
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরান যুদ্ধ এবং এর অবসান কীভাবে হবে— তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে একদিকে ওয়াশিংটনের চাপ, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতের টানাপোড়েনে এক কঠিন রাজনৈতিক উভয় সংকটে পড়েছেন তিনি।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক ক্রমশ টানাপোড়েনের দিকে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত থামাতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে দুই নেতার সম্পর্ক এখন সম্ভবত ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের করা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইসরায়েলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে সব সময় গর্ব করা নেতানিয়াহুকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন দেশটির অনেকে। এর পরপরই গত সপ্তাহে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের মধ্যে আরেকটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা সই হয়। এবারের চুক্তিটি তুলনামূলকভাবে ইসরায়েলের জন্য বেশি সুবিধাজনক বলে মনে হলেও দেশটির ভেতরে তা নিয়ে সন্দেহ কাটেনি। কারণ, অধিকাংশ ইসরায়েলি এখনো হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুরোপুরি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।
মূলত গত সপ্তাহের ওই সমঝোতার আগেই নেতানিয়াহুর ওপর ক্রমেই বিরক্ত হয়ে উঠছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আশঙ্কা ছিল, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক তৎপরতা ইরানের সঙ্গে হতে যাওয়া মূল যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
ট্রাম্প নিজেই পরে স্বীকার করেছেন, এক উত্তপ্ত ফোনালাপে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং অত্যন্ত কড়া ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়েও দাবি করা হয়েছে, গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগেও দুজনের মধ্যে একই ধরনের ক্ষুব্ধ ফোনালাপ হয়েছিল।
এসব তথ্য এমন একটি চিত্রই সামনে আনে, যেখানে দীর্ঘদিন নিজেদের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ‘সুন্দর বন্ধুত্ব’ নিয়ে বড়াই করা দুই শীর্ষ নেতা এখন আর একই সমান্তরালে নেই। তবে প্রশ্ন হলো, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত অসন্তোষ কি শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউজের নীতিতেও বড় কোনো পরিবর্তন আনবে? আর যদি তা-ই হয়, তবে ইসরায়েলের রাজনীতি এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তার প্রভাব কী হতে পারে?
সুসম্পর্কের দিনগুলো যেভাবে ফুরালো
২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সম্ভবত নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি স্বস্তি আর কেউ পাননি। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বিদায়ী জো বাইডেন প্রশাসনের সময় নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য চুক্তি, গাজা যুদ্ধ এবং জিম্মিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে তিনি ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন।
বাস্তবেও দেখা গেছে, ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুমোদন দেয়, যার ফলে ৩৩ জন জিম্মি মুক্তি পান। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিদিন টেকেনি; ঠিক সেখান থেকেই দুই নেতার মধ্যে মতৈক্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প প্রথমে গাজার ফিলিস্তিনিদের লিবিয়ায় পুনর্বাসনের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনার কথা বলেন। একই সঙ্গে হামাসকে হুঁশিয়ারি দেন, জিম্মিদের মুক্তি না দিলে তাদের ‘ভয়াবহ মূল্য’ দিতে হবে। কিন্তু এর মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তিনি গাজার জন্য একদম নতুন এক ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং কার্যত ইসরায়েল ও হামাস— উভয় পক্ষকেই যুদ্ধবিরতিতে যেতে বাধ্য করেন।
এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছিলেন, সব জিম্মিকে উদ্ধার এবং হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত গাজায় সামরিক অভিযান চলবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা এবং পরবর্তী জিম্মি বিনিময় চুক্তিটিই মেনে নিতে হয়। জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এর আগেও এমন সমঝোতার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু নেতানিয়াহু তা ভেস্তে দিয়েছিলেন; এবার কেবল ট্রাম্পের তীব্র চাপের মুখেই তিনি রাজি হয়েছেন।
