২ ফ্রন্টেই যুদ্ধ শেষ হবে, না হয় চলবে— হুঁশিয়ারি আরাগচির

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ফাইল ছবি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সমঝোতা আলোচনার চেষ্টা চলছে, সেখানেও প্রথম শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে— লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হয় এই যুদ্ধ ইরান এবং লেবানন দুই ফ্রন্টেই শেষ হবে, অথবা দুই জায়গাতেই চলতে থাকবে।

লেবাননের বৈরুতভিত্তিক স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল মায়াদিনে’র পরিচালক ঘাসান বিন জিদ্দো সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। গতকাল বুধবার (৩ জুন) বৈরুতের স্থানীয় সময় রাত ৯টা এবং তেহরান সময় সাড়ে ৯টায় এই সাক্ষাৎকারটি চ্যানেলটিতে সম্প্রচারিত হয়।

এই সাক্ষাৎকারে ইরান যুদ্ধ, ইসরায়েল-লেবানন সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান গভীর সংকট এবং মার্কিন আগ্রাসনসহ নানা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে অত্যন্ত খোলামেলা কথা বলেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটির বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো—

সংঘাতের সমীকরণে লেবানন ও ইরানের অবস্থান

প্রশ্ন (ঘাসান বিন জিদ্দো): সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন আবারও ইসরায়েলি হামলার মুখে পড়েছে। দক্ষিণ লেবাননের পাশাপাশি বৈরুত ও দাহিয়া এলাকাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

আব্বাস আরাগচি: প্রথমেই আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ। আল-মায়াদিনের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। লেবাননকে আমরা সবসময়ই বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে দেখি। আমরা কখনোই লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাইনি। অবশ্য বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের নিজস্ব মতামত রয়েছে এবং আমরা তা প্রকাশও করেছি। হিজবুল্লাহ লেবাননের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা সবসময় হিজবুল্লাহ এবং তাদের আদর্শিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছি, তবে কখনোই সরাসরি হস্তক্ষেপের পথে যাইনি।

তবে সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লেবাননকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের দৃষ্টিতে এই যুদ্ধ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে, এবং লেবানন এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এ কারণে আমরা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের পরিণতিকে লেবাননের পরিস্থিতি থেকে আলাদা মনে করি না। শুরু থেকেই যখন যুদ্ধবিরতি ও সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তখন আমাদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট— যুদ্ধের সমাপ্তি ও যুদ্ধবিরতি শুধু ইরানে নয়, লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই কার্যকর হতে হবে।

আমি যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে কথা বলি, তখনও স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে ‘সব ফ্রন্টে’ কথাটির সঙ্গে ‘বিশেষ করে লেবাননে’ বিষয়টিও উল্লেখ করা উচিত। পরে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সমঝোতা আলোচনার চেষ্টা চলছে, সেখানেও প্রথম শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে—লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে লেবাননও বড় মূল্য দিয়েছে। আমরা কখনোই লেবাননের জনগণকে ভুলব না, বিশেষ করে আমাদের সেই বন্ধুদের, যারা এই সংঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের দৃষ্টিতে, হয় যুদ্ধ দুই জায়গাতেই শেষ হবে, অথবা দুই জায়গাতেই চলতে থাকবে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রতিক্রিয়া

প্রশ্ন: ড. আরাগচি, গত দুই দিনে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসন থামিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

আব্বাস আরাগচি: গত দুই দিনে যুদ্ধ পরিস্থিতি থামাতে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে, তা হলো প্রতিরোধশক্তির ক্ষমতা— ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের সক্ষমতা। যখন বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন আমরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছিলাম। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য পালটা প্রতিক্রিয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়েছিল।

ইসরায়েল কয়েক দিন ধরেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছিল। কিন্তু বৈরুতে হামলা হতো একটি বড় ধরনের ও চূড়ান্ত লঙ্ঘন। আমরা মার্কিন পক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলাম, যদি বৈরুতে হামলা হয়, তাহলে আমরা তা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমাদের দৃষ্টিতে তখন যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে যাবে এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

