
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির একটি খসড়া ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছে পাঠিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির মধ্যেই দুই পক্ষ চূড়ান্ত মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচনায় গতি আনতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার শুক্রবার ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির যে খসড়া, তাতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও এ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিবদমান এসব ইস্যুতে সমঝোতা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত আটকে আছে পারমাণবিক ইস্যুতে, যেখানে দুই দেশই অনড়।
প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা নিয়ে চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইরানে দুই দফা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে বৃহস্পতিবার কুয়েতে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।
এই পালটাপালটি পদক্ষেপ দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধবিরতি এখনো কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। একইসঙ্গে আলোচনায় যুক্ত দুপক্ষই এখনো চূড়ান্ত ইস্যুগুলোতে ছাড় দিতে নারাজ।
বুধবার ট্রাম্প প্রশাসনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প আরও কয়েকদিন সময় নিতে চান।
ট্রাম্প যে খসড়া মিত্রদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন, সেটি গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ঘুরে বেড়ানো প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে খুব বেশি ভিন্ন নয়।
এই খসড়ায় বলা হয়েছে—
এ চুক্তির লক্ষ্য, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা এবং ৬০ দিনের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো।
এ আলোচনায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) তদারকির বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার পরিত্যাগ করবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার বলেন, দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে এখনো ইউরেনিয়ামের মজুত সমৃদ্ধকরণ প্রশ্নে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে।
ভ্যান্সের ভাষায়, প্রেসিডেন্ট কবে সমঝোতা স্মারকে সই করবেন, সেটা বলা কঠিন। কয়েকটি ভাষাগত বিষয় নিয়ে আমরা এখনো এদিক-ওদিক আলোচনা করছি।
এদিকে চীন চাইছে, যেকোনো চুক্তিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের আওতায় আনা হোক।
বর্তমান খসড়া চুক্তি ইসরায়েলের জন্য ‘অস্বস্তিকর’ হতে পারে। কারণ এতে ইরানের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ও কঠোর পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইরানের খসড়ার তুলনায় মার্কিন সংস্করণে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কম স্পষ্টতা রয়েছে। তবে এতে হরমুজ প্রণালিতে টোলমুক্ত চলাচলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান আলাদাভাবে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে, যেখানে “নৌ চলাচল সেবা” বাবদ ফি আরোপের ধারণা রয়েছে। এ নিয়ে বুধবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করে যাতে টোল আরোপ করা হয়, তাহলে তিনি দেশটিকে “উড়িয়ে দেবেন”।
মাসকাট থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও ওমানের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা ট্রাম্পের এই বক্তব্যে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পশ্চিমা মিত্র হিসেবে পরিচিত ওমান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটি হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করলেও জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ বা অতিরিক্ত টোল আরোপের পক্ষে নয়।
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌ বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, “অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক” এবং অন্য কোনো রুট দিয়ে চলাচলের চেষ্টা “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি” হিসেবে বিবেচিত হবে। বুধবার রাতে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি জাহাজকে তারা বাধা দেয়। এর মধ্যে দুটি থামিয়ে দেওয়া হয় এবং বাকি দুটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ হলেও পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে যদি তেলবাহী জাহাজগুলো ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা বাড়িয়ে দেয়, তাহলে ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে, যদিও তা এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে রয়েছে।
মস্কো সফরে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি আবারও দাবি জানিয়েছেন, জব্দ করা অর্থ কোনো শর্ত ছাড়াই ইরানি ব্যাংক হিসাবে ছাড় করতে হবে।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে ইরানের নতুন সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই সংস্থাটি জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠন করা হয়েছিল।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেনেট বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, ওমান যদি হরমুজে টোল ব্যবস্থা চালু করতে ইরানকে সহায়তা করে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
চুক্তি নিয়ে ইরানের ভেতরেও বিভাজন বাড়ছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, মতপার্থক্যকে যেন বিভাজনে রূপ না দেওয়া হয় এবং জনগণের অর্থনৈতিক উদ্বেগ মোকাবিলায় সংসদকে যেন কার্যকর ভূমিকায় রাখা হয়।
খামেনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “দেশটিকে হাঁটু গেড়ে বসাতে” চায়। তার ভাষায়, “শত্রুর অন্ধ পরিকল্পনা হলো বিভাজন ও ধ্বংস সৃষ্টি করা, যেন তারা নিজেদের সামরিক ব্যর্থতা ঢাকতে পারে।”
এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বী ছাড়াও জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা রয়েছেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির একটি খসড়া ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছে পাঠিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির মধ্যেই দুই পক্ষ চূড়ান্ত মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচনায় গতি আনতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার শুক্রবার ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির যে খসড়া, তাতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও এ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিবদমান এসব ইস্যুতে সমঝোতা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত আটকে আছে পারমাণবিক ইস্যুতে, যেখানে দুই দেশই অনড়।
