মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ অত্যাসন্ন ধরে নিয়ে ইতিমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত পদক্ষেপের জন্য এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংকট নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে তিনি আরও বড় পরিসরে বোমা হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে মার্কিন শীর্ষ উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে পুনরায় সামরিক অভিযান
আব্বাস আরাগচি বলেন, পরস্পরবিরোধী বার্তা আমেরিকানদের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইরানিদের মনে সন্দেহ জাগিয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়নি, তবে এটি ‘কঠিন পরিস্থিতির’ মধ্যে রয়েছে। ইরান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু লড়াইয়ে ফিরে যেতেও প্রস্তুত।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, কয়েক বছরের নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারির পর এই জটিল অভিযানটি সফলভাবে চালানো হয়েছে, তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
টানা প্রায় দেড় মাস যুদ্ধ-সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরায়েল ও লেবানন। আগামী রোববার সেই বিরতি শেষ হওয়ার কথা ছিল; তবে তার আগেই মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াল ইসলায়েল-লেবানন।
যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলা ইরানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক পবিত্র প্রতিরোধে (যুক্তরাষ্ট্র-জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে) ইরান প্রমাণ করেছে যে ফেরদৌসির কিংবদন্তির গল্পগুলো শুধু কল্পনা নয়, বরং সেগুলো ইরানিদের জীবনের বাস্তবতা এবং ত
ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি চুক্তি করা উচিত।’ ইরানের গোপন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, এটি মূলত জনসংযোগের (পাবলিক রিলেশনস) কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া দরকার।
শুক্রবার (১৫ মে) আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অবস্থান তুলে ধরেছে। তারা ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত ‘চার দফা’কেই কার্যকর কৌশল বলে মনে করছে।
নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরাগচি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের প্রবণতা ঠেকাতে ব্রিকস দেশগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ইরান। ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে।
তবে নেতানিয়াহুর এ দাবি অস্বীকার করেছে আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যে সফরের কথা বলা হচ্ছে এটির কোনো অস্তিত্ব নেই। এছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এ ধরনের লুকানো সফরের ওপর ভিত্তি করে নয়।
মঙ্গলবার সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ বহাল রেখে যদি চুক্তি করা হয় এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের মতো বিষয়গুলো আলোচনার বাইরে রাখা হয়, তাহলে ইসরায়েল এই যুদ্ধকে ‘অসম্পূর্ণ’ মনে করবে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে দেশটির ভূখণ্ডে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। এপ্রিলের ১ থেকে ৬ তারিখে সংখ্যাটি নেমে দাঁড়ায় ২৫-এর কিছু বেশিতে।
কাতার নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, কাতার ক্যালেন্ডার হাউজ এ সময়সূচি ঘোষণা করেছে। কাতারের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠান দেশটির হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রণয়ন করে থাকে।
ইরানের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, বিষয়টি পার্লামেন্টে পর্যালোচনা করা হবে।
ইরান এমন কিছু শর্তে অনড় অবস্থান নিয়েছে, যেগুলোকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি এখন ‘মারাত্মক সংকটাপন্ন অবস্থায়’ রয়েছে। এতে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আশা কার্যত আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
একইসঙ্গে ইরান, গাজা ও লেবাননের সঙ্গে চলমান বহুমুখী যুদ্ধের জন্য সরকারের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করে তেল আবিবে বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছে সাধারণ ইসরায়েলিরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে নেতানিয়াহু প্রশাসন দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করছে।