
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইউরোপ জুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সে একটি পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে— জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এয়ার কন্ডিশনার বা এয়ারকন) কি সমাধান, নাকি এটি নিজেই সমস্যার অংশ?
দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত কারণে এয়ারকনের ব্যবহার সীমিত রাখার নীতি অনুসরণ করে আসা দেশটি এখন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে রেকর্ড তাপমাত্রা, অন্যদিকে হাসপাতাল, স্কুল ও গণসেবার ওপর বাড়তে থাকা চাপ— এ পরিস্থিতি ফ্রান্সের রাজনীতি, পরিবেশনীতি ও জনস্বাস্থ্যের আলোচনাকে নতুন মোড় দিয়েছে।
‘লা ক্লিম’ (ক্লিমাতিজাসিওঁ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ) নিয়ে এ বিতর্কের মধ্যেই ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী নেতা মারিন ল্য পেন রীতিমতো ভর্তুকি দিয়ে দেশ জুড়ে ব্যাপকভাবে এসি স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে এতদিন এসির বিরোধিতা করে আসা পরিবেশবাদীরাও এখন স্বীকার করছেন, কিছু ক্ষেত্রে এসির ব্যবহার অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। মঙ্গলবার দেশটি ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের রেকর্ড গড়ে। তীব্র গরমে হাজারও শিক্ষার্থীকে আগেভাগে বাড়ি পাঠাতে হয়েছে, অনেক স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মপরিবেশকে ‘অসহনীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে পোর্টেবল এয়ারকনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। অনেক পরিবার শুধু শিশুদের কয়েক ঘণ্টা পড়ালেখার সুযোগ করে দিতে বা রাতে কিছুটা স্বস্তিতে ঘুমানোর জন্য এসব যন্ত্র কিনছে।
অথচ ফ্রান্সে এসির ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। দেশটির মাত্র ২৫ শতাংশ পরিবারে এসি রয়েছে। অথচ স্পেন ও ইতালিতে এ হার ৫০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে প্রায় ৯০ শতাংশ। ফ্রান্সের হাসপাতাল ও স্কুলের বড় অংশেও এসির ব্যবস্থা নেই। ফলে তাপপ্রবাহের সময় এসব প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে।
চলতি জুনের তাপের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে ফ্রান্সের পরিবেশবাদীরা পর্যন্ত এখন কিছু মাত্রায় এসির ব্যবহারকে না করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ অধিকার কর্মীরা এসির বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের যুক্তি, এসি জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ দূর করে না, বরং সাময়িকভাবে এর প্রভাব কমিয়ে মানুষকে মূল সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
তাদের মতে, এয়ারকন ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। অনেক দেশে সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো হয়, যা আবার কার্বন নিঃসরণ বাড়ায়। যদিও ফ্রান্সের অধিকাংশ বিদ্যুৎ পারমাণবিক শক্তি থেকে আসে, তবুও বৈশ্বিক পর্যায়ে এয়ারকনের বিস্তার জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসকেও অন্যতম উদ্বেগের কারণ মনে করেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলে থাকেন, এগুলো শক্তিশালী গ্রিনহাউজ গ্যাস ও যন্ত্র থেকে লিক হলে জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া এয়ারকনের বাইরের ইউনিট থেকে নির্গত গরম বাতাস শহরের রাস্তায় অতিরিক্ত তাপ তৈরি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এর ফলে শহরের তাপমাত্রা আরও দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

তবে এবারের তাপপ্রবাহে পরিবেশবাদীদের অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ফ্রান্সের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘দ্য ইকোলজিস্টসে’র প্রধান মারি তঁদেলিয়ে স্বীকার করেছেন, এখন এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে এসি ছাড়া উপায় নেই। তার মতে, বিশেষ করে স্কুল ও হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। তার ভাষায়, ‘এখন এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে আমরা এটি ছাড়া চলতেই পারছি না।’
