আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল রবিবার (৪ আগস্ট) সারা দেশের পাড়া-মহল্লায় প্রতিবাদ মিছিল করবেন দলীয় নেতাকর্মীরা। পরদিন সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে শোকযাত্রা করবে দলটি।
রাজধানীর শহীদ মিনার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে একত্রিত হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষজন। কোটা সংস্কারের দাবি ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরকার পতনের স্লোগানে উত্তাল।
মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন দিয়ে হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের স্মার্ট প্যানেলের মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু। আজ শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর গজ্নবি রোডে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেহাত হয়ে গেছে।' আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। শনিবার (৩ আগস্ট) আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,‘ ছাত্রদের আন্দোলন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি, ইনশাল্লাহ জনগণের বিজয় অবশ্যই হবে। ছাত্রদের বিজয় অবশ্যই হবে।’
রবিবার থেকে দেশব্যাপী ‘সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন’র ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই আন্দোলন সফল করতে ছাত্র-জনতার প্রতি একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে তারা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (৮ আগস্ট) গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আটক সাধারণ ছাত্রদের মুক্ত করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসতে চান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, গণভবনের দরজা খোলা। কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমি বসতে চাই। তাদের কথা শুনতে চাই। আমি সংঘাত চাই না।
১৫৮ সদস্য বিশিষ্ট সমন্বয়ক টিম গঠন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। চলমান বিভিন্ন কর্মসূচি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ে তারা সমন্বয় করবেন। আজ (৩ আগস্ট) একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রিফাত রশিদ।
অভিভাবকরা বলেন, কেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে দুর্বৃত্ত বানিয়ে দেওয়া হবে? দুধের সন্তানকে তিলে তিলে বড় করা হলো, সেই সন্তানকে টেনে-হিঁচড়ে মারার অধিকার রাষ্ট্রকে কে দিয়েছে? আমাদের ট্যাক্সের টাকায় গুলি কেনা হয়েছে, সেই গুলিতে কেন আমার সন্তান মরছে—প্রশ্ন রাখেন অভিভাবকরা।
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, হত্যা, নির্যাতনে জোরদার হয়েছে আন্দোলন। ফলে বর্ধিত ১৫৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন সমন্বয়ক টিম ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনের সাধারণ ছাত্রদের প্রতি যত্মবান ও সহনশীল থাকার নিদের্শনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সমন্বয় করার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার রাতে (২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আন্দোলনের নামে জামায়াত-শিবিরের পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও সহিংসতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কোটা আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গতকাল শুক্রবার প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার ‘গণমিছিল’ কর্মসূচি শেষে তারা এ ঘোষণা দেন। নতুন কর্মসূচি অংশ হিসেবে আজ শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও রোববার থেকে ‘সর্বাত্মক’ অসহযোগ আন্দোলন করবে তারা।
বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, বলেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, এ সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই। কিন্তু তাদের বিচার করতে হবে। ছাত্রদের মুক্তি দিতে হবে। কারফিউ তুলে নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এ সরকারের পদত্যাগ করতে হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানা পুলিশ ৪১ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। আজ তাদের জামিনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।