আমি শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই বার্তা দিইনি; একই সঙ্গে অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও দ্রুত যোগাযোগ করেছি। সেই রাতে আমার টেলিফোন যোগাযোগের তালিকা দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আমি বিভিন্ন দেশকে পরিষ্কার জানিয়েছিলাম, ইসরায়েলের এই হঠকারী পদক্ষেপের কারণে যুদ্ধ আবারও পুরোদমে শুরু হতে পারে। এরপর আঞ্চলিক দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাপ প্রয়োগ করে। শেষ পর্যন্ত বৈরুতে হামলার পরিকল্পনা থেকে ইসরায়েল সরে আসতে বাধ্য হয়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সুতরাং, সিদ্ধান্ত নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরোধশক্তির সক্ষমতা। সেদিন আমরা অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলাম। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিবৃতি দেয়, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্টারাল হেডকোয়ার্টার্স বিবৃতি দেয় এবং আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও একই লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। এর ফলেই মূলত ইসরায়েল বৈরুতে হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যায়।

যেকোনো মুহূর্তে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান

প্রশ্ন: ড. আরাগচি, যদি ইসরায়েল আবার বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় হামলা চালায়, তাহলে কি আপনারা প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত?

আব্বাস আরাগচি: অবশ্যই। আমরা সবসময় প্রস্তুত। এটি প্রথমবারের মতো এমন পরিস্থিতি নয়। কয়েক সপ্তাহ আগেও আমরা একই অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলাম এবং তখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, হামলা হলে তারা সমানুপাতিক জবাব দেবে। সেই দৃঢ় অবস্থানের ফলেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছিল এবং বৈরুতে হামলা এড়ানো গিয়েছিল। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো মুহূর্তে তাদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে পর্দার আড়ালের যোগাযোগ

প্রশ্ন: বার্তা আদান-প্রদান ও আলোচনা কি এখনও চলছে, নাকি লেবাননের পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত হয়ে গেছে?

আব্বাস আরাগচি: আলোচনা অনেক সময় বাইরের বিভিন্ন ঘটনার প্রভাবে প্রভাবিত হতে পারে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না, তবে অনানুষ্ঠানিক বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, দুই রাত আগেও বৈরুতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমরা মার্কিন পক্ষের কাছে বার্তা পাঠিয়েছি। যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে গত কয়েক দিনে আলোচনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে উভয় পক্ষই বিদ্যমান কাঠামোগুলো পর্যালোচনা করছে। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ইরানের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং ইরান ও লেবাননে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে।

মার্কিন হিসাব-নিকাশের ভুল এবং ট্রাম্পের চাপ

প্রশ্ন: আমরা একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকের সঙ্গে নয়। তাই আমরা বিশ্লেষণ নয়, আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানতে চাই। আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে কী মনে করেন— কী কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন এবং বৈরুতে হামলা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন?

আব্বাস আরাগচি: আমি যা বলছি, তা বিশ্লেষণ নয়; বরং চরম বাস্তবতা। সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা খুব কাছ থেকে দেখেছে। যুদ্ধের আগে পশ্চিমা বিশ্বে ইরানকে দুর্বল মনে করার একটি কৃত্রিম ধারণা তৈরি হয়েছিল এবং সেই ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতেই তারা সংঘাতের পথে এগিয়েছিল। কিন্তু এই যুদ্ধে তারা তাদের সব সামর্থ্য ব্যবহার করেও কয়েক দিনের মধ্যে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুরুতেই ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে’র কথা বলেছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।

ইরানে সরকার পরিবর্তন হয়নি, কোনো গৃহযুদ্ধ শুরু হয়নি, এমনকি রাষ্ট্রীয় কাঠামোও ভেঙে পড়েনি। বরং দেশের সাধারণ জনগণ বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং রাষ্ট্রের সমর্থনে অভূতপূর্বভাবে রাস্তায় নেমেছিল। ফলে তাদের প্রায় সব হিসাব-নিকাশই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু তাতেও সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাদের সেই আলোচনার পথেই ফিরে আসতে হয়েছে। এই যুদ্ধ ইরানের প্রকৃত শক্তিকে সবার সামনে তুলে ধরেছে— যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অন্য সবার কাছেই।

