রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড়ের প্রভাব পড়েছে টলিউডের একাধিক তারকা প্রার্থীর ওপরও। সোমবার (৪ মে) ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, কিছু হেভিওয়েট প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, আবার অনেকে পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে টানা তিন বার ক্ষমতায় থাকার পর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের পর পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের লড়াই কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তাদের লড়াই করতে হয়েছে খোদ ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে।
বহুত্ববাদী সমাজ হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি অতীতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মোড় এনে দিয়েছে এবং বিজেপির জন্য ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করেছে বলে মনে করেন দ্য প্রিন্টের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর দ্বীপ হালদার।
১৫ বছরের শাসনের অবসান এবং ভবানীপুর কেন্দ্রে নিজের পরাজয়ের পর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে মমতার তোলা ‘ভোট চুরির’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য় রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে রাহুল বলেন, ‘আসাম ও বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) নির্বাচন ইসির সহায়তায় চুরি করে নিয়েছে বিজেপি। এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে। আমরা মমতাজির সঙ্গে একমত— বাংলায় ১০০টিরও বেশি আসন চুরি হয়েছে।’
ভবানীপুরের এ আসনের ফলাফল গোটা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেরই প্রতীকী চিত্র হয়ে রইল। মমতা যেমন হেরে গেলেন শুভেন্দুর কাছে, তেমনি গোটা রাজ্যেই গেরুয়া ঝড়ে পদ্মফুলের উত্থানে উড়ে গেছে জোড়া ফুলের লড়াই।
২০ রাউন্ডের ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৯১৭ ভোট। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৮১২ ভোট। সে হিসাবে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের ব্যবধানে মমতাকে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, সোমবার (৪ মে) রাতে ঘোষিত ফরাফলে তামিল রাজ্যটিতে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের দলই শেষ হাসি হেসেছে। ২৩৪টি আসনের মধ্যে টিভিকে জয় পেয়েছে ১০৬ আসনে। আরও একটি আসনে দলটি এগিয়ে রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত চতুর্থবারের চেষ্টায় তৃণমূল দুর্গে ফাটল ধরিয়ে পদ্মফুলের পতাকা উড়ল পশ্চিমবঙ্গে। মোদি বলেন, আমি বাংলা, অসম, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও কেরালার জনতাকে প্রণাম জানাই। বিজেপির কোটি-কোটি কার্যকর্তাকে হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনারা নতুন ইতিহাস রচনা করলেন।
এ বাউন্ডের ফল ঘোষণার পর দেখা গেছে, পদ্মফুলের প্রার্থী শুভেন্দু পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৩৮৬ ভোট। অন্যদিকে জোড়া ফুলের মমতা পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮৩২ ভোট। সে হিসাবে মমতার চেয়ে ৫৬৩ ভোটে এগিয়ে গেছেন শুভেন্দু।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে আরও অনেক বাকি থাকলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের জয়ের ঘোষণাই দিয়ে বসেছেন। একে অভিহিত করেছেন ‘অবিস্মরণীয় জয়’ হিসেবে। এ জয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষকে প্রণামও জানিয়েছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের সঙ্গে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। তবে এ নির্বাচনে সবার বৃষ্টি ভবানীপুরে এখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
প্রাপ্ত ফলাফল বলছে, এখন পর্যন্ত ১২৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। এখন পর্যন্ত তারা এগিয়ে রয়েছে ১২১টি আসনে। বিধানসভায় রাজ্য সরকার গঠন করতে হলে কোনো দলকে ন্যূনতম ১৪৭টি আসনে জয় পেতে হবে। সে হিসাবে দুই দলের সামনেই এখনো বিধানসভা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন ভোটা
ভোটকর্মী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ যারা পেশাগত কারণে নিজের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ইভিএমে ভোট দিতে পারেননি, তাদের জন্যই পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোট নেওয়া হয় এবং সেগুলো ব্যালট বাক্সে সংরক্ষিত থাকে।
গত ২৬ মার্চ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ নদীভিত্তিক ফাঁকফোকরে সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই’ করতে নির্দেশ দেয়। এই নতুন উদ্যোগ ভারতেই মানবাধিকারকর্মী ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণবাদীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশ হতে শুরু করেছে বুথফেরত জরিপের ফলাফল। বেশিরভাগ জরিপে বিজেপি এগিয়ে, আবার কোনোটিতে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। বুথফেরত সমীক্ষার ফল সত্যি হলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বিজেপি।