এয়ার শোতে মুখোমুখি, মাঝ আকাশে সংঘর্ষে বিধ্বস্ত ২ মার্কিন যুদ্ধবিমান

যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এক এয়ার শোতে মাঝ আকাশে সংঘর্ষ হয়েছে মার্কিন নৌ বাহিনীর দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের মধ্যে। দুই বিমানের চার ক্রু সময়মতো প্যারাশ্যুট নিয়ে লাফিয়ে পড়ায় এ সংঘর্ষে কেউ হতাহত হননি।
বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম আইডাহোর মাউন্টেন হোম বিমানঘাঁটিতে ওই এয়ার শো আয়োজন করা হয়। আকাশে মহড়া প্রদর্শনের সময় ওয়াশিংটনের হুইডবে আইল্যান্ডের ইলেকট্রনিক অ্যাটাক স্কোয়াড্রন ১২৯-এর দুটি ইউএস নেভি ইএ-১৮জি গ্রোলার বিমান এ দুর্ঘটনায় পড়ে।
মার্কিন নৌবাহিনীর প্যাসিফিক ফ্লিটের মুখপাত্র কমান্ডার অ্যামেলিয়া উমায়াম এক বিবৃতিতে জানান, উদ্ধার করা চার ক্রু সদস্যের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বিমান দুটির সংঘর্ষে বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত কোনো দর্শক বা সামরিক কর্মকর্তা আহত হননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আকাশে মহড়া দেওয়ার সময় বিমান দুটি অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে এবং আচমকা মুখোমুখি ধাক্কা খায়। এ সময় চারজন ক্রুই প্যারাশ্যুট নিয়ে লাফিয়ে পড়েন। বিমান দুটি নিচের দিকে পড়ে এবং সেখানে বড় বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানঘাঁটিটি লকডাউন করে দেওয়া হয় এবং এয়ার শোয়ের বাকি প্রদর্শনীগুলো বাতিল করা হয়।
বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ গুজ্জেত্তি মনে করছেন, পাইলটদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি বলেন, এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বলে মনে হচ্ছে না, বরং পাইলটের ভুলের কারণে হতে পারে। এত কাছাকাছি দূরত্বে ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলে বড় বিপদ ঘটতে পারে।
বিমান দুটি ধাক্কা খাওয়ার পর পরস্পরের সঙ্গে আটকে গিয়ে নামছিল বলে পাইলসহ ক্রুরা বাড়তি দুয়েক সেকেন্ড সময় পেয়েছেন বলেও মনে করেন গুজ্জেত্তি। ওই বাড়তি দুয়েক সেকেন্ডের কারণে তারা প্যারাশ্যুট নিয়ে নামতে পেরেছেন বলে তার অভিমত।
বিমান নিরাপত্তা সংস্থা সেফটি অপারেটিং সিস্টেমসের সিইও জন কক্স বলেন, এয়ার শোতে সাধারণত সেরা পাইলটরাই বিমান চালিয়ে থাকে। এখানে ভুলের মাশুল দেওয়ার মতো সুযোগ বা সময় থাকে না বললেই চলে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ২০০ এয়ার শো হয়। আন্তর্জাতিক এয়ার শো কাউন্সিলের সভাপতি জন কুডাহি জানান, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে এয়ার শোতে গড়ে প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ জন মানুষের মৃত্যু হতো। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বর্তমানে এই হার ১ দশমিক ১-এ নেমে এসেছে। এর মধ্যে ২০২৩ ও ২০২৫ সালে আমেরিকায় কোনো এয়ার শো দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।



















