০০ দিনে পৌঁছানোর পর এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হয়ে উঠেছে একটি দীর্ঘস্থায়ী, ক্ষয়িষ্ণু ও অনির্দিষ্ট সংকট— যেখানে মাঝেমধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকবে, আবার হঠাৎ করেই সংঘাত নতুন করে জ্বলে উঠবে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, তেহরানের শাসকগোষ্ঠী তাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনা সেই বাস্তবতার নতুন স্মারক। এটি দেখিয়েছে, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করার সক্ষমতা রাখে এবং যুদ্ধ থেকে বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে আসার সংকল্পও হারায়নি।
তেহরানের দৃষ্টিতে বিজয়ের অর্থ শুধু টিকে থাকা নয়, বরং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় এবং ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা।
হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটন এরই মধ্যে জবাব দিয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো, যেন শক্ত অবস্থানের বার্তা যায়, আবার স্থবির হয়ে পড়া কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটিও পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে।
অ্যাপাচির ক্রুরা বেঁচে গেছেন। তারা নিহত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে যেতে পারত।
ট্রাম্প এখনো এমন একটি চুক্তির আশায় আছেন, যা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথ তৈরি করবে।
কারণ যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জনপ্রিয় নয়। ট্রাম্প এমন একটি পথ খুঁজছেন, যেটিকে তিনি রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। কিন্তু সেটি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ইতিহাসের পুরোনো একটি শিক্ষা এখন আবার সামনে এসেছে— যুদ্ধ শুরু করা যত সহজ, স্পষ্ট বিজয় নিয়ে তা শেষ করা তত কঠিন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তখন দুই নেতার বক্তব্যেই ছিল এক ধরনের ঐতিহাসিক আত্মবিশ্বাস। ট্রাম্প তখন মনে করছিলেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইসলামি শাসনব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্ট থেকে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। আমরা কাজ শেষ করলে নিজেদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নাও।’
পরদিন তেল আবিবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাদে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহুও প্রায় একই সুরে কথা বলেন।
চার দশক ধরে ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখে আসা নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছিলেন, এবার সেই ‘সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে’ চূড়ান্ত আঘাত করা হবে।
দুই নেতার বক্তব্যেই একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল— তারা বিশ্বাস করতেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কাছে পরিস্থিতি অনুকূল বলেই মনে হয়েছিল। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। হামাস ও হিজবুল্লাহ বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনও তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে দুর্বল করেছিল।
এমন অবস্থায় তারা ধরে নিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বকে হত্যা করলেই পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতা, নির্মমতা ও কৌশলগত প্রস্তুতিকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে বহিরাগত হুমকির মুখে থাকা ইরান তার নিরাপত্তা কাঠামো এমনভাবে গড়ে তুলেছে, যেন নেতৃত্বে আঘাত এলেও রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে। ফলে ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল আসেনি।
যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য সম্ভবত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেই পেয়েছে তেহরান। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ পথ বন্ধ করে দিয়ে ইরান দেখিয়ে দিয়েছে, চাইলে তারা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
তেহরানের নতুন নেতৃত্ব মনে করে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে হামলার আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য করার জন্য এই সক্ষমতাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা। তাদের বিশ্বাস, কেবল কূটনৈতিক ভাষা নয়, প্রতিপক্ষকে ব্যথা অনুভব করানোর মতো সক্ষমতাই ভবিষ্যৎ আক্রমণ ঠেকাতে পারে।
ইরানের কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লেবানন ও উপসাগরীয় যুদ্ধক্ষেত্রকে একসূত্রে বেঁধে দেওয়া। তেহরানের বার্তা স্পষ্ট— ইসরাইল যদি লেবাননে হামলা চালাতে থাকে এবং হিজবুল্লাহকে ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বড় চুক্তির আশা করা যাবে না।
সম্প্রতি বৈরুতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে নেতানিয়াহুকে সরে আসতে বলেছিলেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তিনি স্বীকার করেছেন, লেবাননের পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় সংকট পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে নেতানিয়াহু এই অবস্থান মানতে নারাজ। তার মতে, দুই সংকটকে একসঙ্গে দেখাটা ‘অসহনীয় ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রয়োজন এবং নেতানিয়াহুর সামরিক লক্ষ্য এখন আর পুরোপুরি এক নয়।
এই সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ আরব মিত্ররাও। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা বাহরাইনের মতো দেশগুলো গত দুই দশক ধরে নিজেদের স্থিতিশীল ব্যবসা ও বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু যুদ্ধ সেই ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
শুধু জ্বালানি রপ্তানি নয়, পর্যটন, বিদেশি বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।
মার্চে যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়, তখন ধারণা করা হয়েছিল জুনের মধ্যে হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু জুন এসেও প্রণালিটি পুরোপুরি খোলেনি।
বরং বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি ছাড়া এটি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে— এমন কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। ফলে কে জিতল বা কে হারল— ১০০ দিনে এসে তা আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নয়। বরং এই সংকট কতদিন টেনে বেড়াতে হবে, সে প্রশ্নই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডোব্রিন্ট জানান, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে— এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে’ তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি জার্মানির বর্তমান ‘উচ্চ ঝুঁকি’র নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে। এতে বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
৭ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষার পর তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেছেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো সহায়তা দিলে সেই দেশকেও ‘প্রচণ্ড অর্থনৈতিক ক্ষতির’ মুখে পড়তে হবে।
১৯ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তার জোর আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, "ইউক্রেন যতদিন পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না পাবে, ততদিন রাশিয়া শান্তির বিষয়টি বিন্দুমাত্র গু
২ দিন আগে