দুই নেতার লক্ষ্য কেন আলাদা
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বিশ্বদৃষ্টি এবং ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য এক নয়।
যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো যখন ধীরে ধীরে অলীক ও অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ছিল, তখন ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে মন দেন। বিপরীতে নেতানিয়াহু চান ইরান এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখতে— যদিও এই যুদ্ধের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছিল ইসরায়েলকেই। এমনকি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিজেই একপর্যায়ে স্বীকার করে যে, পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান ছাড়া হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা অবাস্তব।
গাজা, লেবানন ও ইরানে ট্রাম্প ইসরায়েলকে যা খুশি তা-ই করার পূর্ণ স্বাধীনতা (কার্ট ব্লাঞ্চ) দেবেন— নেতানিয়াহুর সেই প্রত্যাশাও শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। ট্রাম্প যেখানে দ্রুত সাফল্য অর্জন করে নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত লাভ নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন, সেখানে নেতানিয়াহু বরং এমন এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধেই বেশি আগ্রহী ছিলেন, যেটি এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প মার্কিন ভোটারদের দিয়েছিলেন।
দুই নেতার লক্ষ্যের এই বড় পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি নড়বড়ে সমঝোতায় সই করে এবং একই সঙ্গে লেবাননে ইসরায়েলকে সমস্ত সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানায়।
লেবানন চুক্তি ও নির্বাচনের নতুন সমীকরণ
লেবাননের সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করতে পারবে। নেতানিয়াহুও ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, সেনারা এখনই সরছে না।
আসন্ন নির্বাচনের আগে দক্ষিণ লেবানন থেকে বড় পরিসরে সেনা প্রত্যাহার করা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অত্যন্ত অজনপ্রিয় একটি সিদ্ধান্ত হবে। তাই এমন কোনো পদক্ষেপ যেকোনো মূল্যে এড়িয়ে চলতে চাইবেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে ট্রাম্প মরিয়া হয়ে চান এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো উপায়ে টিকে থাকুক, যাতে ইরানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা যায়।
এই সমঝোতা কঠোরভাবে কার্যকর করতে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত কতটা চাপ প্রয়োগ করবে, তা অবশ্য এখনো দেখার বিষয়। আপাতত চুক্তির সময়সীমা অস্পষ্ট এবং ইসরায়েলের ওপর শর্তও তুলনামূলকভাবে কম। তবে পরিস্থিতি যে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের এই টানাপোড়েন নেতানিয়াহুকে অনেকটাই দুর্বল অবস্থায় দাঁড় করিয়ে দেবে। একই সময়ে গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের বহু আন্তর্জাতিক সম্পর্কও চরম সংকটে রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মন্তব্য— ‘ট্রাম্পই এখন ইসরায়েলের শেষ শক্তিশালী মিত্র’— অনেকের কাছেই এখন রূঢ় বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে হচ্ছে।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু নতুন সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসন বা সমর্থন পাচ্ছেন না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলা ঠেকাতে না পারা, দীর্ঘায়িত জিম্মি সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা, হামাসের বিরুদ্ধে কোনো নির্ণায়ক বিজয় অর্জনে অক্ষমতা, বিচার বিভাগ সংস্কার নিয়ে বিতর্ক এবং দুর্নীতির অভিযোগ— সব মিলিয়ে তার নেতৃত্ব ও লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। লেবাননের সঙ্গে নতুন সমঝোতা ভোটারদের ওপর নতুন কোনো প্রভাব ফেলবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে আপাতত এটিকে নির্বাচনের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা (গেম চেঞ্জার) বলে মনে হচ্ছে না।
পুরনো চাল কি এবার খাটবে?
