
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিহারের দীর্ঘ ৩১ বছরের নিরাপদ ঘাঁটি বাঁকিপুর হারিয়েছে দলটি, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও পিছিয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিহারের দীর্ঘ ৩১ বছরের নিরাপদ ঘাঁটি বাঁকিপুর হারিয়েছে দলটি, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও পিছিয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিহারের দীর্ঘ ৩১ বছরের নিরাপদ ঘাঁটি বাঁকিপুর হারিয়েছে দলটি, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও পিছিয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিহারের দীর্ঘ ৩১ বছরের নিরাপদ ঘাঁটি বাঁকিপুর হারিয়েছে দলটি, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও পিছিয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে গুজরাটের মঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখতে সক্ষম হলেও আগের নির্বাচনের তুলনায় ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফল বিজেপির জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণেরও ইঙ্গিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেসহ একাধিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাঁকিপুরে ভোটগণনার শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। ৩০ দফা গণনা শেষে তিনি বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটে পরাজিত করেন। মোট ৬৩ হাজার ২০৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) প্রার্থী রেখা কুমারী গুপ্তা তৃতীয় স্থানে থাকেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই গোটা ভারতের নজর ছিল বাঁকিপুরের ফলের দিকে। প্রথম দফা গণনায় প্রশান্ত কিশোর পান ২ হাজার ২২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার সিনহা পান ১ হাজার ৩৯৩ ভোট এবং আরজেডির রেখা কুমারী গুপ্তা পান ৫০১ ভোট।
এরপর ধাপে ধাপে ব্যবধান বাড়তে থাকে। ২৭ দফা গণনা শেষে প্রশান্ত প্রায় ১৭ হাজার ভোটে এগিয়ে যান এবং ৩০ দফা শেষে তার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ফল ঘোষণার আগেই জন সুরাজ পার্টির কার্যালয়ের সামনে উৎসব শুরু হয়। হলুদ আবির, মিষ্টি বিতরণ এবং ঢাক-ঢোলের মধ্য দিয়ে কর্মীরা বিজয় উদযাপন করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু বিজেপির তিন দশকেরও বেশি সময়ের দুর্গ ভেঙে দেননি প্রশান্ত কিশোর, একই সঙ্গে বিহার বিধানসভায় প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে তার দল জন সুরাজ পার্টি। এটিই ছিল ভোটের মাঠে প্রশান্ত কিশোরের প্রথম সরাসরি নির্বাচনি লড়াই।
বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিহারে বিজেপির সবচেয়ে নিরাপদ আসনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা ৩১ বছর ধরে আসনটি ধরে রেখেছিল দলটি। সর্বশেষ এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। পরে তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে। এর আগে তার বাবা নবীন কিশোরও একই কেন্দ্র থেকে তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে এই আসন ধরে রাখা বিজেপির জন্য ছিল মর্যাদার প্রশ্ন।
এই নির্বাচনে মূল লড়াই হয় প্রশান্ত কিশোর, বিজেপি এবং আরজেডির মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ‘জন সুরাজ’ অভিযানের মাধ্যমে বিকল্প রাজনীতির বার্তা দিয়ে আসা প্রশান্ত কিশোরের জন্য এটি ছিল রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রথম বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বড় জয় তাকে বিহারের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।
জয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর বলেন, মাত্র ৩০ দিনের প্রচারণায় তিনি বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গ ভেঙে দিয়েছেন। তার ভাষায়, এই ফল প্রমাণ করেছে বিহারের মানুষ এখন বিনামূল্যের রেশন কিংবা জাতপাতের রাজনীতির চেয়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “বিহারের মানুষ চায় সরকার চার-পাঁচ কেজি বিনামূল্যের রেশন আর জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করুক। যেসব সরকার মানুষের এসব উদ্বেগ উপেক্ষা করবে, তারা ভবিষ্যতেও একই ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”
প্রশান্ত আরও বলেন, তার লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং উন্নততর শাসনের জন্য। তিনি স্বীকার করেন, বিহার শাসনের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর জনাদেশ রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিহারের উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম এমন একজন যোগ্য ও সৎ মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা উচিত।
তিনি দাবি করেন, এই ফলের মাধ্যমে বাঁকিপুরের মানুষ বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বিহারের জন্য একজন যোগ্য, সৎ ও উন্নয়নমুখী মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজন।
অন্যদিকে পরাজয় মেনে নিয়ে বিহারের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা বিজয় কুমার সিনহা বলেন, “এটি গণতন্ত্রের দেশ। আমরা জনগণের রায়কে সম্মান করি। ভারতীয় জনতা পার্টি সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশন কিংবা ইভিএমকে দোষারোপ করি না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করি এবং জনগণের রায় মেনে নিই।”
