নিরঙ্কুশ জয়ের পথে বিএনপি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বিএনপি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেতে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা ফলের তথ্য বলছে, এরই মধ্যে দলটির অন্তত ১১৭ জন প্রার্থী বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন। তবে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত বিভিন্ন আসনের তথ্য বলছে, দলটির আসন সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়ে গেছে।

বিধি অনুযায়ী কোনো দল সংসদের মোট আসনের অর্ধেকের বেশি তথা ন্যূনতম ১৫১টি আসন পেলেই সরকার গঠন করতে পারে। ভোটের ফলাফলের তথ্য বলছে, বিএনপি ন্যূনতম এই সংখ্যার গণ্ডি পেরিয়ে দুই শতাধিক আসন পর্যন্ত পেয়ে যেতে পারে। সে হিসাবে বিএনপির সরকার গঠন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্তত ২৬ প্রার্থীর জয় এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায়। আরও বেশকিছু আসনে এই জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। সার্বিক তথ্য বলছে, এই জোট শেষ পর্যন্ত ৭০টির মতো আসন পেতে পারে।

এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের গর্ভে জন্ম নেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্তত পাঁচজনের জয়ের নিশ্চিত খবর মিলেছে। তারা হলেন— আখতার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, হান্নান মাসউদ, আতিকুর রহমান মোজাহিদ ও আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ ছাড়া এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও রয়েছেন এগিয়ে। তার জয় নিশ্চিত হলে দল গঠনের এক বছরের মাথায় প্রথমবার নির্বাচন করেই অন্তত ছয়জন জনপ্রতিনিধি নিয়ে সংসদে প্রবেশ করবে দলটি।

দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির ময়দানে থাকা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিও এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বেসরকারিভাবে। তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থী ছিলেন। একই জোটের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের আলোচিত সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে ও বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ আসন থেকে জয় পেয়েছেন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রার্থীও প্রথমবারের মতো জয় পেয়েছেন এবারের নির্বাচনে। এই দলের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-১ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. অলি উল্লাহ।

অন্যান্য দলের মধ্যে খেলাফত মজলিসের (ঘড়ি প্রতীক) মোহাম্মদ আবুল হাসান জয় পেয়েছেন সিলেট-৫ আসনে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (রিকশা প্রতীক) দুই প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ময়মনসিংহ-২ আসনে ও সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা মাদারীপুর-১ আসনে জয় পেয়েছেন।

এদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ তথা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল (কিশোরগঞ্জ-৫), এ জেড এম রেজওয়ানুল হক (দিনাজপুর-৫), মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩), সালমান ওমর রুবেল (ময়মনসিংহ-১), মো. আবদুল হান্নান (চাঁদপুর-৪)। এ ছাড়া কুমিল্লা-৭ আসনে জয় পেয়েছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে শুরু হয় এই নির্বাচনের ভোট গণনা। রাত ৮টার দিক থেকে আসতে শুরু করে বিভিন্ন আসনের ফল। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোট ৪টা নাগাদ দেড় শতাধিক আসনের ফল ঘোষণা শেষ হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়, চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এ নির্বাচনে মোট ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। এসব দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা মামলা থেকে মুক্তির আন্দোলন করেছিল জামায়াত’

তিনি আরও বলেন, শুধু আন্দোলন নয়, আমাদের সাবেক আমির আন্দোলনের নেতা— যিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের জন্যে ১৯৭২ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। ১৯৭৬ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। মরহুম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি হয়েছিল। সেই অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটার

২ দিন আগে

হঠাৎ অসুস্থ সারজিস আলম, হাসপাতালে ভর্তি

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম।

২ দিন আগে

ফজলুর রহমান নিজের অবদান বলতে গিয়ে অন্যদের ছোট করেছেন: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্কের জেরে মুখোমুখি অবস্থানে দেখা গেছে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে।

২ দিন আগে

শহিদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ‘ডাবল অপরাধ’

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সংসদে বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমিরকে 'খোঁচা' দিয়ে এমন বক্তব্য দেন তিনি।

২ দিন আগে