
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন ঘিরে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক আয়োজনে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির পাশাপাশি প্রতিশোধের ডাক উঠেছে। পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই প্রতিশোধ, জাতীয় ঐক্য ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা উঠে এসেছে। এর মধ্যে একজন কবি আলি খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, রোববার (৫ জুলাই) ইরানের ওই কবি এমন আহ্বান জানান প্রকাশ্যেই। এ দিন ছিল আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি।
এ দিন তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনি এবং তার পরিবারের আরও চার সদস্যের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। চলমান যুদ্ধের কারণে তার শেষকৃত্য কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানানোর রাষ্ট্রীয় আয়োজন শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। শোকের পাশাপাশি সেখানে প্রতিশোধের আহ্বান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়।
অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগেই হাজারও মানুষ মসজিদে জড়ো হন। অনেকে রাতভর সেখানে অবস্থান করেন, যেন সকাল ৮টায় শুরু হওয়া জানাজায় অংশ নিতে পারেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা, আলি খামেনির ছবি ও প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা নিয়ে উপস্থিত জনতা শনিবারের তুলনায় আরও বড় সংখ্যায় এবং আরও বেশি আবেগপ্রবণ ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখানোর চেষ্টা করছে তেহরান যে যুদ্ধের পরও ইরান সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ এবং নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জানাজার নামাজ শুরুর ঠিক আগে কবিতা আবৃত্তির সময় ইরানি কবি মোহাম্মদ রাসুলি বলেন, এখন থেকে কাফনই আমাদের পোশাক। তোমার রক্তের শপথ, ট্রাম্পকে হত্যা করা এখন আমাদের দায়িত্ব।
ইরানের এই কবি আরও বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি এখনো কেন বেঁচে আছে? ট্রাম্পের জন্য পৃথিবী আর নিরাপদ নয়। যে ব্যক্তি আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে, তাকে আমরা কেন হত্যা করব না? যদি তা না করি, সেটাই হবে আমাদের জন্য লজ্জার।
মোহাম্মদ রাসুলির এই বক্তব্য ছিল পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত। বক্তব্যের পর উপস্থিত জনতার একাংশ নীরব থাকলেও অধিকাংশ মানুষ উল্লাস ও করতালির মাধ্যমে তা সমর্থন করেন।
আর্মেনিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত খলিল শিরঘোলামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। তোমরা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছ, কিন্তু বাস্তবে একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছ, যার সুবাস এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘তোমরা এটা কখনো বুঝবে না। কারণ তোমাদের কোনো সভ্যতা নেই, কোনো ইতিহাস নেই, কোনো সম্মান নেই।’

প্রধান জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন কুমের ৯৭ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ জাফার সোবহানি। শুধু খামেনিই নয়, তার পরিবারের আরও চার সদস্যের জন্য জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন আলি খামেনির পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল ও মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি। ছোট্ট শিশুটির কফিন উপস্থিত অনেকের মধ্যেই গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
জানাজায় খামেনির তিন ছেলে মোস্তফা, মাসউদ ও মেইসাম বাবার কফিনের পাশে দাঁড়ালেও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে কোথাও দেখা যায়নি। বাবার মৃত্যুর ১০ দিন পর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত তিন মাসে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। এমনকি গত বৃহস্পতিবার নিজের স্ত্রীর শেষকৃত্যেও উপস্থিত ছিলেন না।
গুঞ্জন রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন এবং তার মুখমণ্ডলে স্থায়ী বিকৃতি বা অঙ্গ হারানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় তিনি আহত হলেও মুখমণ্ডলে বিকৃতি বা অঙ্গ হারানোর মতো কিছু ঘটেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বাবার জানাজায় উপস্থিত হননি বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
জানাজায় ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও বিচার বিভাগের প্রায় সব শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আল-কুদস বাহিনীর কমান্ডার ইসমাইল কানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ভাহিদি।
বিশ্লেষকদের মতে, তাদের প্রকাশ্যে উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, ইরান মনে করছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি অন্তত জানাজা চলাকালে নতুন হামলার ঝুঁকি কমিয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মার্কিন ডানপন্থি কর্মী লরা লুমার সামাজিক মাধ্যমে এই জানাজাকে ‘টার্গেট-সমৃদ্ধ পরিবেশ’ বলে মন্তব্য করেন। আর মার্কিন রক্ষণশীল ভাষ্যকার মার্ক লেভিন বলেন, এই জানাজা ‘হারানো একটি সুযোগ’।