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের এই ফাটল ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেটি নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। এখন, ১১ বছর পর, ট্রাম্পকে ঘিরেও তিনি একই ধরনের ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার বা জাতীয়তাবাদের কৌশল নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
জনমত জরিপ বলছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ইসরায়েলি মনে করেন ট্রাম্পের বর্তমান নীতিগুলো ইসরায়েলের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে নেতানিয়াহুপন্থি গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পকে একজন দুর্বল ও সিদ্ধান্তহীন নেতা হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে একদিকে যেমন অনেক ভোটার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই প্রকাশ্য দূরত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে কট্টরপন্থি আরেকটি অংশ নেতানিয়াহুর এই অনমনীয় অবস্থানকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
অবশ্য ট্রাম্প এখনো নেতানিয়াহুর প্রতি তার সমর্থন পুরোপুরি প্রত্যাহার করেননি। তিনি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে শেষ পর্যন্ত সমর্থন করার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে নির্বাচনে আর কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেটিও তিনি বিবেচনায় রাখবেন।
আসল প্রশ্ন হলো, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কি নেতানিয়াহুর পক্ষে তার পূর্ণ রাজনৈতিক ওজন ঢেলে দেবেন? এমনকি সেই সমর্থনের প্রতীক হিসেবে কি তিনি জেরুজালেম সফর করবেন?
অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সফর ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রকাশ্য আলিঙ্গন এখনো রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করলেও, আগের মতো সেটি আর নিশ্চিত জয়ের তাস নয়।
তার পরও একে পুরোপুরি গুরুত্বহীন বলা ভুল হবে। বিশেষ করে ডানপন্থি ইসরায়েলি ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের সমর্থনের একটি আলাদা রাজনৈতিক মূল্য এখনো রয়েছে। তবে দুই নেতার প্রকাশ্য মতবিরোধ সেই সমীকরণকে আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল করে তুলেছে। এবারের নির্বাচনে বড় প্রশ্ন একটাই— ট্রাম্পের সেই সমর্থনের ধার কি এখন এতটাই কমে গেছে যে তা আর ভোটের ফলাফলে কোনো বড় পরিবর্তন আনতে পারবে না?
দুই নেতার বিরোধের বাইরে বাস্তবতা
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের এই টানাপোড়েন কেবল দুই প্রভাবশালী নেতার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের গল্প নয়। এর পেছনে রয়েছে গভীর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে মতপার্থক্য দেখা গেছে। তবে এবারের পরিস্থিতির পার্থক্য হলো, এই দুই নেতা ক্ষমতা ছাড়লেই যে দুই দেশের এই দূরত্ব স্বাভাবিক হয়ে যাবে— এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
বরং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক কম আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদার নিয়ে এখন এগোতে হচ্ছে ইসরায়েলকে। একই সঙ্গে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও দেশটির প্রতি সর্বজনীন রাজনৈতিক সমর্থন ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি অনেকটাই নির্ধারিত হবে এই মৌলিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে— সম্পর্কের এই অবনতির জন্য আসলে কে দায়ী এবং তা পুনর্গঠনের সক্ষমতা কার বেশি? নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় সত্যিই শেষের দিকে কি না, তার উত্তরও লুকিয়ে আছে এই নির্বাচনি হিসাব-নিকাশের ভেতরেই।
[যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউজে প্রকাশিত নিবন্ধের ভাবানুবাদ। নিবন্ধটি লিখেছেন প্রতিষ্ঠানটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো ক্সেনিয়া সোয়েতলোভা। তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা ‘রোপস’-এর নির্বাহী পরিচালক এবং ইসরায়েলের সাবেক সংসদ সদস্য। প্রায় ১৫ বছর ধরে ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ৯’-এ মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাংবাদিকতা করেছেন। পাশাপাশি তিনি জেরুজালেম পোস্ট, টাইমস অব ইসরায়েল, হারেৎজ এবং বিবিসি রাশিয়ানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত কলাম লিখে আসছেন। তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার ভূরাজনীতি ও প্রভাব]