আমরা সামরিক সক্ষমতা, জাতীয় ঐক্য এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইচ্ছাশক্তি—সব দিক থেকেই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখি। যুদ্ধ চলাকালেও আমরা আমাদের নিজস্ব সামরিক উৎপাদন পুরোদমে অব্যাহত রাখতে পেরেছি এবং সেটি থামাতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থাকা আর যুদ্ধ চাওয়া এক বিষয় নয়। আমরা কখনো যুদ্ধের পক্ষপাতী ছিলাম না। এই যুদ্ধও আমরা শুরু করিনি। এমনকি আলোচনার মধ্যেও আমাদের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা হয়েছে।

আমরা এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি চাই, তবে তা হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ শান্তি। যেকোনো আগ্রাসনের জবাব আমরা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে দেব। বারো দিনের যুদ্ধেও তারা এটি দেখেছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধেও দেখেছে। তারা ভেবেছিল আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করা যাবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই যদি যুক্তিবোধ ও বাস্তবতা প্রাধান্য পায়, তাহলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কোনো কারণ নেই।

হিজবুল্লাহ লেবাননের বাস্তবতার অবিচ্ছেদ্য অংশ

প্রশ্ন: ড. আরাগচি, আপনি কি লেবানন ইস্যুকে ইরানের ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করেছেন? কেউ কেউ বলছেন, শুরু থেকেই আপনারা শর্ত দিয়েছিলেন— লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হলে আলোচনা এগোবে না। আবার বলা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের অবসান ঘটাতে চান। পাশাপাশি তিনি লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মতো কোনো সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান কী?

আব্বাস আরাগচি: এই সংযোগ আমরা তৈরি করিনি, সংযোগটি তৈরি করেছে স্বয়ং ইসরায়েল। কারণ, আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাশাপাশি তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধও বিস্তৃত করেছে এবং লেবাননের ওপর বর্বরোচিত হামলা জোরদার করেছে। অতএব, এই দুই ফ্রন্টকে আমরা যুক্ত করিনি; করেছে ইসরায়েল। তবে যুদ্ধের সমাপ্তি কীভাবে হবে, সেটি তাদের হাতে নির্ধারিত হবে না। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট— এই যুদ্ধ তখনই শেষ হবে, যখন লেবাননের যুদ্ধও শেষ হবে। যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রেও আমাদের একই অবস্থান, এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের ক্ষেত্রেও তাই।

একই সঙ্গে বিশ্বকে এ বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে, হিজবুল্লাহ লেবাননের বাস্তবতারই একটি অংশ। এটি দেশটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। একে উপেক্ষা করা বা মুছে ফেলা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য নানা অপচেষ্টা হয়েছে। এমনকি হিজবুল্লাহর বিশিষ্ট নেতা হাসান নাসরুল্লাহকেও তারা হত্যা করেছে। কিন্তু তাতেও হিজবুল্লাহর আদর্শ বা কার্যক্রম বদলানো যায়নি; বরং তারা আরও শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে।

লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো দেশটির সব পক্ষের অংশগ্রহণে এবং অভ্যন্তরীণ সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত। আমরা লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করি না। তবে যখন যুদ্ধের প্রশ্ন আসে, তখন বিষয়টি ভিন্ন। কারণ এই যুদ্ধ ইসরায়েল লেবাননের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা যুদ্ধের অবসানকে তখনই সম্পূর্ণ বলে মনে করি, যখন লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটবে।

যুদ্ধোত্তর লেবানন পুনর্গঠনে পাশে থাকবে ইরান

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ইরান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আগ্রাসন ঠেকাতে চেষ্টা করবে। সে ক্ষেত্রে লেবাননের জনগণ, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের মানুষ কী আশা করতে পারে?