প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা নিয়ে চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইরানে দুই দফা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে বৃহস্পতিবার কুয়েতে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।
এই পালটাপালটি পদক্ষেপ দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধবিরতি এখনো কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। একইসঙ্গে আলোচনায় যুক্ত দুপক্ষই এখনো চূড়ান্ত ইস্যুগুলোতে ছাড় দিতে নারাজ।
বুধবার ট্রাম্প প্রশাসনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প আরও কয়েকদিন সময় নিতে চান।
ট্রাম্প যে খসড়া মিত্রদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন, সেটি গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ঘুরে বেড়ানো প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে খুব বেশি ভিন্ন নয়।
এই খসড়ায় বলা হয়েছে—
এ চুক্তির লক্ষ্য, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা এবং ৬০ দিনের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো।
এ আলোচনায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) তদারকির বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার পরিত্যাগ করবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার বলেন, দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে এখনো ইউরেনিয়ামের মজুত সমৃদ্ধকরণ প্রশ্নে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে।
ভ্যান্সের ভাষায়, প্রেসিডেন্ট কবে সমঝোতা স্মারকে সই করবেন, সেটা বলা কঠিন। কয়েকটি ভাষাগত বিষয় নিয়ে আমরা এখনো এদিক-ওদিক আলোচনা করছি।
এদিকে চীন চাইছে, যেকোনো চুক্তিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের আওতায় আনা হোক।
বর্তমান খসড়া চুক্তি ইসরায়েলের জন্য ‘অস্বস্তিকর’ হতে পারে। কারণ এতে ইরানের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ও কঠোর পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইরানের খসড়ার তুলনায় মার্কিন সংস্করণে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কম স্পষ্টতা রয়েছে। তবে এতে হরমুজ প্রণালিতে টোলমুক্ত চলাচলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান আলাদাভাবে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে, যেখানে “নৌ চলাচল সেবা” বাবদ ফি আরোপের ধারণা রয়েছে। এ নিয়ে বুধবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করে যাতে টোল আরোপ করা হয়, তাহলে তিনি দেশটিকে “উড়িয়ে দেবেন”।
মাসকাট থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও ওমানের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা ট্রাম্পের এই বক্তব্যে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পশ্চিমা মিত্র হিসেবে পরিচিত ওমান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটি হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করলেও জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ বা অতিরিক্ত টোল আরোপের পক্ষে নয়।
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌ বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, “অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক” এবং অন্য কোনো রুট দিয়ে চলাচলের চেষ্টা “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি” হিসেবে বিবেচিত হবে। বুধবার রাতে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি জাহাজকে তারা বাধা দেয়। এর মধ্যে দুটি থামিয়ে দেওয়া হয় এবং বাকি দুটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ হলেও পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে যদি তেলবাহী জাহাজগুলো ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা বাড়িয়ে দেয়, তাহলে ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে, যদিও তা এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে রয়েছে।
মস্কো সফরে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি আবারও দাবি জানিয়েছেন, জব্দ করা অর্থ কোনো শর্ত ছাড়াই ইরানি ব্যাংক হিসাবে ছাড় করতে হবে।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে ইরানের নতুন সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই সংস্থাটি জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠন করা হয়েছিল।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেনেট বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, ওমান যদি হরমুজে টোল ব্যবস্থা চালু করতে ইরানকে সহায়তা করে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
চুক্তি নিয়ে ইরানের ভেতরেও বিভাজন বাড়ছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, মতপার্থক্যকে যেন বিভাজনে রূপ না দেওয়া হয় এবং জনগণের অর্থনৈতিক উদ্বেগ মোকাবিলায় সংসদকে যেন কার্যকর ভূমিকায় রাখা হয়।
খামেনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “দেশটিকে হাঁটু গেড়ে বসাতে” চায়। তার ভাষায়, “শত্রুর অন্ধ পরিকল্পনা হলো বিভাজন ও ধ্বংস সৃষ্টি করা, যেন তারা নিজেদের সামরিক ব্যর্থতা ঢাকতে পারে।”
এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বী ছাড়াও জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা রয়েছেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে।

দূতাবাস সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. মোমিন মিয়া ও নরসিংদীর জয়েনা আক্তার। আহত দুই শিশুর পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বিস্ফোরণে জয়েনা তার পা হারিয়েছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, দুই শিশু আহত তিনজনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
৯ ঘণ্টা আগে
এই চুক্তিতে কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে, নাকি ড্রোনের মতো হামলার সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত আছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বিবিসিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুপক্ষই একটি চুক্তি সই করেছে, যেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের পাশাপাশি স্থল সামরিক সরঞ্জাম এবং তালেবান সরকারের সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ
৯ ঘণ্টা আগে
নতুন এই সমঝোতার আওতায় দুই দেশের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি পাবে। এই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে নৌযান চলাচল করতে পারবে। আর দুই দেশের কূটনীতিক ও মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্কটা চরম গোলমেলে ও বিভ্রান্তিকর। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— দুই দেশ কি আসলেই শান্তির কাছাকাছি রয়েছে, নাকি ফের একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে?
২০ ঘণ্টা আগে