ইরান যুদ্ধ এবং এর অবসান কীভাবে হবে— তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে একদিকে ওয়াশিংটনের চাপ, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতের টানাপোড়েনে এক কঠিন রাজনৈতিক উভয় সংকটে পড়েছেন তিনি।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক ক্রমশ টানাপোড়েনের দিকে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত থামাতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে দুই নেতার সম্পর্ক এখন সম্ভবত ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের করা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইসরায়েলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে সব সময় গর্ব করা নেতানিয়াহুকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন দেশটির অনেকে। এর পরপরই গত সপ্তাহে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের মধ্যে আরেকটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা সই হয়। এবারের চুক্তিটি তুলনামূলকভাবে ইসরায়েলের জন্য বেশি সুবিধাজনক বলে মনে হলেও দেশটির ভেতরে তা নিয়ে সন্দেহ কাটেনি। কারণ, অধিকাংশ ইসরায়েলি এখনো হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুরোপুরি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।
মূলত গত সপ্তাহের ওই সমঝোতার আগেই নেতানিয়াহুর ওপর ক্রমেই বিরক্ত হয়ে উঠছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আশঙ্কা ছিল, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক তৎপরতা ইরানের সঙ্গে হতে যাওয়া মূল যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
ট্রাম্প নিজেই পরে স্বীকার করেছেন, এক উত্তপ্ত ফোনালাপে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং অত্যন্ত কড়া ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়েও দাবি করা হয়েছে, গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগেও দুজনের মধ্যে একই ধরনের ক্ষুব্ধ ফোনালাপ হয়েছিল।
এসব তথ্য এমন একটি চিত্রই সামনে আনে, যেখানে দীর্ঘদিন নিজেদের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ‘সুন্দর বন্ধুত্ব’ নিয়ে বড়াই করা দুই শীর্ষ নেতা এখন আর একই সমান্তরালে নেই। তবে প্রশ্ন হলো, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত অসন্তোষ কি শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউজের নীতিতেও বড় কোনো পরিবর্তন আনবে? আর যদি তা-ই হয়, তবে ইসরায়েলের রাজনীতি এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তার প্রভাব কী হতে পারে?
সুসম্পর্কের দিনগুলো যেভাবে ফুরালো
২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সম্ভবত নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি স্বস্তি আর কেউ পাননি। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বিদায়ী জো বাইডেন প্রশাসনের সময় নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য চুক্তি, গাজা যুদ্ধ এবং জিম্মিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে তিনি ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন।
বাস্তবেও দেখা গেছে, ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুমোদন দেয়, যার ফলে ৩৩ জন জিম্মি মুক্তি পান। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিদিন টেকেনি; ঠিক সেখান থেকেই দুই নেতার মধ্যে মতৈক্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প প্রথমে গাজার ফিলিস্তিনিদের লিবিয়ায় পুনর্বাসনের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনার কথা বলেন। একই সঙ্গে হামাসকে হুঁশিয়ারি দেন, জিম্মিদের মুক্তি না দিলে তাদের ‘ভয়াবহ মূল্য’ দিতে হবে। কিন্তু এর মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তিনি গাজার জন্য একদম নতুন এক ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং কার্যত ইসরায়েল ও হামাস— উভয় পক্ষকেই যুদ্ধবিরতিতে যেতে বাধ্য করেন।
এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছিলেন, সব জিম্মিকে উদ্ধার এবং হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত গাজায় সামরিক অভিযান চলবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা এবং পরবর্তী জিম্মি বিনিময় চুক্তিটিই মেনে নিতে হয়। জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এর আগেও এমন সমঝোতার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু নেতানিয়াহু তা ভেস্তে দিয়েছিলেন; এবার কেবল ট্রাম্পের তীব্র চাপের মুখেই তিনি রাজি হয়েছেন।
দুই নেতার লক্ষ্য কেন আলাদা
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বিশ্বদৃষ্টি এবং ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য এক নয়।
যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো যখন ধীরে ধীরে অলীক ও অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ছিল, তখন ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে মন দেন। বিপরীতে নেতানিয়াহু চান ইরান এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখতে— যদিও এই যুদ্ধের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছিল ইসরায়েলকেই। এমনকি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিজেই একপর্যায়ে স্বীকার করে যে, পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান ছাড়া হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা অবাস্তব।