আব্বাস আরাগচি: প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। লেবাননে যুদ্ধের অবসান মানে অবশ্যই ইসরায়েলি দখলদারিত্বেরও অবসান। অর্থাৎ যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীকে দখলকৃত এলাকা থেকে সম্পূর্ণ সরে যেতে হবে, পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে হবে এবং লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর পুনর্গঠনের বিষয়টি সামনে আসবে। ইতোমধ্যে অনেক দেশ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে লেবাননের পুনর্গঠন কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের তীব্র আগ্রহ ও প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ইসরায়েল লেবাননে যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আরও দুঃখের বিষয় হলো, বহু আন্তর্জাতিক ফোরাম ও সংস্থা এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতে পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। তবে আমরা আশা করি, যুদ্ধ শেষে দ্রুত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইরানের জনগণ ও সরকার লেবাননের বন্ধুদের কখনো ভুলে যাবে না। যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশে আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবসময় দাঁড়িয়েছি। লেবাননের ক্ষেত্রেও আমরা যতটা পারি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

শহিদদের রক্তে প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হয়েছে

প্রশ্ন: ইসরায়েল ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে এর সাবেক মহাসচিব হাসান নাসরুল্লাহ-কে হত্যা করে। তারা মনে করেছিল হিজবুল্লাহ ভেঙে পড়বে। কিন্তু হিজবুল্লাহর শক্তি ফিরে আসা বা নাঈম কাসেম-এর নেতৃত্ব দেখে কি আপনি বিস্মিত হয়েছেন?

আব্বাস আরাগচি: না, আমি বিন্দুমাত্র বিস্মিত হইনি। আমি প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্তর্নিহিত শক্তিতে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি এবং বহুবার তা বলেছি। শহিদ কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুর পরও আমি বলেছিলাম, প্রতিরোধ কোনো ব্যক্তিনির্ভর বিষয় নয়। এটি একটি আদর্শ, একটি মহৎ লক্ষ্য। ব্যক্তিদের শাহাদাত বরং সেই আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রকৃতপক্ষে, শহিদদের পবিত্র রক্তের মাধ্যমেই প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, হাসান নাসরুল্লাহর রক্ত হিজবুল্লাহকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বাস্তবেও আমরা ঠিক তা-ই দেখেছি।

পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য বিষয়টি হয়তো চরম বিস্ময়কর ছিল। যেমন তারা ভেবেছিল, ইরানে সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু তা ঘটেনি। এটি অবশ্যই একটি বড় আঘাত ছিল, তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। আমরা আমাদের নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতাদের হত্যার ঘটনাকে কখনো ভুলব না, ক্ষমাও করব না। এগুলো সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ এবং এর আন্তর্জাতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশ্ন: নাঈম কাসেমের নেতৃত্ব গ্রহণে কি আপনি অবাক হয়েছেন?

আব্বাস আরাগচি: না। তবে আমি মনে করি, তিনি অনেকের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো এবং অত্যন্ত দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তিনি এই কঠিন সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রতি আমার গভীর ও আন্তরিক শ্রদ্ধা রয়েছে।

লেবানন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক

প্রশ্ন: এখন লেবানন প্রসঙ্গের আরেকটি কূটনৈতিক বিষয়ে আসি। লেবাননে আপনার দেশের রাষ্ট্রদূতকে ঘিরে যে বিষয়টি রয়েছে, সেটি কীভাবে সামলাবেন? এবং কীভাবে লেবানন সরকারের সঙ্গে আগের মতোই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবেন?

আব্বাস আরাগচি: রাষ্ট্রদূত মুজতবা আমানীকে ঘিরে যে বিষয়টি রয়েছে, সে প্রসঙ্গে বলব— লেবাননের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই এগিয়ে যাবে। আমরা কখনোই লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাইনি এবং চাই না। লেবাননে ইরানের দূতাবাস দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের কাঠামোর মধ্যেই দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে। আমাদের লক্ষ্য অতীতের মতোই লেবানন সরকারের সঙ্গে সম্মানজনক, ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সম্পর্ক বজায় রাখা।