এদিকে তেহরানে আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বিপুল জনসমাগম ও আলি খামেনির প্রতি তাদের আবেগ-অনুভূতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, তারা তাকে (আলি খামেনি) ঘৃণা করত।’ এসব আবেগ-অনুভূতির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, এসব কান্না হয়তো নকল!
তবে তেহরানে আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আপামর জনতার বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৭০ বছর বয়সী বই অনুবাদক হোসেইন দেহগান বলেন, ‘আমাদের নেতার হত্যাকাণ্ডের পর মানুষ গভীর শোকে রয়েছে। পশ্চিমারা তাকে স্বৈরশাসক বলতে পারে, তিনি সব ইরানির কাছে সমান জনপ্রিয়ও ছিলেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের কাছে তিনি সম্মানিত এবং প্রিয় ছিলেন।’

দেহগানের ভাষায়, ‘কোনো যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই একটি দেশের প্রধান নেতাকে হত্যা করা কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আলোচনার মাঝখানে যুদ্ধ শুরু করা ছিল প্রতারণা।’
ইসরায়েলি বোমা হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ইব্রাহিম কালিম। তিনি বলেন, আমরা সংস্কার চাইতে পারি, কিন্তু সেই সংস্কার আমাদের নিজেদের হতে হবে। বাইরের শক্তি আমাদের হয়ে তা নির্ধারণ করবে না। নিজের সরকারের সঙ্গে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশ আক্রান্ত হলে নিজের দেশকেই রক্ষা করতে হয়।
তবে একই সময়ে উত্তর তেহরানের মধ্যবিত্ত এলাকায় ছিল ভিন্ন চিত্র। সেখানে অনেক পরিবারকে হিজাব ছাড়াই ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় সময় কাটাতে দেখা যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ইরানি সমাজে ভিন্নমত ও শ্রেণিগত বিভাজন এখনো স্পষ্ট।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন ঘিরে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক আয়োজনে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির পাশাপাশি প্রতিশোধের ডাক উঠেছে। পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই প্রতিশোধ, জাতীয় ঐক্য ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা উঠে এসেছে। এর মধ্যে একজন কবি আলি খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, রোববার (৫ জুলাই) ইরানের ওই কবি এমন আহ্বান জানান প্রকাশ্যেই। এ দিন ছিল আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি।
এ দিন তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনি এবং তার পরিবারের আরও চার সদস্যের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। চলমান যুদ্ধের কারণে তার শেষকৃত্য কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানানোর রাষ্ট্রীয় আয়োজন শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। শোকের পাশাপাশি সেখানে প্রতিশোধের আহ্বান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়।
অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগেই হাজারও মানুষ মসজিদে জড়ো হন। অনেকে রাতভর সেখানে অবস্থান করেন, যেন সকাল ৮টায় শুরু হওয়া জানাজায় অংশ নিতে পারেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা, আলি খামেনির ছবি ও প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা নিয়ে উপস্থিত জনতা শনিবারের তুলনায় আরও বড় সংখ্যায় এবং আরও বেশি আবেগপ্রবণ ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখানোর চেষ্টা করছে তেহরান যে যুদ্ধের পরও ইরান সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ এবং নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জানাজার নামাজ শুরুর ঠিক আগে কবিতা আবৃত্তির সময় ইরানি কবি মোহাম্মদ রাসুলি বলেন, এখন থেকে কাফনই আমাদের পোশাক। তোমার রক্তের শপথ, ট্রাম্পকে হত্যা করা এখন আমাদের দায়িত্ব।
ইরানের এই কবি আরও বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি এখনো কেন বেঁচে আছে? ট্রাম্পের জন্য পৃথিবী আর নিরাপদ নয়। যে ব্যক্তি আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে, তাকে আমরা কেন হত্যা করব না? যদি তা না করি, সেটাই হবে আমাদের জন্য লজ্জার।
মোহাম্মদ রাসুলির এই বক্তব্য ছিল পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত। বক্তব্যের পর উপস্থিত জনতার একাংশ নীরব থাকলেও অধিকাংশ মানুষ উল্লাস ও করতালির মাধ্যমে তা সমর্থন করেন।
আর্মেনিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত খলিল শিরঘোলামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। তোমরা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছ, কিন্তু বাস্তবে একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছ, যার সুবাস এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘তোমরা এটা কখনো বুঝবে না। কারণ তোমাদের কোনো সভ্যতা নেই, কোনো ইতিহাস নেই, কোনো সম্মান নেই।’

