শরীয়তপুরে পদ্মার তীররক্ষা বাঁধের ৪০ মিটার নদীগর্ভে, হুমকিতে সুরেশ্বর

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ার পর এর একটি অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৪০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে।
ভাঙনের আশঙ্কায় নদীপাড়ের অন্তত ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, যে গতিতে বাঁধের মাটি সরে যাচ্ছে, তাতে সুরেশ্বরের মাছের আড়ৎ, বাজার, লঞ্চঘাট, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও হুমকির মুখে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে বাঁধের একটি অংশ হঠাৎ নদীতে ধসে পড়ার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তলদেশের মাটি সরে গিয়ে এ এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।
ব্যবসায়ী আবুল কালাম বেপারী ও দেলোয়ার হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকার ডান তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা যায়। এরপর পদ্মার প্রবল স্রোতে ফাটল ধীরে ধীরে বড় হতে থাকলে ঘাটের দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পড়ে।
পরিস্থিতি দেখে অনেকে আগেই তাদের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে বিকট শব্দে ফাটল ধরা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে আশপাশের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়ে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় সুরেশ্বর মাছের আড়ৎ, সুরেশ্বর বাজার ও লঞ্চঘাটসহ আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। ব্যবসায়ী রুবেল খান বলেন, ‘বাঁধের এই অংশ ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
দুই দিন আগে বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে আছেন ব্যবসায়ী মামুন বেপারী। তিনি বলেন, ‘এখন যেভাবে মাটি সরে যাচ্ছে, তাতে যে কোনো সময় বাঁধের বড় অংশ ভেঙে যেতে পারে। এতে আমাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।’
স্থানীয় বাসিন্দা কুদ্দুস বেপারী ও মিজানুর রহমানের অভিযোগ, নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তলদেশের মাটি সরে যাচ্ছে। এতে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। তাদের মতে, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন বন্ধ করার পাশাপাশি স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশাপাশি পুরো জনপদও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিলটন হোসেন বলেন, ফাটল ধরা বাঁধের ৫০ মিটার অংশের মধ্যে ৩০ মিটার ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে নদীভাঙন থেকে নড়িয়া ও জাজিরার বিস্তীর্ণ জনপদ রক্ষায় পদ্মার ডান তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে ব্যয় হয় এক হাজার ৪১৭ কোটি টাকা এবং প্রকল্পের আওতায় পদ্মার ডান তীরের ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার অংশ রক্ষা করা হয়।


