সংঘাতের সমীকরণে লেবানন ও ইরানের অবস্থান

প্রশ্ন (ঘাসান বিন জিদ্দো): সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন আবারও ইসরায়েলি হামলার মুখে পড়েছে। দক্ষিণ লেবাননের পাশাপাশি বৈরুত ও দাহিয়া এলাকাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

আব্বাস আরাগচি: প্রথমেই আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ। আল-মায়াদিনের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। লেবাননকে আমরা সবসময়ই বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে দেখি। আমরা কখনোই লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাইনি। অবশ্য বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের নিজস্ব মতামত রয়েছে এবং আমরা তা প্রকাশও করেছি। হিজবুল্লাহ লেবাননের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা সবসময় হিজবুল্লাহ এবং তাদের আদর্শিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছি, তবে কখনোই সরাসরি হস্তক্ষেপের পথে যাইনি।

তবে সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লেবাননকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের দৃষ্টিতে এই যুদ্ধ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে, এবং লেবানন এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এ কারণে আমরা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের পরিণতিকে লেবাননের পরিস্থিতি থেকে আলাদা মনে করি না। শুরু থেকেই যখন যুদ্ধবিরতি ও সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তখন আমাদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট— যুদ্ধের সমাপ্তি ও যুদ্ধবিরতি শুধু ইরানে নয়, লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই কার্যকর হতে হবে।

আমি যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে কথা বলি, তখনও স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে ‘সব ফ্রন্টে’ কথাটির সঙ্গে ‘বিশেষ করে লেবাননে’ বিষয়টিও উল্লেখ করা উচিত। পরে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সমঝোতা আলোচনার চেষ্টা চলছে, সেখানেও প্রথম শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে—লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে লেবাননও বড় মূল্য দিয়েছে। আমরা কখনোই লেবাননের জনগণকে ভুলব না, বিশেষ করে আমাদের সেই বন্ধুদের, যারা এই সংঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের দৃষ্টিতে, হয় যুদ্ধ দুই জায়গাতেই শেষ হবে, অথবা দুই জায়গাতেই চলতে থাকবে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রতিক্রিয়া

প্রশ্ন: ড. আরাগচি, গত দুই দিনে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসন থামিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

আব্বাস আরাগচি: গত দুই দিনে যুদ্ধ পরিস্থিতি থামাতে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে, তা হলো প্রতিরোধশক্তির ক্ষমতা— ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের সক্ষমতা। যখন বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন আমরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছিলাম। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য পালটা প্রতিক্রিয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়েছিল।

ইসরায়েল কয়েক দিন ধরেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছিল। কিন্তু বৈরুতে হামলা হতো একটি বড় ধরনের ও চূড়ান্ত লঙ্ঘন। আমরা মার্কিন পক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলাম, যদি বৈরুতে হামলা হয়, তাহলে আমরা তা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমাদের দৃষ্টিতে তখন যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে যাবে এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

আমি শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই বার্তা দিইনি; একই সঙ্গে অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও দ্রুত যোগাযোগ করেছি। সেই রাতে আমার টেলিফোন যোগাযোগের তালিকা দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আমি বিভিন্ন দেশকে পরিষ্কার জানিয়েছিলাম, ইসরায়েলের এই হঠকারী পদক্ষেপের কারণে যুদ্ধ আবারও পুরোদমে শুরু হতে পারে। এরপর আঞ্চলিক দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাপ প্রয়োগ করে। শেষ পর্যন্ত বৈরুতে হামলার পরিকল্পনা থেকে ইসরায়েল সরে আসতে বাধ্য হয়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সুতরাং, সিদ্ধান্ত নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরোধশক্তির সক্ষমতা। সেদিন আমরা অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলাম। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিবৃতি দেয়, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্টারাল হেডকোয়ার্টার্স বিবৃতি দেয় এবং আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও একই লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। এর ফলেই মূলত ইসরায়েল বৈরুতে হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যায়।

যেকোনো মুহূর্তে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান

প্রশ্ন: ড. আরাগচি, যদি ইসরায়েল আবার বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় হামলা চালায়, তাহলে কি আপনারা প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত?

