বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত ১০-১২.৫% শুল্কারোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১২: ৩২
২০২৫ সালের ৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড বন্দরে কনটেইনারবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) বন্ধে ব্যর্থতার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, যা অযৌক্তিক এবং মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বুধবার (৩ জুন) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) গতকাল মঙ্গলবার এই প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার অধীনে পরিচালিত ‘অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন’ সংক্রান্ত একটি তদন্তের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা জরুরি শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর, প্রশাসন পুনরায় এই শুল্ক ব্যবস্থা চালুর যে চেষ্টা চালাচ্ছে, এটি তারই সর্বশেষ পদক্ষেপ।

ইউএসটিআর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় থাকা অন্য দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো— বাংলাদেশ, পাকিস্তান, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং ব্রিটেন।

এ ছাড়া, তদন্তের আওতাভুক্ত বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে মার্কিন বাণিজ্য সংস্থাটি।

এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিষয়টি মোকাবিলা করতে না পারাটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতির তৈরি হচ্ছে যেখানে মার্কিন শ্রমিকদের বিশ্ববাজারে একটি অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে, তারা একটি তারা একটি নতুন বস্ত্রব্যবস্থাও (টেক্সটাইল মেকানিজম) প্রস্তাব করছে। এর আওতায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত শুল্ক হারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে এই হ্রাসকৃত শুল্কের হার এবং আমদানির নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আগামী ২৪ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ১০ শতাংশ সাময়িক শুল্কের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্টের’র আওতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিল করার পর এই সাময়িক শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন এই ঘোষণা এল।

এর আগে গত সোমবার ব্রাজিলের ডিজিটাল বাণিজ্য নীতি এবং অগ্রাধিকারমূলক শুল্কের ওপর ৩০১ ধারার অধীনে তদন্ত শেষে দেশটির বহু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছিল ইউএসটিআর। এ ছাড়া, চীনসহ ১৬টি বাণিজ্য অংশীদারের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা (এক্সেস ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাপাসিটি) গড়ে তোলার বিষয়ে চলমান আরেকটি বড় তদন্তের ফলাফলও শিগগিরই প্রকাশ করতে পারে সংস্থাটি।

তবে জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত এই তদন্তের ঘোষণায় ইউএসটিআর জানিয়েছে, বেশ কিছু পণ্যকে এই অতিরিক্ত শুল্কের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হবে। এই ছাড় পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, বিরল মৃত্তিকা খনিজ (রেয়ার আর্থ) এবং নির্দিষ্ট কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, কিছু ফল ও শাকসবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ।

প্রস্তাবিত এই শুল্ক ও অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনসাধারণের মতামত ও মন্তব্য গ্রহণ করবে ইউএসটিআর। আর এই বিষয়ে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জুলাই।

রাজনীতি/আইআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বড় সুবিধা পাবে আইআরজিসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।

৬ ঘণ্টা আগে

‘বিশ্বাসঘাতক’ ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষোভ, এককভাবে লড়াইয়ের পক্ষে ইসরায়েলিরা

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।

৬ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

৮ ঘণ্টা আগে

ইরান ইস্যুই গড়তে পারে জে ডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী এ ধরনের হাই-প্রোফাইল আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। কিন্তু ট্রাম্প দৃশ্যত রুবিওর পরিবর্তে ভ্যান্সকেই সামনে নিয়ে এসেছেন। ফলে প্রশাসনের ভেতরে রুবিওর প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৯ ঘণ্টা আগে