গাজা, লেবানন ও ইরানে ট্রাম্প ইসরায়েলকে যা খুশি তা-ই করার পূর্ণ স্বাধীনতা (কার্ট ব্লাঞ্চ) দেবেন— নেতানিয়াহুর সেই প্রত্যাশাও শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। ট্রাম্প যেখানে দ্রুত সাফল্য অর্জন করে নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত লাভ নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন, সেখানে নেতানিয়াহু বরং এমন এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধেই বেশি আগ্রহী ছিলেন, যেটি এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প মার্কিন ভোটারদের দিয়েছিলেন।
দুই নেতার লক্ষ্যের এই বড় পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি নড়বড়ে সমঝোতায় সই করে এবং একই সঙ্গে লেবাননে ইসরায়েলকে সমস্ত সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানায়।
লেবানন চুক্তি ও নির্বাচনের নতুন সমীকরণ
লেবাননের সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করতে পারবে। নেতানিয়াহুও ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, সেনারা এখনই সরছে না।
আসন্ন নির্বাচনের আগে দক্ষিণ লেবানন থেকে বড় পরিসরে সেনা প্রত্যাহার করা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অত্যন্ত অজনপ্রিয় একটি সিদ্ধান্ত হবে। তাই এমন কোনো পদক্ষেপ যেকোনো মূল্যে এড়িয়ে চলতে চাইবেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে ট্রাম্প মরিয়া হয়ে চান এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো উপায়ে টিকে থাকুক, যাতে ইরানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা যায়।
এই সমঝোতা কঠোরভাবে কার্যকর করতে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত কতটা চাপ প্রয়োগ করবে, তা অবশ্য এখনো দেখার বিষয়। আপাতত চুক্তির সময়সীমা অস্পষ্ট এবং ইসরায়েলের ওপর শর্তও তুলনামূলকভাবে কম। তবে পরিস্থিতি যে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের এই টানাপোড়েন নেতানিয়াহুকে অনেকটাই দুর্বল অবস্থায় দাঁড় করিয়ে দেবে। একই সময়ে গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের বহু আন্তর্জাতিক সম্পর্কও চরম সংকটে রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মন্তব্য— ‘ট্রাম্পই এখন ইসরায়েলের শেষ শক্তিশালী মিত্র’— অনেকের কাছেই এখন রূঢ় বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে হচ্ছে।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু নতুন সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসন বা সমর্থন পাচ্ছেন না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলা ঠেকাতে না পারা, দীর্ঘায়িত জিম্মি সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা, হামাসের বিরুদ্ধে কোনো নির্ণায়ক বিজয় অর্জনে অক্ষমতা, বিচার বিভাগ সংস্কার নিয়ে বিতর্ক এবং দুর্নীতির অভিযোগ— সব মিলিয়ে তার নেতৃত্ব ও লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। লেবাননের সঙ্গে নতুন সমঝোতা ভোটারদের ওপর নতুন কোনো প্রভাব ফেলবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে আপাতত এটিকে নির্বাচনের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা (গেম চেঞ্জার) বলে মনে হচ্ছে না।
পুরনো চাল কি এবার খাটবে?
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের এই ফাটল ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেটি নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। এখন, ১১ বছর পর, ট্রাম্পকে ঘিরেও তিনি একই ধরনের ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার বা জাতীয়তাবাদের কৌশল নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
জনমত জরিপ বলছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ইসরায়েলি মনে করেন ট্রাম্পের বর্তমান নীতিগুলো ইসরায়েলের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে নেতানিয়াহুপন্থি গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পকে একজন দুর্বল ও সিদ্ধান্তহীন নেতা হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে একদিকে যেমন অনেক ভোটার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই প্রকাশ্য দূরত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে কট্টরপন্থি আরেকটি অংশ নেতানিয়াহুর এই অনমনীয় অবস্থানকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
অবশ্য ট্রাম্প এখনো নেতানিয়াহুর প্রতি তার সমর্থন পুরোপুরি প্রত্যাহার করেননি। তিনি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে শেষ পর্যন্ত সমর্থন করার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে নির্বাচনে আর কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেটিও তিনি বিবেচনায় রাখবেন।
আসল প্রশ্ন হলো, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কি নেতানিয়াহুর পক্ষে তার পূর্ণ রাজনৈতিক ওজন ঢেলে দেবেন? এমনকি সেই সমর্থনের প্রতীক হিসেবে কি তিনি জেরুজালেম সফর করবেন?
অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সফর ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রকাশ্য আলিঙ্গন এখনো রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করলেও, আগের মতো সেটি আর নিশ্চিত জয়ের তাস নয়।
তার পরও একে পুরোপুরি গুরুত্বহীন বলা ভুল হবে। বিশেষ করে ডানপন্থি ইসরায়েলি ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের সমর্থনের একটি আলাদা রাজনৈতিক মূল্য এখনো রয়েছে। তবে দুই নেতার প্রকাশ্য মতবিরোধ সেই সমীকরণকে আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল করে তুলেছে। এবারের নির্বাচনে বড় প্রশ্ন একটাই— ট্রাম্পের সেই সমর্থনের ধার কি এখন এতটাই কমে গেছে যে তা আর ভোটের ফলাফলে কোনো বড় পরিবর্তন আনতে পারবে না?
দুই নেতার বিরোধের বাইরে বাস্তবতা
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের এই টানাপোড়েন কেবল দুই প্রভাবশালী নেতার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের গল্প নয়। এর পেছনে রয়েছে গভীর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে মতপার্থক্য দেখা গেছে। তবে এবারের পরিস্থিতির পার্থক্য হলো, এই দুই নেতা ক্ষমতা ছাড়লেই যে দুই দেশের এই দূরত্ব স্বাভাবিক হয়ে যাবে— এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
বরং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক কম আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদার নিয়ে এখন এগোতে হচ্ছে ইসরায়েলকে। একই সঙ্গে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও দেশটির প্রতি সর্বজনীন রাজনৈতিক সমর্থন ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি অনেকটাই নির্ধারিত হবে এই মৌলিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে— সম্পর্কের এই অবনতির জন্য আসলে কে দায়ী এবং তা পুনর্গঠনের সক্ষমতা কার বেশি? নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় সত্যিই শেষের দিকে কি না, তার উত্তরও লুকিয়ে আছে এই নির্বাচনি হিসাব-নিকাশের ভেতরেই।
[যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউজে প্রকাশিত নিবন্ধের ভাবানুবাদ। নিবন্ধটি লিখেছেন প্রতিষ্ঠানটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো ক্সেনিয়া সোয়েতলোভা। তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা ‘রোপস’-এর নির্বাহী পরিচালক এবং ইসরায়েলের সাবেক সংসদ সদস্য। প্রায় ১৫ বছর ধরে ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ৯’-এ মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাংবাদিকতা করেছেন। পাশাপাশি তিনি জেরুজালেম পোস্ট, টাইমস অব ইসরায়েল, হারেৎজ এবং বিবিসি রাশিয়ানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত কলাম লিখে আসছেন। তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার ভূরাজনীতি ও প্রভাব]

ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট পদ ব্যবহার করে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। তাদের ভাষায়, এর মধ্য দিয়ে ‘নির্লজ্জ ক্রিপ্টো দুর্নীতি’ ও ‘অসীম লোভে’র দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
১৭ ঘণ্টা আগে
প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে আইজেনকট বলেন, 'ইসরায়েল একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার যোগ্য। আমরা সবাই মিলে সেই নতুন অধ্যায় লিখব।' তিনি আরো বলেন, আগামী অক্টোবরে গঠিত হতে যাওয়া সরকার যেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
১ দিন আগে
পাঞ্জাব রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খাজা ইমরান নাজির পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানান, ছাদ ধসের সময় মোট ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ছিল সেই কোচিং সেন্টারটিতে। ধসের জেরে সবাই কমবেশি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত বেশি আহত ২০ জন শিশুকে উদ্ধার করে খানা তহসিল হেডকোয়ার্টার (টিএইচকিউ) হাসপাতালে
১ দিন আগে