আব্বাস আরাগচি: অবশ্যই। আমরা সবসময় প্রস্তুত। এটি প্রথমবারের মতো এমন পরিস্থিতি নয়। কয়েক সপ্তাহ আগেও আমরা একই অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলাম এবং তখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, হামলা হলে তারা সমানুপাতিক জবাব দেবে। সেই দৃঢ় অবস্থানের ফলেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছিল এবং বৈরুতে হামলা এড়ানো গিয়েছিল। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো মুহূর্তে তাদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে পর্দার আড়ালের যোগাযোগ

প্রশ্ন: বার্তা আদান-প্রদান ও আলোচনা কি এখনও চলছে, নাকি লেবাননের পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত হয়ে গেছে?

আব্বাস আরাগচি: আলোচনা অনেক সময় বাইরের বিভিন্ন ঘটনার প্রভাবে প্রভাবিত হতে পারে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না, তবে অনানুষ্ঠানিক বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, দুই রাত আগেও বৈরুতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমরা মার্কিন পক্ষের কাছে বার্তা পাঠিয়েছি। যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে গত কয়েক দিনে আলোচনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে উভয় পক্ষই বিদ্যমান কাঠামোগুলো পর্যালোচনা করছে। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ইরানের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং ইরান ও লেবাননে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে।

মার্কিন হিসাব-নিকাশের ভুল এবং ট্রাম্পের চাপ

প্রশ্ন: আমরা একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকের সঙ্গে নয়। তাই আমরা বিশ্লেষণ নয়, আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানতে চাই। আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে কী মনে করেন— কী কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন এবং বৈরুতে হামলা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন?

আব্বাস আরাগচি: আমি যা বলছি, তা বিশ্লেষণ নয়; বরং চরম বাস্তবতা। সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা খুব কাছ থেকে দেখেছে। যুদ্ধের আগে পশ্চিমা বিশ্বে ইরানকে দুর্বল মনে করার একটি কৃত্রিম ধারণা তৈরি হয়েছিল এবং সেই ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতেই তারা সংঘাতের পথে এগিয়েছিল। কিন্তু এই যুদ্ধে তারা তাদের সব সামর্থ্য ব্যবহার করেও কয়েক দিনের মধ্যে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুরুতেই ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে’র কথা বলেছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।

ইরানে সরকার পরিবর্তন হয়নি, কোনো গৃহযুদ্ধ শুরু হয়নি, এমনকি রাষ্ট্রীয় কাঠামোও ভেঙে পড়েনি। বরং দেশের সাধারণ জনগণ বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং রাষ্ট্রের সমর্থনে অভূতপূর্বভাবে রাস্তায় নেমেছিল। ফলে তাদের প্রায় সব হিসাব-নিকাশই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু তাতেও সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাদের সেই আলোচনার পথেই ফিরে আসতে হয়েছে। এই যুদ্ধ ইরানের প্রকৃত শক্তিকে সবার সামনে তুলে ধরেছে— যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অন্য সবার কাছেই।

আমরা সামরিক সক্ষমতা, জাতীয় ঐক্য এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইচ্ছাশক্তি—সব দিক থেকেই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখি। যুদ্ধ চলাকালেও আমরা আমাদের নিজস্ব সামরিক উৎপাদন পুরোদমে অব্যাহত রাখতে পেরেছি এবং সেটি থামাতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থাকা আর যুদ্ধ চাওয়া এক বিষয় নয়। আমরা কখনো যুদ্ধের পক্ষপাতী ছিলাম না। এই যুদ্ধও আমরা শুরু করিনি। এমনকি আলোচনার মধ্যেও আমাদের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা হয়েছে।

আমরা এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি চাই, তবে তা হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ শান্তি। যেকোনো আগ্রাসনের জবাব আমরা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে দেব। বারো দিনের যুদ্ধেও তারা এটি দেখেছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধেও দেখেছে। তারা ভেবেছিল আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করা যাবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই যদি যুক্তিবোধ ও বাস্তবতা প্রাধান্য পায়, তাহলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কোনো কারণ নেই।

হিজবুল্লাহ লেবাননের বাস্তবতার অবিচ্ছেদ্য অংশ

প্রশ্ন: ড. আরাগচি, আপনি কি লেবানন ইস্যুকে ইরানের ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করেছেন? কেউ কেউ বলছেন, শুরু থেকেই আপনারা শর্ত দিয়েছিলেন— লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হলে আলোচনা এগোবে না। আবার বলা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের অবসান ঘটাতে চান। পাশাপাশি তিনি লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মতো কোনো সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান কী?

