ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। হোয়াইট হাউজও বৈঠকটিকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছে। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন
ফক্স নিউজের সঞ্চালক শন হ্যানিটি সাক্ষাৎকার নেন ট্রাম্পের। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ তিনি (শি জিনপিং) যেটিতে রাজি হয়েছেন, তা হলো ২০০টি বিমান অর্ডার করা। বোয়িং—২০০টি বড় আকারের বিমান। এটি অনেক বড় একটি অর্ডার। এই অর্ডারের মানে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হবে।’
বৈঠক শেষে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সারসংক্ষেপে তাইওয়ানের ইস্যুটি আলোচনায় উঠে এসেছিল বলে জানানো হয়েছে। তবে বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত সারসংক্ষেপে তাইওয়ান ইস্যুর কোনো উল্লেখ ছিল না।
জিনপিং আরও বলেন, সহযোগিতামূলক সম্পর্কের মাধ্যমে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই উপকৃত হয়ে থাকে। আর সংঘাতের মাধ্যমে কেবল ক্ষতিই হয়। তাই আমাদের দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠানকে এনভিডিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এআই চিপ এইচ-২০০ কেনার অনুমোদন দিয়েছে। তবে অনুমোদন মিললেও এখন পর্যন্ত একটি চিপও সরবরাহ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি। ফলে বহুল আলোচিত এই প্রযুক্তি চুক্তি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে আছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে এই সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা, যাদের মধ্যে টেসলার ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং রয়েছেন।
বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। বিশাল কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই মাসের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই বলেছেন, উত্তেজনা কমাতে বেইজিং সহায়তা করতে প্রস্তুত।
বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে নীল-সাদা ইউনিফর্ম পরিহিত প্রায় ৩০০ চীনা শিশু-কিশোর অংশ নেয়। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা নেড়ে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানায় এবং মান্দারিন ভাষায় স্লোগান দেয়, ‘স্বাগতম, আন্তরিক স্বাগতম’।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প বেইজিং পৌঁছাবেন বুধবার (১২ মে)। পরের দুই দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। ২০১৭ সালের পর এটিই হবে ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর।
স্থগিত মৃত্যুদণ্ড সাজা হওয়ায় আগামী দুই বছর তাদের এ সাজা স্থগিত থাকবে। এরপর আইন অনুযায়ী এই দণ্ড কমে আমৃত্যু কারাবাসে রূপান্তরিত হবে। তবে শর্ত থাকবে, দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন কোনোভাবেই সাজা কমানোর আবেদন করতে পারবেন না কিংবা প্যারোলে মুক্তি পাবেন না।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে চীন। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এমন মন্তব্য করেন।
সফরে ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করবেন।
সংবাদমাধ্যম জানায়, হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানিতে এই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কোম্পানিটির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কোনো ফোন নম্বর খুঁজে পায়নি রয়টার্স।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সাম্প্রতিক আফ্রিকার দেশ কিংডম অব ইসওয়াতিনি (সাবেক বতসোয়ানা) সফর ঘিরেও ফের চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাইকে ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিয়ে এ সফরের নিন্দা জানিয়েছে চীন। জবাবে তাইওয়ানের পক্ষ থেকেও চীনকে ‘মাছের ব্যাপারী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
চীন সরকার ড্রোন এবং ‘ফ্লাইং ট্যাক্সি’ প্রযুক্তিকে তাদের কৌশলগত ‘লো-অল্টিটিউড ইকোনমি’ বা নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই খাত থেকে দুই ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ২৯০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে দেশটির।