প্রধান জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন কুমের ৯৭ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ জাফার সোবহানি। শুধু খামেনিই নয়, তার পরিবারের আরও চার সদস্যের জন্য জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন আলি খামেনির পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল ও মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি। ছোট্ট শিশুটির কফিন উপস্থিত অনেকের মধ্যেই গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
জানাজায় খামেনির তিন ছেলে মোস্তফা, মাসউদ ও মেইসাম বাবার কফিনের পাশে দাঁড়ালেও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে কোথাও দেখা যায়নি। বাবার মৃত্যুর ১০ দিন পর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত তিন মাসে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। এমনকি গত বৃহস্পতিবার নিজের স্ত্রীর শেষকৃত্যেও উপস্থিত ছিলেন না।
গুঞ্জন রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন এবং তার মুখমণ্ডলে স্থায়ী বিকৃতি বা অঙ্গ হারানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় তিনি আহত হলেও মুখমণ্ডলে বিকৃতি বা অঙ্গ হারানোর মতো কিছু ঘটেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বাবার জানাজায় উপস্থিত হননি বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
জানাজায় ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও বিচার বিভাগের প্রায় সব শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আল-কুদস বাহিনীর কমান্ডার ইসমাইল কানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ভাহিদি।
বিশ্লেষকদের মতে, তাদের প্রকাশ্যে উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, ইরান মনে করছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি অন্তত জানাজা চলাকালে নতুন হামলার ঝুঁকি কমিয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মার্কিন ডানপন্থি কর্মী লরা লুমার সামাজিক মাধ্যমে এই জানাজাকে ‘টার্গেট-সমৃদ্ধ পরিবেশ’ বলে মন্তব্য করেন। আর মার্কিন রক্ষণশীল ভাষ্যকার মার্ক লেভিন বলেন, এই জানাজা ‘হারানো একটি সুযোগ’।

এদিকে তেহরানে আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বিপুল জনসমাগম ও আলি খামেনির প্রতি তাদের আবেগ-অনুভূতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, তারা তাকে (আলি খামেনি) ঘৃণা করত।’ এসব আবেগ-অনুভূতির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, এসব কান্না হয়তো নকল!
তবে তেহরানে আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আপামর জনতার বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৭০ বছর বয়সী বই অনুবাদক হোসেইন দেহগান বলেন, ‘আমাদের নেতার হত্যাকাণ্ডের পর মানুষ গভীর শোকে রয়েছে। পশ্চিমারা তাকে স্বৈরশাসক বলতে পারে, তিনি সব ইরানির কাছে সমান জনপ্রিয়ও ছিলেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের কাছে তিনি সম্মানিত এবং প্রিয় ছিলেন।’

দেহগানের ভাষায়, ‘কোনো যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই একটি দেশের প্রধান নেতাকে হত্যা করা কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আলোচনার মাঝখানে যুদ্ধ শুরু করা ছিল প্রতারণা।’
ইসরায়েলি বোমা হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ইব্রাহিম কালিম। তিনি বলেন, আমরা সংস্কার চাইতে পারি, কিন্তু সেই সংস্কার আমাদের নিজেদের হতে হবে। বাইরের শক্তি আমাদের হয়ে তা নির্ধারণ করবে না। নিজের সরকারের সঙ্গে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশ আক্রান্ত হলে নিজের দেশকেই রক্ষা করতে হয়।
তবে একই সময়ে উত্তর তেহরানের মধ্যবিত্ত এলাকায় ছিল ভিন্ন চিত্র। সেখানে অনেক পরিবারকে হিজাব ছাড়াই ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় সময় কাটাতে দেখা যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ইরানি সমাজে ভিন্নমত ও শ্রেণিগত বিভাজন এখনো স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আটলান্টিক উপকূল থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস থেকে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত দাবানলের এই ধারা সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে নজিরবিহীন। অনেক আগুনই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং শহর ও জনবসতির কাছাকাছি পৌঁছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্ট বলেন, সিবিআইয়ের দাখিল করা দুটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালতের মনে হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে নতুন করে বিচার শুরুর মতো কোনো গ্রহণযোগ্য বা জোরালো কারণ নেই। ফলে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
রাহুল বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে বসার সাহস নেই। আমি তাকে ৩০টি গাড়ির কনভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বসে থাকতে দেখেছি। তিনি আজ সংসদে নেই কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।’
১ দিন আগে
রাজ্যসভায় পাস ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি বেড়ে হবে ১০ বছরের কারাদণ্ড, পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধানও থাকবে।
১ দিন আগে