আব্বাস আরাগচি: এই সংযোগ আমরা তৈরি করিনি, সংযোগটি তৈরি করেছে স্বয়ং ইসরায়েল। কারণ, আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাশাপাশি তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধও বিস্তৃত করেছে এবং লেবাননের ওপর বর্বরোচিত হামলা জোরদার করেছে। অতএব, এই দুই ফ্রন্টকে আমরা যুক্ত করিনি; করেছে ইসরায়েল। তবে যুদ্ধের সমাপ্তি কীভাবে হবে, সেটি তাদের হাতে নির্ধারিত হবে না। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট— এই যুদ্ধ তখনই শেষ হবে, যখন লেবাননের যুদ্ধও শেষ হবে। যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রেও আমাদের একই অবস্থান, এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের ক্ষেত্রেও তাই।

একই সঙ্গে বিশ্বকে এ বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে, হিজবুল্লাহ লেবাননের বাস্তবতারই একটি অংশ। এটি দেশটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। একে উপেক্ষা করা বা মুছে ফেলা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য নানা অপচেষ্টা হয়েছে। এমনকি হিজবুল্লাহর বিশিষ্ট নেতা হাসান নাসরুল্লাহকেও তারা হত্যা করেছে। কিন্তু তাতেও হিজবুল্লাহর আদর্শ বা কার্যক্রম বদলানো যায়নি; বরং তারা আরও শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে।

লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো দেশটির সব পক্ষের অংশগ্রহণে এবং অভ্যন্তরীণ সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত। আমরা লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করি না। তবে যখন যুদ্ধের প্রশ্ন আসে, তখন বিষয়টি ভিন্ন। কারণ এই যুদ্ধ ইসরায়েল লেবাননের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা যুদ্ধের অবসানকে তখনই সম্পূর্ণ বলে মনে করি, যখন লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটবে।

যুদ্ধোত্তর লেবানন পুনর্গঠনে পাশে থাকবে ইরান

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ইরান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আগ্রাসন ঠেকাতে চেষ্টা করবে। সে ক্ষেত্রে লেবাননের জনগণ, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের মানুষ কী আশা করতে পারে?

আব্বাস আরাগচি: প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। লেবাননে যুদ্ধের অবসান মানে অবশ্যই ইসরায়েলি দখলদারিত্বেরও অবসান। অর্থাৎ যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীকে দখলকৃত এলাকা থেকে সম্পূর্ণ সরে যেতে হবে, পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে হবে এবং লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর পুনর্গঠনের বিষয়টি সামনে আসবে। ইতোমধ্যে অনেক দেশ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে লেবাননের পুনর্গঠন কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের তীব্র আগ্রহ ও প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ইসরায়েল লেবাননে যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আরও দুঃখের বিষয় হলো, বহু আন্তর্জাতিক ফোরাম ও সংস্থা এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতে পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। তবে আমরা আশা করি, যুদ্ধ শেষে দ্রুত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইরানের জনগণ ও সরকার লেবাননের বন্ধুদের কখনো ভুলে যাবে না। যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশে আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবসময় দাঁড়িয়েছি। লেবাননের ক্ষেত্রেও আমরা যতটা পারি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

শহিদদের রক্তে প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হয়েছে

প্রশ্ন: ইসরায়েল ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে এর সাবেক মহাসচিব হাসান নাসরুল্লাহ-কে হত্যা করে। তারা মনে করেছিল হিজবুল্লাহ ভেঙে পড়বে। কিন্তু হিজবুল্লাহর শক্তি ফিরে আসা বা নাঈম কাসেম-এর নেতৃত্ব দেখে কি আপনি বিস্মিত হয়েছেন?