বিহার বিজেপির সভাপতি সঞ্জয় সরাওগীও প্রশান্ত কিশোরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমরা বাঁকিপুরের উন্নয়নে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। কেন ভোট কমল, তা পর্যালোচনা করা হবে।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, কয়েক মাস আগেই বিহারে বিজেপি বড় ব্যবধানে সরকার গঠন করেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই সাফল্যের অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁকিপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হারানো বিজেপির জন্য অস্বস্তিকর।
শুধু বিহার নয়, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া উপনির্বাচনেও চাপে পড়েছে বিজেপি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস এই আসনটি জিতেছিল। পরে কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী জালিয়াতির মামলায় তিন বছরের সাজা পাওয়ায় তার সদস্যপদ বাতিল হলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
এবার বিজেপি আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করলেও দলীয় বিদ্রোহ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত গণনায় কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং প্রায় ৯ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
অন্যদিকে গুজরাটের মঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখতে পারছে বিজেপি। তবে আগের নির্বাচনে যেখানে দলটি এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল, এবার ব্যবধান নেমে এসেছে প্রায় ২৭ হাজারে। ফলে জয় পেলেও ভোটের ব্যবধান কমে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতে সাম্প্রতিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘জেন-জি’ আন্দোলনের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। তাই নতুন প্রজন্মের ভোট কোন দিকে যায়, তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশেষ করে বিহারে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির বদলে প্রশান্ত কিশোরকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তিন রাজ্যের এই উপনির্বাচনের ফল শুধু তিনটি আসনের হিসাব নয়; বরং বিজেপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিরোধী রাজনীতির নতুন সম্ভাবনা এবং আগামী বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিবর্তিত জনমতেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিহারের দীর্ঘ ৩১ বছরের নিরাপদ ঘাঁটি বাঁকিপুর হারিয়েছে দলটি, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও পিছিয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিহারের দীর্ঘ ৩১ বছরের নিরাপদ ঘাঁটি বাঁকিপুর হারিয়েছে দলটি, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও পিছিয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিহারের দীর্ঘ ৩১ বছরের নিরাপদ ঘাঁটি বাঁকিপুর হারিয়েছে দলটি, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও পিছিয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিহারের দীর্ঘ ৩১ বছরের নিরাপদ ঘাঁটি বাঁকিপুর হারিয়েছে দলটি, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও পিছিয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে গুজরাটের মঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখতে সক্ষম হলেও আগের নির্বাচনের তুলনায় ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফল বিজেপির জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণেরও ইঙ্গিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেসহ একাধিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাঁকিপুরে ভোটগণনার শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। ৩০ দফা গণনা শেষে তিনি বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটে পরাজিত করেন। মোট ৬৩ হাজার ২০৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) প্রার্থী রেখা কুমারী গুপ্তা তৃতীয় স্থানে থাকেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই গোটা ভারতের নজর ছিল বাঁকিপুরের ফলের দিকে। প্রথম দফা গণনায় প্রশান্ত কিশোর পান ২ হাজার ২২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার সিনহা পান ১ হাজার ৩৯৩ ভোট এবং আরজেডির রেখা কুমারী গুপ্তা পান ৫০১ ভোট।
এরপর ধাপে ধাপে ব্যবধান বাড়তে থাকে। ২৭ দফা গণনা শেষে প্রশান্ত প্রায় ১৭ হাজার ভোটে এগিয়ে যান এবং ৩০ দফা শেষে তার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ফল ঘোষণার আগেই জন সুরাজ পার্টির কার্যালয়ের সামনে উৎসব শুরু হয়। হলুদ আবির, মিষ্টি বিতরণ এবং ঢাক-ঢোলের মধ্য দিয়ে কর্মীরা বিজয় উদযাপন করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু বিজেপির তিন দশকেরও বেশি সময়ের দুর্গ ভেঙে দেননি প্রশান্ত কিশোর, একই সঙ্গে বিহার বিধানসভায় প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে তার দল জন সুরাজ পার্টি। এটিই ছিল ভোটের মাঠে প্রশান্ত কিশোরের প্রথম সরাসরি নির্বাচনি লড়াই।
বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিহারে বিজেপির সবচেয়ে নিরাপদ আসনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা ৩১ বছর ধরে আসনটি ধরে রেখেছিল দলটি। সর্বশেষ এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। পরে তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে। এর আগে তার বাবা নবীন কিশোরও একই কেন্দ্র থেকে তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে এই আসন ধরে রাখা বিজেপির জন্য ছিল মর্যাদার প্রশ্ন।
এই নির্বাচনে মূল লড়াই হয় প্রশান্ত কিশোর, বিজেপি এবং আরজেডির মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ‘জন সুরাজ’ অভিযানের মাধ্যমে বিকল্প রাজনীতির বার্তা দিয়ে আসা প্রশান্ত কিশোরের জন্য এটি ছিল রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রথম বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বড় জয় তাকে বিহারের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।