তঁদেলিয়ে বর্তমান সময়কে ‘এসিবিরোধী গোঁড়ামি’ থেকে বেরিয়ে আসার সময় বলে উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, পরিবেশবাদী রাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
কেবল পরিবেশবাদীরা না, ফরাসি সরকারও এসির ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করে আসছে। দেশটিতে নতুন ভবন নির্মাণ ও পুরোনো ভবনের সংস্কারে সাধারণত উন্নত তাপ নিরোধক, সবুজায়ন ও আধুনিক বায়ু চলাচল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেন এসির প্রয়োজনই না পড়ে।
এর একটি উদাহরণ পশ্চিমাঞ্চলীয় নঁত শহরে নির্মাণাধীন বিশাল নতুন হাসপাতাল। সেখানে মাত্র অর্ধেক কক্ষে এসির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে চিকিৎসাকর্মীদের ইউনিয়ন। সিজিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধি অলিভিয়ে তেরিয়েন বলেন, ‘বর্তমান পরিবেশগত বাস্তবতায় আমাদের সবখানেই এসির ব্যবস্থা থাকা উচিত।’
এসির ব্যবহার ইস্যুতে ফরাসি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও মতবিরোধ তীব্র হয়ে উঠছে। প্যারিস আঞ্চলিক কাউন্সিলের রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ভ্যালেরি পেক্রেস বলেন, ‘রাষ্ট্র একটি অ্যান্টি-ক্লিম মতাদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু শীতল পরিবেশ তৈরির অন্যান্য পদ্ধতির পাশাপাশি এসিকেও বিবেচনায় আনতেই হবে।’
প্যারিস অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা পেক্রেস ২০৩২ সালের মধ্যে সব বাস ও ট্রেনে এসি স্থাপনের আশা করছেন। এসি ব্যবহারের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য পূর্বসূরিদের সমালোচনাও করেন তিনি।
ফ্রান্সের ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোও বরাবরই এসির পক্ষে বেশি অবস্থান নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে মারিন ল্য পেনের দল ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) সবচেয়ে জোরালো অবস্থানে রয়েছে। এ সপ্তাহে ল্য পেন দেশ জুড়ে একটি ‘প্ল্যঁ ক্লিম’ বা শীতলীকরণ পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন, যার আওতায় সব স্কুল ও হাসপাতালে এসি স্থাপন করা হবে।

আরএনের মুখপাত্র জ্যা-ফিলিপ তঁগির ভাষ্য, এ পরিকল্পনায় সরকার-সমর্থিত ২০ বিলিয়ন ইউরো (২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড) সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা থাকবে, যেন তিন থেকে চার কোটি পরিবার নিজেদের বাসায় এসি লাগাতে পারে।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এ পরিকল্পনার অর্থায়ন নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। পাশাপাশি তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা স্বীকার করতেই যে রাজনৈতিক শক্তির দীর্ঘ সময় লেগেছে, তাদের বর্তমান অবস্থান কতটা বিশ্বাসযোগ্য— সেটি প্রশ্নের বিষয়।
সব বিতর্কের পরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে— ফ্রান্সে তাপপ্রবাহ এখন আর ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং ক্রমশ নিয়মিত বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। যখন রেকর্ড তাপমাত্রায় মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে, স্কুল বন্ধ করতে হচ্ছে, হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন শুধু পরিবেশগত আদর্শ নয়, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মোকাবিলার লড়াই চললেও একই সঙ্গে চরম আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক আপত্তি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে এসি আর কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি এখন জলবায়ু অভিযোজন, জনস্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রীয় আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

ইউরোপ জুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সে একটি পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে— জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এয়ার কন্ডিশনার বা এয়ারকন) কি সমাধান, নাকি এটি নিজেই সমস্যার অংশ?
দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত কারণে এয়ারকনের ব্যবহার সীমিত রাখার নীতি অনুসরণ করে আসা দেশটি এখন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে রেকর্ড তাপমাত্রা, অন্যদিকে হাসপাতাল, স্কুল ও গণসেবার ওপর বাড়তে থাকা চাপ— এ পরিস্থিতি ফ্রান্সের রাজনীতি, পরিবেশনীতি ও জনস্বাস্থ্যের আলোচনাকে নতুন মোড় দিয়েছে।
‘লা ক্লিম’ (ক্লিমাতিজাসিওঁ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ) নিয়ে এ বিতর্কের মধ্যেই ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী নেতা মারিন ল্য পেন রীতিমতো ভর্তুকি দিয়ে দেশ জুড়ে ব্যাপকভাবে এসি স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে এতদিন এসির বিরোধিতা করে আসা পরিবেশবাদীরাও এখন স্বীকার করছেন, কিছু ক্ষেত্রে এসির ব্যবহার অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। মঙ্গলবার দেশটি ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের রেকর্ড গড়ে। তীব্র গরমে হাজারও শিক্ষার্থীকে আগেভাগে বাড়ি পাঠাতে হয়েছে, অনেক স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মপরিবেশকে ‘অসহনীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে পোর্টেবল এয়ারকনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। অনেক পরিবার শুধু শিশুদের কয়েক ঘণ্টা পড়ালেখার সুযোগ করে দিতে বা রাতে কিছুটা স্বস্তিতে ঘুমানোর জন্য এসব যন্ত্র কিনছে।
অথচ ফ্রান্সে এসির ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। দেশটির মাত্র ২৫ শতাংশ পরিবারে এসি রয়েছে। অথচ স্পেন ও ইতালিতে এ হার ৫০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে প্রায় ৯০ শতাংশ। ফ্রান্সের হাসপাতাল ও স্কুলের বড় অংশেও এসির ব্যবস্থা নেই। ফলে তাপপ্রবাহের সময় এসব প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে।
চলতি জুনের তাপের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে ফ্রান্সের পরিবেশবাদীরা পর্যন্ত এখন কিছু মাত্রায় এসির ব্যবহারকে না করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ অধিকার কর্মীরা এসির বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের যুক্তি, এসি জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ দূর করে না, বরং সাময়িকভাবে এর প্রভাব কমিয়ে মানুষকে মূল সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
তাদের মতে, এয়ারকন ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। অনেক দেশে সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো হয়, যা আবার কার্বন নিঃসরণ বাড়ায়। যদিও ফ্রান্সের অধিকাংশ বিদ্যুৎ পারমাণবিক শক্তি থেকে আসে, তবুও বৈশ্বিক পর্যায়ে এয়ারকনের বিস্তার জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসকেও অন্যতম উদ্বেগের কারণ মনে করেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলে থাকেন, এগুলো শক্তিশালী গ্রিনহাউজ গ্যাস ও যন্ত্র থেকে লিক হলে জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া এয়ারকনের বাইরের ইউনিট থেকে নির্গত গরম বাতাস শহরের রাস্তায় অতিরিক্ত তাপ তৈরি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এর ফলে শহরের তাপমাত্রা আরও দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

তবে এবারের তাপপ্রবাহে পরিবেশবাদীদের অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ফ্রান্সের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘দ্য ইকোলজিস্টসে’র প্রধান মারি তঁদেলিয়ে স্বীকার করেছেন, এখন এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে এসি ছাড়া উপায় নেই। তার মতে, বিশেষ করে স্কুল ও হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। তার ভাষায়, ‘এখন এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে আমরা এটি ছাড়া চলতেই পারছি না।’
তঁদেলিয়ে বর্তমান সময়কে ‘এসিবিরোধী গোঁড়ামি’ থেকে বেরিয়ে আসার সময় বলে উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, পরিবেশবাদী রাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
কেবল পরিবেশবাদীরা না, ফরাসি সরকারও এসির ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করে আসছে। দেশটিতে নতুন ভবন নির্মাণ ও পুরোনো ভবনের সংস্কারে সাধারণত উন্নত তাপ নিরোধক, সবুজায়ন ও আধুনিক বায়ু চলাচল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেন এসির প্রয়োজনই না পড়ে।