আব্বাস আরাগচি: না, আমি বিন্দুমাত্র বিস্মিত হইনি। আমি প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্তর্নিহিত শক্তিতে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি এবং বহুবার তা বলেছি। শহিদ কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুর পরও আমি বলেছিলাম, প্রতিরোধ কোনো ব্যক্তিনির্ভর বিষয় নয়। এটি একটি আদর্শ, একটি মহৎ লক্ষ্য। ব্যক্তিদের শাহাদাত বরং সেই আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রকৃতপক্ষে, শহিদদের পবিত্র রক্তের মাধ্যমেই প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, হাসান নাসরুল্লাহর রক্ত হিজবুল্লাহকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বাস্তবেও আমরা ঠিক তা-ই দেখেছি।

পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য বিষয়টি হয়তো চরম বিস্ময়কর ছিল। যেমন তারা ভেবেছিল, ইরানে সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু তা ঘটেনি। এটি অবশ্যই একটি বড় আঘাত ছিল, তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। আমরা আমাদের নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতাদের হত্যার ঘটনাকে কখনো ভুলব না, ক্ষমাও করব না। এগুলো সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ এবং এর আন্তর্জাতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশ্ন: নাঈম কাসেমের নেতৃত্ব গ্রহণে কি আপনি অবাক হয়েছেন?

আব্বাস আরাগচি: না। তবে আমি মনে করি, তিনি অনেকের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো এবং অত্যন্ত দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তিনি এই কঠিন সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রতি আমার গভীর ও আন্তরিক শ্রদ্ধা রয়েছে।

লেবানন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক

প্রশ্ন: এখন লেবানন প্রসঙ্গের আরেকটি কূটনৈতিক বিষয়ে আসি। লেবাননে আপনার দেশের রাষ্ট্রদূতকে ঘিরে যে বিষয়টি রয়েছে, সেটি কীভাবে সামলাবেন? এবং কীভাবে লেবানন সরকারের সঙ্গে আগের মতোই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবেন?

আব্বাস আরাগচি: রাষ্ট্রদূত মুজতবা আমানীকে ঘিরে যে বিষয়টি রয়েছে, সে প্রসঙ্গে বলব— লেবাননের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই এগিয়ে যাবে। আমরা কখনোই লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাইনি এবং চাই না। লেবাননে ইরানের দূতাবাস দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের কাঠামোর মধ্যেই দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে। আমাদের লক্ষ্য অতীতের মতোই লেবানন সরকারের সঙ্গে সম্মানজনক, ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সম্পর্ক বজায় রাখা।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

অবৈধ বসতি বিতর্ক: ভারতের অরুণাচলে ‘অননুমোদিত’ ১৫টি মসজিদ সিলগালা

অবৈধ বসতি স্থাপন এবং জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তনের (ডেমোগ্রাফিক চেইঞ্জ) বিষয়ে স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলোর চাপের মুখে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সরকার। রাজ্যের ইটানগর ক্যাপিটাল রিজিয়ন (আইসিআর) এলাকায় চিহ্নিত ১৫টি ‘অননুমোদিত’ মসজিদ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

৪ ঘণ্টা আগে

১৯৬১ সালের তুলনায় ৬ গুণ বেশি মুরগির মাংস খাচ্ছে মানুষ

জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬০ বছরে বিশ্বব্যাপী মাংসের সরবরাহ চার গুণ বেড়েছে এবং এই বৃদ্ধির ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৫ ঘণ্টা আগে

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পেতে কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পেতে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

৭ ঘণ্টা আগে

শ্রীলঙ্কায় বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ আগুন, ১২ জনের করুণ মৃত্যু

শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি অনিবন্ধিত বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৃদ্ধাশ্রমটি রাজধানী কলম্বো থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে আঙ্গুরুওয়াতোতা শহরে অবস্থিত।

৮ ঘণ্টা আগে