জয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর বলেন, মাত্র ৩০ দিনের প্রচারণায় তিনি বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গ ভেঙে দিয়েছেন। তার ভাষায়, এই ফল প্রমাণ করেছে বিহারের মানুষ এখন বিনামূল্যের রেশন কিংবা জাতপাতের রাজনীতির চেয়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “বিহারের মানুষ চায় সরকার চার-পাঁচ কেজি বিনামূল্যের রেশন আর জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করুক। যেসব সরকার মানুষের এসব উদ্বেগ উপেক্ষা করবে, তারা ভবিষ্যতেও একই ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”
প্রশান্ত আরও বলেন, তার লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং উন্নততর শাসনের জন্য। তিনি স্বীকার করেন, বিহার শাসনের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর জনাদেশ রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিহারের উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম এমন একজন যোগ্য ও সৎ মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা উচিত।
তিনি দাবি করেন, এই ফলের মাধ্যমে বাঁকিপুরের মানুষ বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বিহারের জন্য একজন যোগ্য, সৎ ও উন্নয়নমুখী মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজন।
অন্যদিকে পরাজয় মেনে নিয়ে বিহারের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা বিজয় কুমার সিনহা বলেন, “এটি গণতন্ত্রের দেশ। আমরা জনগণের রায়কে সম্মান করি। ভারতীয় জনতা পার্টি সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশন কিংবা ইভিএমকে দোষারোপ করি না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করি এবং জনগণের রায় মেনে নিই।”
বিহার বিজেপির সভাপতি সঞ্জয় সরাওগীও প্রশান্ত কিশোরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমরা বাঁকিপুরের উন্নয়নে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। কেন ভোট কমল, তা পর্যালোচনা করা হবে।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, কয়েক মাস আগেই বিহারে বিজেপি বড় ব্যবধানে সরকার গঠন করেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই সাফল্যের অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁকিপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হারানো বিজেপির জন্য অস্বস্তিকর।
শুধু বিহার নয়, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া উপনির্বাচনেও চাপে পড়েছে বিজেপি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস এই আসনটি জিতেছিল। পরে কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী জালিয়াতির মামলায় তিন বছরের সাজা পাওয়ায় তার সদস্যপদ বাতিল হলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
এবার বিজেপি আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করলেও দলীয় বিদ্রোহ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত গণনায় কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং প্রায় ৯ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
অন্যদিকে গুজরাটের মঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখতে পারছে বিজেপি। তবে আগের নির্বাচনে যেখানে দলটি এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল, এবার ব্যবধান নেমে এসেছে প্রায় ২৭ হাজারে। ফলে জয় পেলেও ভোটের ব্যবধান কমে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতে সাম্প্রতিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘জেন-জি’ আন্দোলনের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। তাই নতুন প্রজন্মের ভোট কোন দিকে যায়, তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশেষ করে বিহারে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির বদলে প্রশান্ত কিশোরকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তিন রাজ্যের এই উপনির্বাচনের ফল শুধু তিনটি আসনের হিসাব নয়; বরং বিজেপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিরোধী রাজনীতির নতুন সম্ভাবনা এবং আগামী বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিবর্তিত জনমতেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিয়ে তিনি ‘খুবই সন্দিহান’। তিনি বলেন, গাজায় হামলা বন্ধের কোনো চুক্তি হয়নি এবং হামাস নিরস্ত্র না হলে এরই মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসরায়েলের পুরো গাজা দখল করা প্রয়োজন হতে পার
১৪ ঘণ্টা আগে
স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের জানানো প্রাণহানির এ সংখ্যা মরক্কো সরকারের ঘোষিত মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার (২ আগস্ট) এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্পেনের জানানো প্রাণহানির খবরগুলোও তারা যাচাই করে দেখছে বলে জানিয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ পথ নির্ধারণের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তারা। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এমন কোনো সমঝোতা হলেও প্রণালিটি যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।
১৫ ঘণ্টা আগে
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা অনেক বাড়িতে আগুন দিয়েছে। এর মধ্যে একটি বাড়িতে আগুন দিলে পরিবারের সদস্যরা বের হতে পারেননি। ঘরে বন্দি হয়ে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ওই বাড়িতে থাকা ছয়জনের।
১৫ ঘণ্টা আগে