এর একটি উদাহরণ পশ্চিমাঞ্চলীয় নঁত শহরে নির্মাণাধীন বিশাল নতুন হাসপাতাল। সেখানে মাত্র অর্ধেক কক্ষে এসির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে চিকিৎসাকর্মীদের ইউনিয়ন। সিজিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধি অলিভিয়ে তেরিয়েন বলেন, ‘বর্তমান পরিবেশগত বাস্তবতায় আমাদের সবখানেই এসির ব্যবস্থা থাকা উচিত।’
এসির ব্যবহার ইস্যুতে ফরাসি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও মতবিরোধ তীব্র হয়ে উঠছে। প্যারিস আঞ্চলিক কাউন্সিলের রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ভ্যালেরি পেক্রেস বলেন, ‘রাষ্ট্র একটি অ্যান্টি-ক্লিম মতাদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু শীতল পরিবেশ তৈরির অন্যান্য পদ্ধতির পাশাপাশি এসিকেও বিবেচনায় আনতেই হবে।’
প্যারিস অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা পেক্রেস ২০৩২ সালের মধ্যে সব বাস ও ট্রেনে এসি স্থাপনের আশা করছেন। এসি ব্যবহারের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য পূর্বসূরিদের সমালোচনাও করেন তিনি।
ফ্রান্সের ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোও বরাবরই এসির পক্ষে বেশি অবস্থান নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে মারিন ল্য পেনের দল ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) সবচেয়ে জোরালো অবস্থানে রয়েছে। এ সপ্তাহে ল্য পেন দেশ জুড়ে একটি ‘প্ল্যঁ ক্লিম’ বা শীতলীকরণ পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন, যার আওতায় সব স্কুল ও হাসপাতালে এসি স্থাপন করা হবে।

আরএনের মুখপাত্র জ্যা-ফিলিপ তঁগির ভাষ্য, এ পরিকল্পনায় সরকার-সমর্থিত ২০ বিলিয়ন ইউরো (২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড) সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা থাকবে, যেন তিন থেকে চার কোটি পরিবার নিজেদের বাসায় এসি লাগাতে পারে।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এ পরিকল্পনার অর্থায়ন নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। পাশাপাশি তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা স্বীকার করতেই যে রাজনৈতিক শক্তির দীর্ঘ সময় লেগেছে, তাদের বর্তমান অবস্থান কতটা বিশ্বাসযোগ্য— সেটি প্রশ্নের বিষয়।
সব বিতর্কের পরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে— ফ্রান্সে তাপপ্রবাহ এখন আর ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং ক্রমশ নিয়মিত বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। যখন রেকর্ড তাপমাত্রায় মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে, স্কুল বন্ধ করতে হচ্ছে, হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন শুধু পরিবেশগত আদর্শ নয়, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মোকাবিলার লড়াই চললেও একই সঙ্গে চরম আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক আপত্তি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে এসি আর কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি এখন জলবায়ু অভিযোজন, জনস্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রীয় আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলগুলো। এর মধ্যে রয়েছে লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফালকোন রাজ্য। এসব এলাকায় ভূমিকম্প ও পরবর্তী কম্পনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
১৬ ঘণ্টা আগে
এর মাধ্যমে ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালে গড়া জুন মাসের আগের সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ড ভেঙে গেছে। তবে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড এখনো ২০২২ সালের ১৯ জুলাই লিংকনশায়ারের কনিংসবিতে রেকর্ড হওয়া ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
১ দিন আগে
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার পরপরই চিকিৎসককে বিশেষায়িত হাসপাতালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভর্তি করা হয় এবং তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১ দিন আগে